অবরোধে নাকাল কুমিল্লা হাইওয়ের হোটেল ব্যবসা

মো. জাকির হোসেন :–

বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের দেশব্যাপী টানা অবরোধ আর হরতালে লাটে উঠেছে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিল্লা অংশে গড়ে উঠা প্রায় দু’শতাধিক হোটেল ব্যবসা। প্রতিদিন এই রুটে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রীদের বিশ্রাম ও আপ্যায়নের উদ্দেশ্যে গড়ে উঠা এই সকল হোটেলের ব্যবসা হরতাল আর অবরোধের কবলে পড়ে প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। একই সাথে হোটেলগুলোতে কর্মরত হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ না থাকায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। পাশাপাশি হোটেল মালিকদেরও গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকার গচ্ছা। সারা দিনরাত যে সকল হোটেলগুলো হাজার হাজার যানবাহনের যাত্রীদের আনাগোনায় মুখরিত থাকতো। অবরোধের কবলে পড়ে তারা এখন দিশেহারা।
সরেজমিন ঘুরে হোটেল সমুহের মালিক, কর্মচারীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্রগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে ঢাকা-চট্রগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর এই মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে রয়েছে প্রায় ১’শ কিলোমিটার অংশ। মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রীদের সাময়িক বিশ্রামসহ আপ্যায়নের জন্য বিভিন্ন সময়ে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের চৌদ্দগ্রাম থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় দু’শতাধিক বিভিন্ন মানের হোটেল, রেস্টুরেন্ট। প্রতিদিন সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রীরা এই সকল হোটেল-রেস্টুরেন্টে সাময়িক যাত্রা বিরতী করে। প্রাকৃতিক কাজসহ খাওয়া-দাওয়া শেষে আবারো নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাত্রা করে এই সব যানবাহনের যাত্রীরা। এই সকল হোটেলগুলোতে রয়েছে কমপক্ষে ৪/৫ হাজার শ্রমিক। হোটেলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ভিটা ওয়াল্ড, ডলি রিসোর্ট, অববিট, গ্রীনভিউ, তাজমহল, নুরজাহান, হাইওয়ে ইন, কানন, বাঁশমতি, সৌদিয়া, মিয়ামি, ধানসিড়ি, টাইম স্কয়ার, ব্লু-ডায়মন্ড, কাকলি, কফি হাউজ, জিহান, ছন্দু প্রমুখ হোটেল। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই সকল হোটেলগুলোতে থাকে এই মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রীদের উপচেপড়া ভীড়। পাশাপাশি দেশের বিলাস বহুল সোহাগ, গ্রীনলাইন, এস আলম, সৌদিয়া, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, তুহিন, স্টার লাইন, এশিয়া এক্সক্লুসিভ, রয়েল কোচ, তিশা, সৌদিয়া-এস আলম, শ্যামলী প্রভৃতি পরিবহনের বাসগুলো যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে উল্লেখিত হোটেলগুলোতে যাত্রাবিরতী করে। এর ফলে হোটেলগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ব্যবসা। পাশাপাশি হাজার হাজার শ্রমিকের কার্যক্ষেত্র। কিন্তু বিগত ৫ জানুয়ারী থেকে বিএনপি-জামায়াত সহ ২০ দলীয় জোটের দেশব্যাপী টানা অবরোধ ও থেমে থেমে হরতালের ঘোষনায় হোটেলগুলোর ব্যবসা অনেকটা লাটে উঠেছে। মহাসড়কে যানবাহন কম থাকায় অনেক হোটেল ইতিমধ্যে বন্ধ আবার কিছু কিছু হোটেল খোলা রাখলেও বিক্রি কম থাকায় কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে পারছে না। ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছে এ সকল হোটেলের কর্মচারীরা। ব্যবসা না থাকায় প্রতিদিন যেমন বিপুল অংকের আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মালিকপক্ষ তেমনি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে গিয়ে গচ্ছা দিতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এছাড়াও বহু হোটেল ভাড়ায় পরিচালিত হওয়ায় অনেক হোটেল মালিকপক্ষ লোকসানের কবলে পড়ে ব্যবসা বন্ধের চিন্তাও করছে। মহাসড়কের পাশের এসকল হোটেলগুলোর বেশ ক’জন কর্মচারী বলেন, প্রতিদিন কাস্টমারদের কাছ থেকেই ৪/৫’শ টাকা করে টিপস্ পেলেও এখন সেটা বন্ধ। তাছাড়া ব্যবসা খারাপ হওয়ায় মালিক পক্ষও আমাদের বেতন দিতে হিমসিম খাচ্ছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। তারা আরো বলেন, অবরোধ কবে শেষ হবে জানিনা। তবে আমাদের সংসারতো আর চালাতে পারছি না। বর্তমানে হোটেলগুলোর ব্যবসার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা রেস্তোরা মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক এম এ মুকিত টিপু জানান, হরতাল আর অবরোধের কবলে পড়ে হোটেল রেস্তোরা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে যতটুকু না মালিক পক্ষের ক্ষতি হচ্ছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে শ্রমিক-কর্মচারীদের। কাজ না থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা বাড়িতে বসে মানবেতর দিন যাপন করছে। এ অবস্থা বেশিদিন চলতে থাকলে মহাসড়কের হোটেল রেস্তোরার পাশাপাশি শহর ও নগর কেন্দ্রিক হোটেল গুলোও বন্ধ হবার উপক্রম হবে। হোটেল শিল্প বন্ধ থাকায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply