আজ মহর্ষি মনোমোহন এর ১৩৭ তম জন্ম বার্ষিকী

সাধন সাহা জয় : নবীনগর :–

আজ ১০ই মাঘ ১৪২১ বাংলা, ২৫ জানুয়ারী ২০১৫ ইং, রোজ রবিবার পালিত হচ্ছে আধ্যাত্বিক সাধক পুরুষ কবি মলয়া সঙ্গীতের রচয়িতা মহর্ষি মনোমোহন দওের ১৩৭ তম জন্ম বার্ষিকী উৎসব।

এ উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক সাধক, কবি ও জনপ্রিয় মরমি গান ‘মলয়া’র ¯্রষ্টা মহর্ষি মনোমোহনের ১৩৭তম জন্মোৎসব । এ উপলক্ষে রবিবার দিন মহর্ষির জন্মভূমি নবীনগর সাতমোড়া গ্রামে প্রতি বছরের মতো এবছর ও নানা অনূষ্টানের মধ্যে দিয়ে মনোমোহনের জন্মোৎসব উদযাপিত হচ্ছে।

মাত্র ৩১ বছর ৮ মাস ১০দিন ইহলোকে বেঁচে থেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক মূর্ত প্রতিক। যে মানবতাবাদী মহাঋষি নিজের জীবনের সব সাধ ইচ্ছা প্রাপ্তি বিসর্জন দিয়ে কেবল মানবকল্যাণে তাঁর জীবনের সবটুকু সময় ব্যায় করে গেছেন, তিনিই মহর্ষি মনোমোহন। দয়াময় তিনি এক এবং অদ্বিতীয় এ সর্বধর্ম মতবাদকে যিনি সমন্বয় করেছেন তিনিই দয়াময় নামের প্রচারক সাধক কবি মনোমোহন।

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও যথাযত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর মধ্যে দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া গ্রামে ১৩৭ বছর আগে এ মহাপুরুষ জন্মেছিলেন। সাতমোড়া গ্রামের আনন্দ আশ্রম প্রাঙ্গনে তিনি যেমন জন্মেছিলেন ,তেমনি তার সমাধিস্থলও অবস্থিত। তার পিতার নাম পদ্মনাথ দত্ত এবং মাতার নাম হরমোহিনী দত্ত।

মনোমোহনের পূর্বপুরুষ ছিলেন ঢাকার সোনারগাঁয়ের জমিদার রাজবল্লভ দত্ত। এই রাজবল্লব দত্ত একদিন জমিদারির মোহ কাটিয়ে প্রত্যন্ত, দুর্গম ও নির্জন এলাকায় অবস্থিত একটি অজপাড়াগাঁও হিসেবে পরিচিত সাতমোড়ায় চলে এসেছিলেন। রাজবল্লবের পুএ বৈদ্যনাথ দত্ত ছিলেন একজন মানবতাবাদী সঙ্গীতপাগল মানুষ। আর এই সঙ্গীতপিপাসু নিরহংকার মানুষটির পুএই ছিলেন মহর্ষি মনোমোহন।

১৩০৭ সালের ১১ বৈশাখ তিরোধান করলেন শ্রী শ্রী আনন্দ স্বামী। দুঃখ আর হতাশাগ্রস্ত মনোমোহন ছুটে গেলেন মাইজ ভান্ডারের বিখ্যাত পীর আছমতউল্লার কাছে। পীরে কেবলার আনুরোধে তিনি ফিরে যান সাত মোড়া গ্রামে। তার নিজ গ্রামে এসে বেল তলায় বসে শুরু করেন মলয়া সংগীত।

মনোমোহনের রচিত মলয়া কাব্যগ্রন্থে গানের সংখ্যা মোট ৪২৬টি তার মধ্যে মলয়া কাব্য গ্রন্থ ১ম খন্ডে ২৮৭ টি ও ২য় খন্ড ১৩৯ টি মরমি গান লিপিবদ্ধ রয়েছে। মহর্ষি মনোমোহন আরবী কোরআন ,বাইবেল ও সংস্কৃত ভাষায় ছিল অভাবনীয় দক্ষতা।

মলয়ার প্রতিটি গানের শুরারোপ করেন মনোমোহনের আধ্যাত্বিক জীবনের অন্যতম সাথী ও শিষ্য ফকির তাপস আফতাব উদ্দীন খাঁ (তিনি সুর স¤্রাট ও ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর বড় ভাই)। ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে বাংলা একাডেমী প্রকাশিত ডাঃ সুকুমার বিশ্বাস রচিত মনোমোহন দও গ্রন্থের মুখবন্ধে ও বাংলা একাডেমীর তৎকালিন মহাপরিচালক আবুহেনা মোস্তফা কামাল লিখেছেন মনোমোহন দও সাধক পুরুষ ভাবুক ও ভাবী হিমো তারে জীবন কালেই খ্যাতিমান হয়েছিলেন ।

মহর্ষী মনোমোহনের পুএ বধু সাধ্বী শ্রীমতী কমলা রাণী দও মলয়া সম্পর্কে এক বাণীতে লিখেছেন মনোমোহন রচিত ভাব সঙ্গীত মলয়া ভাব লোকের এক অমুল্য স্বম্পদ। সর্বধর্ম -সমন্বয় কারী এসব রচনা সমকালে সকল ধর্মের মানুষকে যেমন আলোড়িত করেছিল। তেমনি আজকের দিনেও সমাজ মানবকে সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধততে করে চলেছে।

১৮৮৪ বঙ্গাব্দের ১০ মাঘ জন্মলাভ করে ১৩১৬ বঙ্গাব্দের ২০ আশ্বিন দেহত্যাগ করা মানবতাবাদি এ মহাঋষির ১৩৭-তম জন্মোৎসব উদযাপন কে সামনে রেখে আজকের এ দিনে তাকে আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরন করছি।

Check Also

নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন রেড ক্রিসেন্ট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তার পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে ...

Leave a Reply