নবীনগর সহ সারাদেশে বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির মাছ

সাধন সাহা জয়: নবীনগর প্রতিনিধি :–

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর হাওড় বাওড় অসংখ্য নদ নদী বেষ্ঠিত উপজেলা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হতে প্রায় ৩৫ কি.মি. পশ্চিমে অবস্থিত এই নবীনগর উপজেলা। এখানে রয়েছে অসংখ্য নদ,নদী ,খাল, বিল, পুকুর, ডোবা ও জলাশয়, এসব জলাশয় থেকে ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

এক সময় উক্ত জলাশয় গুলোতে দুই –আড়াইশ প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে প্রায় ২০-৩০ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়।

দেশীয় প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারন নদ-নদী গুলোর হ্রাস,খাল-বিল বরাট কওে রাস্তাঘাট ও বসত-বাড়ীঘর নির্মান এবং মাছের আশ্রমের পার্শবর্তী জমিতে কীটনাশকের ব্যাবহার , অপরিকল্পিত ভাব নির্মান কওে মাছ চলাচলে বাধা সৃষ্টি, পানি নিস্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন , ডিমওয়ালা নিধন বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন ,কারেন্ট জাল ও নেট জালের ব্যবহার নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার ইত্যাদি এছাড়া জেলেরা জাল দিয়ে বিবিন্ন প্রজাতির মা মাছ রেনু পোনা নির্বিচারে ধরার কারনে মাছের বংশ বৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে বর্তমানে মিঠা পানির দেশীয় প্রজাতির সামান্য কিছু মাছ নবীনগরের বিভিন্ন জলাশয়ে টিকে আছে। এ সমস্ত মাছের উৎসস্থল থেকে অতিথিতে বিপুল পরিমান মাছ আহরন করা সম্ভব হলেও বর্তমানে তা সম্ভব হচ্ছে না।

বিলুপ্ত প্রায় এসব মাছের মধ্যে রয়েছে মলা,কয়েক প্রকার দাড়কীনা, নাপিত, কই, গুটুম, বাঘা, চাপিলা, পাপদা, রিটা, নানাদিলা, আইড়, ষোল, গজার, বোয়াল, শেরপুটি,বাছা, চান্দা, ইত্যাদি। এক সময় নবীনগর বিলগুলো থেকে প্রচুর পরিমানে দেশীয় প্রজাতির মাছ আহরন করা হত। উপজেলা বাসীর চাহিদা মিটিয়ে পর‌্যাপ্ত পরিমান মাছ শহরাঞ্চলে রপ্তানি করে বিপুল অর্থ আয় হতো।

নবীনগর বাজার ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন খামার ও পুকুরে চাষ করা মাছে বাজার ভরপুর থাকলেও হাওড়ের কিছু বড় প্রজাতির মাছ মাঝে মধ্যে বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু মাছ গুলোর সল্প আয়ের সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

মাছ বিক্রেতা অরুন বর্মন জানান হাওড়ের মাছ গুলোর দাম খামারের মাছগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। তাছাড়া হাওড়ের মাছতো খুব একটা পাওয়া যায় না।

বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী এড: মো: ছায়েদুল হক দেশীয় প্রজাতীর মৎস্য সম্পদ রক্ষার্থে নদী খনন সহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এই সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশীয় প্রজাতির মৎস্য কিছুটা সংরক্ষন হবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...