বুড়িচংয়ে অবরোধের আষ্টম দিনেও মাঠে দেখা মেলেনি ২০ দলীয় জোটের

মো. জাকির হোসেন :–

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকে লাগাতার অবরোধের অষ্টম দিন পেরিয়ে গেলেও বুড়িচং উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলসহ জোটের নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা মেলেনি। ফলে কার্যক্রমে স্থবিরতায় হতাশ হয়ে পড়েছে তৃনমূল নেতাকর্মীরা।
একাধীক তৃনমূল নেতাকর্মীরা জানায়, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ অবস্থায় যে কর্মসূচী ঘোষনা দেয় তাতে করে সারা বাংলাদেশের ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক প্রকার উদ্ধিপনার সৃষ্ঠি হয়। কিন্তু বুড়িচং উপজেলায় তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। কর্মসূচী ঘোষনার পর মূল দলের পোষ্টধারী নেতারা তৃনমূল কর্মীদের কোন দিক নির্দেশনা না দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে কর্মীরা এক প্রকার সিদ্ধান্তহীনায় ভূগে। এতে করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অবরোধের মতো বড় কর্মসূচীতের মাঠে আসতে পারছে না। অতীতে বুড়িচং উপজেলা বিএনপিতে দু’টি গ্রুপ বিদ্যামান থাকলেও কেন্দ্র ঘোষিত হরতাল, অবরোধে আলাদা আলাদা ভাবে মিছিল কিংবা আলোচনা সভা করতো। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার কুমিল্লা আগমন উপলক্ষে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির দু’টি গ্রুপ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনসভায় যোগদান করে। জনসভাকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি এই উপজেলায় ব্যাপক প্রচারনা চালায়। কিন্তু জনসভার পর থেকে অদ্যবদী বুড়িচং উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে আর কোন দলীয় অনুষ্ঠানে এক সাথে দেখা মেলেনি। গত ৫ জানুয়ারী বিএনপি গনতন্ত্র হত্যা দিবস ঘোষনা করে সারা বাংলাদেশে বিক্ষোভের ঘোষনা দিলেও বুড়িচং উপজেলা বিএনপি কোন কর্মসূচী করেনি। ফলে তৃনমূল কর্মীদের মধ্যে আরো হতাশা বেড়ে উঠে। ৫ জানুয়ারী অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধের ঘোষনা দেয়। এর পর ৬ জানুয়ারী বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় বিএনপি ও বুড়িচং সদর এলাকায় যুবদল পৃথক দু’টি মিছিল করে। বুড়িচং সদর এলাকায় যুবদল নেতৃবৃন্দ মিছিল করলেও ওই সড়কে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। গত ১২ জানুয়ারী কুমিল্লায় ছাত্রদলের ডাকা হরতালের প্রভাবও পরেনি বুড়িচংয়ে। হরতালের সারাদিনে উপজেলার কোথাও ছাত্রদল নেতা কর্মীদের দেখা মেলেনি। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক, কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া-মীরপুর সড়ক, কুমিল্লা-বাগড়া সড়কে সাধারণ দিনের মত যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। ওই সড়ক গুলি দিয়ে আন্তঃ জেলা বাস, ট্রাক, লরি, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, সিএনজি, মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন নির্বিগ্নে চলাচল করতে দেখা গেছে। এদিকে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সৈয়দপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। তাছাড়া বুড়িচং উপজেলার ৯ কিঃ মিঃ রেলপথে নাশকতার আশংখ্যায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সব মিলিয়ে বুড়িচং উপজেলা অবরোধ কিংবা হরতালেও আওতায় পরেনি বলে মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির একাধীন নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply