মতলব উত্তরে নদী ভাঙ্গন রোধে মতলবে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হচ্ছে নদী শাসনের কাজ

শামসুজ্জামান ডলার :–

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দশানী-মোহনপুর থেকে ফরাজিকান্দি আমিরাবাদ পর্যন্ত মেঘনা অঞ্চলের নদী ভাঙ্গনরোধে নদী শাসনের কাজের বাকী অংশের মধ্যে জহিরাবাদ এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী শাসনের কাজ শীঘ্রই শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে মেঘনার দশানীতে ১১কোটি টাকার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘোষনা করেছেন মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে ফরাজিকান্দি পর্যন্ত নদী ভাঙ্গনরোধে নদী শাসনের কাজ করা হবে এবং ষাটনল থেকে ফরাজিকান্দি পর্যন্ত নদী শাসনের মাধ্যমে এ এলাকাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তারই অংশ হিসেবে জহিরাবাদ এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী শাসনের কাজ শুরু হচ্ছে বলে জানান উপজেলা আওয়ামলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ্যাডভোকেট রুহুল আমীন।
জলবায়ু ট্রাস্টের অর্থায়নে নদী ভাঙ্গনরোধে জহিরাবাদ এলাকায় ৩’শ মিটার এলাকা নদী শাসনের কাজ করা হবে। কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি টাকা। আড়াই কোটি টাকা করে ২টি প্যাকেজে এ কাজ করা হবে। এ মাসের শেষের দিকে কাজের দরপত্র আহবান করা হবে।
মেঘনা-ধনাগোদা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে মতলব উত্তর উপজেলার বিস্তৃর্ন এলাকা নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভা, ষাটনল, কলাকান্দা, মোহনপুর, এখলাশপুর, জহিরাবাদ ও ফরাজিকান্দী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ইতিপূর্বে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বিস্তৃর্ন ফসলী মাঠ, হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসত-বাড়ী ও বিভিন্ন জাতের ফলজ বৃক্ষসহ মূল্যবান বৃক্ষ।
এ উপজেলার ভাঙ্গনরোধে দশানী থেকে মোহনপুর হয়ে একলাশপুর পর্ষন্ত নদী শাসনের কাজ হয়েছে। ব্লক বাঁধ দেয়ার মাধ্যমে মতলব উত্তর উপজেলায় প্রথম নদী শাসনের কাজ শুরু হয় ১৯৯০সালে এখলাছপুর অঞ্চলে। এর পরে সময়ের প্রয়োজনে আশে-পাশের অঞ্চলের কাজ হতে থাকে ধীর গতিতে। এখানে ব্লক বসানো ও বালু ভর্তি জিও টেক্সটালের বস্তা ফালানো হয়েছে। আবার শুরু হচ্ছে নদী শাসনের কাজ। তারই অংশ হিসেবে জহিরাবাদ এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী শাসনের কাজ শুরু হচ্ছে।
মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ মঞ্জু বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম যখনই ক্ষমতায় আসেন তখনই নদী ভাঙ্গতি মানুষের কল্যানে কাজ করেন। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তিনি এবার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে ঘোষনা দিয়েছেন উপজেলার ভয়াবহ মেঘনা অঞ্চলের ষাটনল থেকে ফরাজিকান্দির আমিরাবাদ পর্যন্ত নদী ভাঙ্গনরোধে নদী শাসনের কাজ করবেন। এরই ফলশ্র“তিতে প্রথম ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হচ্ছে।
এ ব্যপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প) গাজী ইয়ার হোসেন জানান, নদী শাসনে জহিরাবাদের ৫কোটি টাকার কাজ কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে। আর দশানী অঞ্চনের নদী শাসনের জন্য ১১কোটি টাকার প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply