তিতাসে ভন্ড পীরের কাণ্ড!পরিবারের সকলকে অজ্ঞান করে মালামাল লুট

নাজমুল করিম ফারুক, বিশেষ প্রতিনিধি :–
কুমিল্লার তিতাসে এক ভণ্ডপীরের কর্মকাণ্ডে নিঃশ্ব হলেন প্রবাসী পরিবার। উপজেলার সরস্বতীরচর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী কাদের প্রধানের বাড়ির ৪টি পরিবারের ১২ জনকে বাতাসা (মিষ্টি) খাইয়ে অজ্ঞান করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকাসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে উধাও হয়। ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে ঘটলেও বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন আহতের তিতাস হাসপাতালে ভর্তি করলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে মাওলানা হাকিম পীর নামে এক ভণ্ডপীর উপজেলার সরস্বতীরচর সিঙ্গাপুর প্রবাসী কাদের প্রধানের বাড়িতে আসে। এসময় বাড়ির লোকজন তার কথাবার্তা শুনে বাসায় তাকে রাত যাপনের অনুরোধ করেন। ভণ্ডপীর ওই বাড়ির ৪টি পরিবারের ১২ জনকে রোগবালাই দূর করার জন্য সবাইকে বাতাসা (মিষ্টি) খেতে বলেন। সবাই ভণ্ডপীরের কথা বিশ্বাস করে বাতাসা খান। ভণ্ডপীরের বাতাসা খেয়ে সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ সুযোগে ভণ্ডপীর ৪টি ঘর থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা, মোবাইল সেট এবং প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও হয়ে যায়। বুধবার সকালে বাড়ির লোকজন কেউ ঘুম থেকে না ওঠলে প্রতিবেশীরা বাড়ির লোকজনকে ডাকাডাকি করে। এ সময় বাড়ির কেউ কোনো কথা না বললে পরে আশপাশের লোকজন এসে দরজা খুলে অজ্ঞান অবস্থায় তাদের তিতাস উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। বুধবার দুপুরে আবুল হোসেন, কাদের, মালেক মিয়া ও আলিমসহ ৪ জন সুস্থ হলেও বাকিদের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চিকিৎসা দেয়া হয়। তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ দেব প্রসাদ বলেন, একজন ব্যতিত সকলে পুরোপুরি সুস্থ্য আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিববার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বাতাসা’র সঙ্গে এক ধরনের অজ্ঞান করার ওষুধ মিশিয়ে তাদের অসুস্থ করে। সবাই সুস্থ হতে একটু সময় লাগবে। তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক আবদুল হান্নান বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা চালনো হয়েছে। তারপরও ওই প্রবাসীর বাড়িতে যা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...