মুরাদনগরে গোলাম মাওলা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

মুরাদনগর প্রতিনিধি :–

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিন ইউনিয়নের হারপাকনা গ্রামের ইরি-বোরো স্ক্রীম ম্যানেজার গোলাম মাওলা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। অপর দিকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদ্বয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শনিবার রাত অনুমান ১২টায় সন্ত্রাসীরা গোলাম মাওলাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হারপাকনা গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে গোলাম মাওলা ইরি-বোরো স্ক্রীম ম্যানেজার হিসেবে জমিতে পানি দেয়ার জন্য মাঠে অবস্থান করছিল। ঘটনার সময় তার সহযোগী হিসেবে ওইদিন রাতে একই গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মুজিব মিয়াও সাথে ছিল। হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত এসে তাদের হাত-পা বেধে ব্যাপক মারধর ও এলাপাতাড়ী ছুরিকাঘাত করলে গোলাম মাওলা গুরতর আহত হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে নেয়া হলে গোলাম মাওলার অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে কুমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। রাতেই তাকে কুমিল্লা নেয়ার পথে সে রাস্তায় মারা যায়। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী মোমেনা আক্তার বাদী হয়ে ৪ জন নামধারীসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে রোববার দুপুরে মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার এস আই খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উক্ত মামলার এজহারভূক্ত আসামী মফিজ মিয়া (৫৮) নামের এক বৃদ্ধকে সোমবার দুপুরে আটক করে কোর্ট হাজতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে জেল-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
উক্ত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে এলাকার সর্বস্তরের লোকজন ঐক্যবদ্ধ ভাবে মঙ্গলবার বিকেলে হারপাকনা গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও স্থানীয় ঈদগাঁহ মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সরকার। বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল মান্নান মাস্টারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ফজলুল হক মেম্বার, জাহাঙ্গীর আলম খান, আব্দুল মমিম, শাহজাহান মিয়া খান, ডাক্তার মানিক মিয়া, হাজী জাফর উল্লাহ, মিরজাহান মিয়া ও মোতাহের সরকার প্রমুখ। সমাবেশ শেষে নিহত গোলাম মাওলার রূহের মাগফেরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করা হয়। সমাবেশে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সরকার নিহত গোলাম মাওলার পরিবারকে ২০ মন চাল ও ৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
এ দিকে মুরাদনগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ও মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোলাম মাওলা হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন। এলাকাবাসীকে ধের্য্য ধারণ করে পুলিশকে সহযোগিতার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেন, হত্যাকারীরা যতই ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী হোক না কেন স্বাক্ষী-প্রমাণ পেলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় তাদের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার এস আই খালেদ মোশারফ, পিএসআই ফেরদৌস মিয়া ও জুয়েল রানা।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply