টানা অবরোধ ও হরতালে বেকার কুমিল্লার ২৫ হাজার পরিবহন শ্রমিক

মো. আলা উদ্দিন, কুমিল্লা :—

অনির্দিষ্টকালের অবরোধে বেকার হয়ে পড়েছে কুমিল্লার অন্তত ২৫ হাজার পরিবহন শ্রমিক। কাজ না থাকায় মানবেতর কাটছে তাদের দিন। পরিবারের সদস্যরা আছেন দু:শ্চিন্তায়। হরতাল ও অবরোধের মত রাজনৈতিক ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় এই পরিবহন শ্রমিকরাই। অপরদিকে একদিন হরতাল অবরোধে কুমিল্লায় বাস-মিনিবাস বন্ধ থাকলে কমপক্ষে ২ কোটি টাকার লোকসান গুণতে হয় সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, রাজধানী শহর ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মাঝে সেতুবন্ধক কুমিল্লা জেলাতে দিন দিন পরিবহন শ্রমিক বাড়ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কুমিল্লা। এছাড়াও নগরীর মধ্য রয়েছে তিনটি বাস স্ট্যান্ড। এ বাসস্ট্যান্ডগুলো থেকে প্রতিদিন কয়েক শত বাস মিনিবাস ছেড়ে যায়। কুমিল্লা জেলার প্রায় ২৫ হাজার চালক হেলপারের পরিবার পরিজন নিয়ে এ পেশায় দিনযাপন করছে। যৎসামান্য কয়েকজন চালক রয়েছে যারা নিজেদের গাড়ি চালায়। তবে সিংহভাগ চালক দৈনিক ভাতা হিসেবে গাড়ি চালায়। কিন্তু হরতাল অবরোধ ঘোষণা হলেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতই মনে হয় ওই পরিবারের সদস্যদের। যদিও আইনশৃংখলা বাহিনীর পাহারায় বিভিন্ন সময় যান চলাচল করে তবুও চোরাগোপ্তা হামলার ভয়ে তটস্থ থাকে গাড়ি চালক হেলপার আর তাদের পরিবার-পরিজন। গত কয়েকদিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহী বাস ট্রাকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সংযোগ রাস্তাগুলোতে ভাংচুর করা হয়েছে পিকআপ ভ্যান, সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা।
কুমিল্লা মহানগরীর শাসনগাছা, চকবাজার ও জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড ঘুরে কয়েকজন চালক ও হেলপারের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা দৈনিক বেতন হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও অনেকে আছেন যারা শুধু ট্রিপ (একবার যাওয়া আসা) হিসেবেও কাজ করেন। কথা বলার সময় তাদের মলিন অবয়বে স্পষ্টতই দেখা গেছে দুশ্চিন্তার ছাপ। অনেকে জানান, যারা পেশা হিসেবে হেলপারের কাজ করেন তাদের বসে থাকার সুযোগ নেই। একদিন কাজ না করলে ধার কর্য করে পরিবারের ভরণপোষণ করতে হয়।
কুমিল্লা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন চট্টমেট্রো (২০২৬) এর সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, এ শ্রমিক ইউনিয়নে ৭ হাজার ৮৯৮ জন চালক হেলপার রয়েছে। তারা সবাই এ পেশায় জীবন ধারন করে। যদি শুধু একদিন হরতাল অবরোধে বাস-মিনিবাস বন্ধ থাকে তাহলে কমপক্ষে ২ কোটি টাকার লোকসান গুণতে হয় সংশ্লিষ্টদের। তিনি তীব্র ক্ষোভ নিয়ে জানান, রাজনৈতিক নেতারা শুধু নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করে। আমাদের কথা কেউ শুনেনা। তিনি তার সংগঠনের পক্ষে হরতাল অবরোধের মত ক্ষতিকর কর্মসূচির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানান।
প্রায় একই রকম কথা বললেন কুমিল্লা জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (৯৩৮) এর সভাপতি গোলাম রসুল। তিনি বলেন, প্রায় ১৭ হাজার চালক হেলপার রয়েছে এই সংগঠনের অধীনে। একদিনে হরতাল বা অবরোধে লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান গুণতে হয়। গত কয়েকদিনের হরতাল অবরোধে প্রায় ২০-৩০ জন শ্রমিক আহত হয়। দেশের এই বিবদমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হরতাল অবরোধের মত রাজনৈতিক ইস্যু বন্ধ করার জোরদাবি জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply