কুমিল্লায় আর্সেনিকের বিষে ধুঁকছে ১০ হাজার মানুষ

 

মো. আলাউদ্দিন, কুমিল্লা :–
কুমিল্লার ১৬ উপজেলায় সরকারি হিসেবে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯৯৭ জন মানুষ দেহে বয়ে বেড়াচ্ছেন আর্সেনিকের বিষ। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসেব মতে এ সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি বলে জানা গেছে।
নীরব এ ঘাতক প্রতিরোধে কুমিল্লায় নেই কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা। আর্সেনিকের ভয়াবহতার হার বেশি জেলার মুরাগনগর, চান্দিনা ও লাকসাম উপজেলায়। এছাড়া পুরুষের তুলনায় নারীরাই আর্সিনিকের প্রভাবে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মোতাবেক সরকারি হিসেবে, মনোহরগঞ্জে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৮০ জন, লাকসামে ৫৬২, হোমনায় ৪৮, দাউদকান্দিতে ২২৮, মুরাদনগরে ৭২৪, দেবিদ্বারে ১২০, চান্দিনায় ৫৯৬, বরুড়ায় ৩২, চৌদ্দগ্রামে ১৩, নাঙ্গলকোটে ৯১ ও তিতাসে ৩৫ জন।
কুমিল্লার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হলদিয়া মহিলা উন্নয়ন সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী আবু তাহের রনি জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত। যতদিন প্রকল্প ছিল, ততদিন রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। লাকসামের চরবাড়িয়া গ্রামের ফারুক আহমেদ নামে এক রোগী জানান, আগে এনজিও থেকে ওষুধ দিত। এখন তারা আসছেন না। তাই রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা. মো. সালাউদ্দিন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। রোগীরা এলে তাদের সরবরাহ করা হবে। কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, এ রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার চেয়ে আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করা বেশি জরুরি। এ বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে মাঠপর্যায়ে আমাদের কর্মীরা কাজ করছেন। শনাক্ত রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো থেকে জরুরি সেবা দেওয়া হচ্ছে।
একাধিক চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ রোগে আক্রান্তদের হাত ও পায়ের তালুতে কালো দাগ দেখা যায়। একপর্যায়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া ব্রংকাইটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফুসফুস, কিডনি, লিভারের সমস্যাও দেখা দেয়। আর্সেনিকের ভয়াবহতা এতটাই যে, আক্রান্ত মানুষ দীর্ঘদিন ভুগে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...