স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে– রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এমপি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি :–
‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের প্ররোচনায় বারবার আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে মুক্তিযোদ্ধা ও ইতিহাসবিদদের বস্তুনিষ্ঠ, সঠিক, তথ্যবহুল ইতিহাস প্রণয়ন করতে হবে।’ দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত “বীরের কন্ঠে বীর কাহিনী” ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ কর্তৃক উপস্থাপিত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্মৃতিচারন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যদানকালে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য রাজি মোহাম¥দ ফখরুল ওই বক্তব্য তুলে ধরেন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০১৫’ উদযাপন উপলক্ষ্যে রোবার দুপুরে দেবিদ্বার আলহাজ্ব জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ কর্তৃক উপস্থাপিত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্মৃতিচারন’- “বীরের কন্ঠে বীর কাহিনী” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম। দেবিদ্বার আলহাজ্ব জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ মাসুদ পাখী’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য রাজি মোহাম¥দ ফখরুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আ’লীগ দেবিদ্বার উপজেলা সভাপতি আলহাজ্ব জয়নুল আবেদীন, “বীরের কন্ঠে বীর কাহিনী” তুলে ধরেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সামাদ। এসময় কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন।
উপজেলা প্রশাসনের এ মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক অনিল ঠাকুর বলেন, যেহেতু অনুষ্ঠনটি বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ কর্তৃক উপস্থাপিত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্মৃতিচারন অনুষ্ঠানমূলক, সেহেতু এ অনুষ্ঠানটি চুপিসারে না করে, আরো কয়েকজন উল্লেখযোগ্য মুক্তিযোদ্ধাকে আমন্ত্রন জানিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়িয়ে অনুষ্ঠানটি করলে আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধে দেবিদ্বারের সঠিক ইতিহাসটি জানার সুযোগ পেত। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ এলাকার মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে, যুদ্ধকালীন সময়ে প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য বর্তমানে একমাত্র জীবিত সদস্য ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ’র বাড়িতে এবং ফতেহাবাদ গ্রামের ‘নলআরা’য় অস্থায়ি মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছিল। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই অর্থাৎ স্বাধীনতা ঘোষনার মাত্র ৫দিনের মাথায় ৩১মার্চ ‘দেবিদ্বার ভিংলাবাড়ি-জাফরগঞ্জ শ্রীপুরপাড় জামে মসজিদ যুদ্ধে’ দেবিদ্বার থানার অস্ত্রাগার লুন্ঠন করে সেই অস্ত্র এবং মরিচের গুড়া নামক বঙ্গজ হাতিয়ার নিয়ে যুদ্ধ করে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত ১৪ জন পাক সেনার দলকে পরাস্ত করে ৩৩ বাঙ্গালীর আত্মাহুতিতে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল, ৭১’র ১৪ এপ্রিল কমরেড আব্দুল হাফেজের নেতৃত্বে পাক হানাদারদের সাথে ‘বরকামতা যুদ্ধ’, দেবিদ্বার সদরে গণকবর, ভানী যুদ্ধসহ দেবিদ্বারে অনেক স্মৃতি ও স্মারক জড়িয়ে আছে। তাছাড়া যুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ, ন্যাপ- কমিউিনিস্ট পার্টি- ছাত্র ইউনিয়ন গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কমরেড আব্দুল হাফেজ এবং ভারতের পালাটোনায় প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প প্রধান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সুজাত আলীসহ বেশ ক’জন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের বাড়ী এ উপজেলায়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...