জনঅংশগ্রহণমূলক জেলা বাজেট প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি—সুপ্র ও দর্পণ এর যৌথ উদ্যোগে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বক্তাগন

মোঃ শাকিল মোল্লা :–

‘চলতি অর্থবছরে সরকার ৭টি জেলার (টাঙ্গাইল, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর) জন্য জেলা বাজেট ঘোষণা করেছে। কিন্তু ঘোষিত জেলা বাজেট শুধু ব্যয়ের খতিয়ান মাত্র যেখানে আয়ের কোন সুস্পস্ট বর্ণনা নেই। আমরা মনে করি, কাঠামোগত সংস্কার ব্যতিরেকে প্রণীত এ ধরনের জেলা বাজেটে কেবলমাত্র উক্ত জেলার ব্যয়ের একটি খতিয়ানই পাওয়া সম্ভব, কিন্তু তৃণমূল তথা সমগ্র জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন সম্ভবপর নয়। জাতীয় বাজেটের গুণগত বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য তাই জনঅংশগ্রহণমূলক জেলা বাজেট প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি’। গত ২৯ মার্চ সুশাসনের জন্য সুপ্র ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা দর্পণ সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে দর্পণ এর অপরাজিতা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তাগন একথাগুলি বলেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজ সেবা কার্যালয় এর উপপরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল, বিশিষ্ট নারী নেত্রী পাপড়ী বোস। সভাপতিত্ব করেন সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান সুপ্র কুমিল্লা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট সৈয়দ নুরুর রহমান।
সভায় স্বাগত বক্তব্য ও মাল্টিমিডিয়া পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান সুপ্র কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক ও দর্পণ সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মোঃ মাহবুব মোর্শেদ।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- পিডস এর নির্বাহী পরিচালক ইকরাম আহম্মেদ রানা, কবি ও সংগঠক ফকরুল হুদা হেলাল,সদর দক্ষিণ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ যুন্ম আহবায়ক হোসনেয়ারা আজম, সাপ্তাহিক মনোহরগঞ্জ বার্তা সম্পাদক নঈম আজাদ, রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবদুল হান্নান, গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা (গাস) এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার,কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাউছারা বেগম সুমি, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ১৩, ১৪, ১৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরজাহান আলম পুতুল, বিজয় টিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি মোঃ শাকিল মোল্লা, ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক জামাল উদ্দিন দামাল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ওয়ালিজা আক্তার ও তাছলিমা রীমা এবং ছাত্র আবুল কালাম ও আবদুল হান্নান প্রমুখ।
সভায় বক্তাগন বলেন, কুমিল্লা বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কুমিল্লাকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা অবিলম্বে এ ঘোষনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। এছাড়া সভায় যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয় সেগুলো হলো: অবিলম্বে কুমিল্লা এয়ারপোর্ট চালু করতে হবে; আগামী অর্থ বছরের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারলেনের কাজ সম্পন্ন এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের প্রশস্ততা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করতে হবে; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ দিয়ে ঢাকা-কুমিল্লা রেলপথ নির্মাণ করতে হবে; শহরের যানজট নিরসনে রাস্তা-ঘাট প্রশস্ত করা এবং কুমিল্লা শহরকে একটি আধুনিক মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে; শাসনগাছা রেলগেটে শুধু ফ্লাই ওভার নির্মাণ করলেই যানজট নিরসন হবে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তা-ঘাট প্রশ্বস্ত করতে হবে; গোমতী নদীর নাব্যতা রক্ষায় পুনঃ খনন করতে হবে। পুরাতন গোমতীকে দখল মুক্ত করেত হবে। পুরাতন গোমতীকে দখল মুক্ত করে ঢাকার হাতিরঝিলের মত সৌন্দর্য্য বর্ধন করা যেতে পারে; ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করতে হবে; কুমিল্লা স্টেডিয়ামকে আরো প্রশস্ত ও আধুনিক ষ্টেডিয়ামে রুপান্তরিত করতে হবে; জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান সমূহ পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষনীয় করে তুলতে বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে এবং পর্যটন মন্ত্রনালয় কর্তৃক একটি আধুনিক মোটেল নির্মাণ করতে হবে; একটি আধুনিক শিশু পার্ক স্থাপন করতে হবে; কুমিল্লা জেলায় হিমাগার স্বল্পতার কারণে কৃষকগন তাদের কৃিষপন্য সংরক্ষণ করতে পারে না। এর ফলে তারা লোকসানের শিকার হচ্ছে। এজন্য কৃষকের স্বার্থ রক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হিমাগার প্রতিষ্ঠা করতে হবে; কুমিল্লায় মুক্তিযুদ্ধের কোন কেন্দ্রীয় স্মৃতি সৌধ নেই। এজন্য অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করতে হবে; মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন এবং বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে কুমিল্লা বাসীর গৌরবজ্জ্বল ভুমিকা চির স্মরণীয় করে রাখতে ও নতুন প্রজম্মকে তা জানাতে কুমিল্লার এতিহ্য-ইতিহাস-কৃষ্টি-সংস্কৃতি বিষয়ক একটি জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবেএবং দরিদ্র জনগনের চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করতে অবিলম্বে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ/ সিসিইউ ইউনিট চালু করতে হবে। অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন দর্পণের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মোঃ আবুল হাসেম এবং ডিস্ট্রিক ক্যাম্পেইন ফ্যাসিলেটেটর সালমা আক্তার চৈতী।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...