নাঙ্গলকোট সাব রেজিষ্ট্রি অফিস দূর্নীতির আখড়া; চাকরির মেয়াদ শেষেও স্ব-পদে বহাল অফিস সহকারী

মো. আলা উদ্দিন, কুমিল্লা :–

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সাব রেজিষ্ট্রি অফিস দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে প্রত্যেকে যে যার মত করে মক্কেল কালেকশন করছে। সাব রেজিষ্ট্রার রেজাউল করিম অফিস সহকারী রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে চরম অব্যবস্থাপনা ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারী নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মাহবুবুল হক খন্দকার, সেক্রেটারী আবুল হোসেন পাটোয়ারী, উপদেষ্টা হাজী আবুল খায়ের, দলিল লেখক নজির আহম্মদ ও ইয়াছিন আরাফাতের যোগসাজসে বছরে কমপক্ষে ৭/৮ কোটি টাকা অবৈধ ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে ক্রেতা ও গ্রহিতার কাছ থেকে। এ ছাড়াও অহরহ সম্পাদিত হচ্ছে জাল দলিল। অফিস সূত্রে জানা যায়, সাব কবলা জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ষ্টাম্প বাবদ ৩%, এস আর ৩%, এনপি৩%, উৎস কর ১%, পৌরসভা এলাকার জন্য অতিরিক্ত ২%, দানপত্র দলিলে ৮%, অসিয়ত নামায় ২০ টাকার স্টাম্প ও কার্টিজ পেপার, বন্টন নামা দলিলের ক্ষেত্রে ২০ টাকার স্টাম্প, ১০ টাকার কার্টিজ পেপার (১-৫ লক্ষ টাকা মূল্যের দলিল বাবদ ৫শ টাকা), হেবা দলিলে ৩শ টাকার স্টাম্প এর উপর ফি নির্ধারণ করা হলেও দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারী কর্তৃক সীল মোহরকৃত ৬৫ জন দলিল লেখকের কাছে প্রেরিত কাগজে ফি আদায়ের পরিমান হলো সাব কবলা দান পত্রের ক্ষেত্রে ৬ হাজার টাকা জমির ক্রয় মূল্য সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মূল্যের জমি ক্রয়ে ২৫ হাজার টাকা, হেবা দলিলের ক্ষেত্রে ২০ টাকার পরিবর্তে জমির পরিমান বাড়লে ৩ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা, অসিয়ত নামা দলিলের ক্ষেত্রে ১ ডিং-২০ ডিং ৩ হাজার টাকা থেকে অন্উুদ্ধ জমির পরিমান বাড়লে ২০ হাজার টাকা, বন্টন নামা দলিলের ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকার মূল্যের জমি হলে ১০ হাজার টাকা, ৫০ লক্ষ টাকার উনুউর্দ্ধে ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়াও কোম্পানী দলিলের ক্ষেত্রে আরো ৬%। আম-মোস্তার নামা প্রতি দলিলের জন্য ৬ হাজার টাকা। ভুল সংশোধন দলিলের জন্য ৫ হাজার ৫শ টাকা, পাকা ভবন ও পাকা দোকান পাট বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিবর্গ ফুটের জন্য ১ হাজার টাকা করে বাড়তি নেয়া হচ্ছে। এ হিসেবে দেখা যায় গত বছরে ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর-২০১৪ সালে ১৪ হাজার ৭শ ৫০টি দলিল সম্পাদিত হয়। প্রতি দলিলে গড়ে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা করে আদায় হলে ক্রেতা ও গ্রহিতার কাছ থেকে কমপক্ষে বছরে ৭/৮ কোটি টাকা অবৈধভাবে ঘুষের লেনদেন করে উলে¬খিত ব্যক্তিদ্বয় বাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। এ নিয়ে কোন দলিল লেখক কর্ণপাত করলে পরদিন থেকে তার লেখা দলিল রেজিষ্ট্রি হয় না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক অভিযোগ করেন। গত বুধবার গোত্রশাল গ্রামের সামছু মিয়া স’ মিলের মালিক ২ডিং জমি ক্রয় করতে গেলে দলিল রেজিষ্ট্রি ফি ব্যাংক চালানের মাধ্যমে দেওয়ার পর তার কাছ থেকে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫শ টাকা দলিল লেখক বেশী নেয়। ক্রেতা সামছু বেশী টাকার কথা জানতে পারলে বিষয়টি দলিল লেখককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ক্ষেপে গিয়ে অফিস খরচ বাবদ অফিস সহকারী রুহুল আমিনকে দিয়েছেন বলে জানান। এ নিয়ে সামছু এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি তাজু মেম্বার কে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে টাকা প্রেরত দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়ে বিষয়টি মিমাংশা হয়। এছাড়াও গত মাসে ছাত্রলীগের আহবায়ক শাহ খোরশেদ আলম মজুমদার তার নিকট আতœীয় দলিল সম্পাদন করতে গেলে অফিস সহকারীকে তার কাছে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা দাবী করে। টাকা না দেওয়ায় জমি রেজিষ্ট্রি হয়নি। একই দিন ওই দলিলটি যুবলীগের সভাপতি আবদুল মালেক গিয়ে রেজিষ্ট্রি করে দেন। এ নিয়ে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক, অফিস সহকারী রুহুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে সদোত্তর না পেয়ে কিল ঘুষি মেরে লাঞ্চিত করে সাব-রেজিষ্ট্রারের উপস্থিতিতে। বুধবার সাব রেজিষ্ট্রার রেজাউল করিম জানান এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আমার অফিসে ঘুষ বা দূর্নীতি হয় না। দলিল লেখক সমিতির সভাপতি বলেন, সকল দলিল লেখকদের সাথে আলোচনা করে অতিরিক্ত ফি নিচ্ছি। সেক্রেটারী আবুল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, সরকারের কাছে আমাদের দাবী ৪ হাজার টাকা করে বাড়তি নেওয়ার। কিন্তু আমরা নিচ্ছি ৩ হাজার টাকা করে। অফিস সহকারী রুহুল আমিনের চাকুরী মেয়াদ গত ১৫ জানুয়ারী শেষ হয়েছি কিন্তু আপনি এখনো চাকুরী করছেন জানতে চাইলে বলেন, আরেক জন অফিস সহকারী না আসা পর্যন্ত স্যার আমাকে ছাড়পত্র দিচ্ছেন না। তাই অফিস করছি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply