পালিয়ে বেড়াচ্ছে দেবিদ্বারে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার বাদী ও তার পরিবার

মোঃ আক্তার হোসেন :–

ধর্ষণকারী প্রভাবশালী চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ও তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে দেবিদ্বারে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার বাদী এবং তার পরিবার। ধর্ষণকারী ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদকে বাচাঁতে আওয়ামীলীগ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধীক নেতা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে বাদীকে হুমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলার বাদী জানান, গত ২৭ ডিসেম্বর কুমিল্লা সদর থানায় মামলা দায়েরে করার পর আর দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের ভাড়া বাসায় ফিরতে পারছেন না তিনি ও তার পরিবার। মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে হুমকী ও ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। আর এই মহলটিতে জড়িত রয়েছেন তার হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা। কেউ কেউ আবার বলছে “পানিতে নেমে কুমিরের সাথে যুদ্ধ না করার জন্য। আবার কেউবা মামলা তুলে সমঝোতার জন্যও চাপ প্রয়োগ করছে। এ সব কিছু মিলিয়ে দেবিদ্বার এখন নিরাপদ মনে করছেননা তিনি। তাই আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার দেখতে চান তিনি। স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের বিষটি দৈনিক যুগান্তর ও রূপসীবাংলা সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হলে ধর্ষণকারী চেয়ারম্যান ও তার সহযোগী এডভোকেট সবুজের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবীতে শোচ্ছার হয় দেশবাসী। ইতোমধ্যে কুমিল্লা জজকোটসহ অনেক স্থানে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও হয়েছে বিচারের দাবীতে। কিন্তু সরকার দলীয় নেতাদের চাপ থাকায় দেবিদ্বারে ওই আ’লীগ নেতা ও প্রভাবশালী চেয়ারম্যান খোরশেদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার কেউ সাহস পাচ্ছেনা বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন জানান, মামলাটি নথিভূক্ত করার মধ্যদিয়ে রোববার দুপুরে ভিক্টিমের ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন ও ২২ ধারায় জবান বন্ধী রেকর্ড করা হয় এবং অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।

বর্বর ও দূর্ধর্ষ এ সন্ত্রাসী খোরশেদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখন এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুসে উঠছে। স্থানীয়রা জানান, দেবিদ্বার উপজেলার ৯নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ খোরশেদ আলম এখন একটি আতঙ্কের নাম। বিচার প্রত্যাশি ভোক্ত ভূগীদের আত্কে উঠার নাম। যার ভয়ে এলাকাবাসী তটস্ত। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। মুখ খুললে হামলা-মামলা, অপবাদ-নির্যাতন, মিথ্যা মামলার শিকারই নয়, জীবণ বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াতে হয়। খুন, ধর্ষণ, সংখ্যালঘুদের জমি দখল, সংখ্যালঘু পরিবারের গৃহবধূ ও মেয়েদের ধর্ষণ, নির্যতন নিত্যদিনের রুটিনে পরিনত করার অভিযোগ রয়েছে। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী লোকদের নিয়ে তার লালিত একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। ওই বাহিনীর সাথে থানা-পুলিশের ভূমিকায় নিজ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশও আদেশ তামিল করতে হয় সর্বদা। তার পালিত বাহিনী দালালদের সহযোগীতায় গ্রামে গ্রামে পারিবারিক, জমি সংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি করে সালিসের নামে হয়রানী ও বিপুল অর্থ লুটে নিচ্ছে। আগেও ধর্ষণ সহ বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি বেতার শিল্পী কালিপদ দেব হত্যা মামলারও আসামি ছিল খোরশেদ চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে পারিবারিক ভাবে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ও কুমিল্লা জজ কোর্টের আইনজীবী হারুন অর রশিদ সবুজের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের নবম শ্রেণীতে পড়–য়া এক স্কুল ছাত্রী (১৪)কে ধর্ষণের অভিযোগে কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর (শনিবার) রাতে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে ওই মামলা দায়ের করেন। মামলা নং১২৮/২৭-১২-১৪।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply