কুমিল্লায় জাল সনদে চল্লিশ বছর ধরে চাকুরী করছেন এক মাদ্রাসা শিক্ষক

মোঃ আলাউদ্দিন :–

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জাল সনদে চল্লিশ বছর ধরে চাকুরী করার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষকের নাম আবু তাহের মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি উপজেলার জোড্ডা বাজার ছিদ্দিকিয়া আলীম সিনিয়র মাদ্রাসায় আরবী প্রভাষক পদে চাকুরীরত আছেন।
ওই মাদ্রাসা ও জেলা মাদ্রসা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসাটি যখন জুনিয়র মাদ্রাসা ছিল, তখন তিনি সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরীতে যোগদান করেন। এখানে এক বছর চাকুরীর পর উপজেলার বক্সগঞ্জ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে চলে যান। সেখানে ৮ বছর চাকুরী করে আবার এই মাদ্রাসায় প্রভাষক পদে নিয়োগ নিয়ে তিনি ফিরে আসেন। মাদ্রাসা ও অধিদপ্তরে জমা দেয়া নথি অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ রয়েছে ২টি। শিক্ষা সনদে দেয়া জন্ম তারিখে তিনি ১ মার্চ ১৯৫৯ উল্লে¬খ করেছেন। আবার মাসিক বেতন প্রদেয় অনুমতি পত্রের (এমপিও) জন্য আবেদনে ১ মার্চ ১৯৫৫ তার জন্ম তারিখ উল্লে¬খ করেন। শিক্ষা সনদের জন্ম তারিখ মোতাবেক দাখিল (এসএসসি সমমান) পাশের সময় তার বয়স ছিল ১০ বছর। যা ছিল আদৌ অসম্ভব। চাকুরীতে নিয়োগের ২ বছরের মাথায় তার বিরুদ্ধে জাল সনদ প্রদান করে চাকুরীতে যোগদান, বয়স জালিয়াতি করা ও নিয়োগ পরীক্ষাকালীন সময়ে তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকার সুবাদে বিধি ভেঙ্গে একক প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়াসহ প্রতারনার অভিযোগ উঠেছিল। যে কারনে ১৯৮৬ সালের ২৩ জুন মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক মাদ্রাসাটি পরিদর্শনে একজন প্রতিনিধি পাঠান। পরিদর্শনকালে এসব অনিয়ম তার নজরে আসায় তিনি সিরাজের নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরন করে করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বলেছিলেন। কিন্তু কি কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ তার সদুত্তর দিতে পারেননি তারা। তবে অনিয়মের মধ্যে দিয়ে নিয়োগ পাওয়া এ শিক্ষক দীর্ঘ সাড়ে ৩৯ বছর ধরে চাকুরী করছেন এবং সরকারী কোষাগার হতে প্রাপ্ত বেতন উত্তোলন করছেন। এতে সরকারের রাজস্ব ব্যয় হয়েছে অর্ধ কোটি টাকারও বেশী। অভিযোগ রয়েছে লেখাপড়া করে নয়, অর্থ বিনিময় করে তিনি ওই সময়ে সনদগুলো গুলো নিয়ে ছিলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক এটিএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি স্বাভাবিক ভাবে সকল শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছি। তবে আমাদের সময়ে এসএসসি সমমান বর্তমান সময়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণী পাশের সমতুল্য হওয়ায় ১০বছর বয়সে দাখিল পাশ করেছি। আমার সকল সার্টিফিকেট বৈধ।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইলিয়াস মজুমদার বলেন, তৎকালীন সময়ের কর্তৃপক্ষ কিভাবে তাকে নিয়োগ দিয়েছে তা আমি জানিনা। তবে, যেহেতু অভিযোগ উঠেছে সেহেতু তার সনদগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply