নাঙ্গলকোটে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে ২ হাজার ফাইল গায়েব

 

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, নাঙ্গলকোট :–
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ নাঙ্গলকোট কার্যালয় হতে ২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ ও লাইন নির্মানের আবেদন ফাইল গায়েব হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ গ্রাহক ও এলাকাবাসীর মাঝে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে বিদ্যুৎতের মিটার আবেদনকারী ১৫-২০ জন গ্রাহক অফিসে এসে তাদের করা আবেদনের ফাইল খোঁজ করেন। কিন্তু অফিসের কোথাও তাদের ফাইলগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় কয়েকজন বিদ্যুৎবিদ ফাইল না পাওয়া গ্রাহকদের নিকট জানায় তাদেরকে টাকা দিলে ফাইলগুলো বের করে দিতে পারবে। তা জেনে উপজেলার মাহিনী গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান ইরানীর ছোট ভাই নুরু বিদ্যুৎবিদ সবুজকে ৫শত টাকা দিয়ে একটি ফাইল উদ্ধার করে নেয়। এ বিষয়টি গ্রাহকদের মাঝে জানাজানি হলে তারা ফাইল গায়েবের সাথে বিদ্যুৎবদগণ জড়িত থাকার সন্দেহ করেন। এ ঘটনায় তারা (গ্রাহকগণ) স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানায়। তাদের পরামর্শে বেশকিছু গ্রাহক অফিসে জড়ো হয় এবং অফিস ছুটির পর বাড়ী ফেরার পূর্ব সময়ে বিদ্যুৎবিদদের আটক করে তাদের ব্যক্তিগত ব্যাগ তল্লাশি করে। এসময় বিদ্যুৎবিদ ফরহাদের ব্যাগ থেকে ৪৬টি ফাইল, সবুজের ব্যাগ থেকে ৩০টি ফাইল, রাজা মিয়ার ব্যাগ থেকে ২৬টি ফাইল ও কালামের ব্যাগ থেকে ৫২টি ফাইল উদ্ধার করা হয়। পরে এ বিষয়টি নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ নাঙ্গলকোট এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এটিএম মেজবাহ উদ্দিনের কার্যালয়ে উপজেলার মৌকারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের, স্থানীয় আলীগ নেতা তৌহিদুর রহমান মজুমদার, সমিতির পরিচালক ইব্রাহিম মজুমদার ও কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত বিদ্যুৎবিদদের নিয়ে একটি শালিসে মিলিত হয়। শালিসে এফাইলগুলো বিদ্যুৎবিদদের কাছে কোথা থেকে এলো জানতে চাইলে তারা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফাইলগুলোর কাজ স¤পাদন করতে তাদেরকে দিয়েছেন বলে জানায়। এরপর ওই শালিসে সকল বিদ্যুৎবিদদের নিকট থাকা ফাইলগুলো ২ দিনের মধ্যে অফিসে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। কিন্তু গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) পর্যন্ত সকল ফাইল অফিসে জমা পড়েনি।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই কার্যালয়ের পরিদর্শক আমান উল্লাহ বিদ্যুৎবিদদের নিকট ৩শত টাকা হারে ঘুষ গ্রহন করে গোপনে ফাইলগুলো দিয়ে দেয়। গ্রাহকরা তাদের ফাইলের সন্ধানে অফিসে এলে তাদের ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। পরে বিদ্যুৎবিদরা ফাইলের খোঁজে আসা গ্রাহকের সাথে দেখা করে পাঁচশত টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা নিয়ে ফাইল গ্রাহকদের অথবা পরিদর্শক আমানের নিকট জমা দেন। তারপর পর্যায়ক্রমে আরো ঘুষ আদায় করে গ্রাহকদের বৈদ্যুতিক লাইন নির্মান বা মিটার সংযোগ দেওয়া হয়। এভাবেই পরিদর্শক আমান ও বিদ্যুৎবিদদের মাঝে চলে রমরমা ঘুষ বানিজ্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির পরিচালক ইব্রাহিম মজুমদার কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ নাঙ্গলকোট অফিস থেকে ফাইল গায়েবের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যুৎবিদদের নিকট থাকা ফাইলগুলো অফিসে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছিল। তবে তারা জমা দিয়েছে কিনা জানি না।
একই বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের ও স্থানীয় আলীগ নেতা তৌহিদুর রহমান মজুমদারও কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ নাঙ্গলকোট অফিস থেকে ফাইল গায়েবের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ নাঙ্গলকোট এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এটিএম মেজবাহ উদ্দিন বলেন, হ্যাঁ পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে কিছু ফাইল (২০১২-১৩ সালের) বাদ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ফাইলগুলো থাকে ইন্সপেক্টরের অধীনে, তথ্য সংগ্রহ করতে সেগুলো বিদ্যুৎবিদদের তিনি দিয়েছেন। আবার তাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে। কোন গ্রাহকের আবেদন না পাওয়া গেলে বা ভুল হলে, সেক্ষেত্রে আমরা আবেদনের রশিদ সংগ্রহ করে কাজ করে নেই। পরিদর্শক ও বিদ্যুৎবিদরা অবৈধ লেনদেন করে ফাইল গায়েব করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যদি পাই তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...