কুমিল্লায় ৩ জনের ফাঁসি : ৫ জনের যাবজ্জীবন

কুমিল্লা প্রতিনিধি :–

প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেন (৩৫)কে খুন করার ১৪ বছর পর ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন কুমিল্লার একটি আদালত। কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক চমন চৌধুরী মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জেলার আদর্শ সদর উপজেলার যশপুর গ্রামের মৃত. আলী নেওয়াজের ছেলে মো. আবু তাহের (৫০), মো. নোয়াব আলীর ছেলে মো. আবদুস ছালাম ওরফে লিটন (৩০) ও মৃত. মনোহর আলীর ছেলে জহিরুল ইসলাম জহির (৪২)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আদর্শ সদর উপজেলার যশপুর গ্রামের মো. বাহার ওরফে রোজেন (৩১), মো. মিজানুর রহমান, নগরীর ভাটপাড়া এলাকার মো. আরিফুজ্জামান ওরফে ইমন (৩৫) ও আদর্শ সদর উপজেলার সীমন্তপুর গ্রামের মো. আবদুল মান্নান। এরা সবাই পলাতক রয়েছে।

মামলার বাদী হারুন মিয়া এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায়ের শিগগিরই বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০০ সালের পয়লা অক্টোবর রাতে ১২-১৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার যশপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতি করে। এ সময় বাধা দিলে বাড়ির মালিক তোফাজ্জল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনার পরদিন (২ অক্টোবর) তোফাজ্জল হোসেনের চাচাতো ভাই মো. হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১২-১৩ জনকে আসামি করে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর একই গ্রামের মো. নোয়াব আলীর ছেলে মো. আবু ছালাম ওরফে লিটনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জহিরুল ইসলাম। পরে এসআই জহির এ ঘটনার সাথে লিটন জড়িত নেই বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। বাদী ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাহজ দিলে আদালত মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডি কুমিল্লাতে প্রেরণ করেন।

পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক মো. সিরাজুল হক ২০-২৫ জনের নাম উল্লেখ করে ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় ১৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং অপর ৫ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্তি পিপি এ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন- এ্যাডভোকেট ফারুক আহম্মেদ ও এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...