নাঙ্গলকোটে শতাধিক ব্রীজ-কালভার্ট ঝুঁকিপূর্ণ

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:–

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন নদী ও খালগুলোর উপর নির্মিত ব্রীজ-কালভার্টগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে এগুলো ধসে পড়ে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করতে বিভিন্ন ইউনিয়নের জনসাধারণের জন্য নির্মিত শতাধিক ব্রীজ-কালভার্টগুলোর এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ব্রীজ ও কালভার্টগুলোর অনেকটির রেলিং ভেঙ্গে গেছে আবার কোনটির বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বিশাল ফাঁটল। সাধারণ জনগণ আশংকা করছেন, যেকোন মুহুর্তে এগুলো ধসে পড়ে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। ব্রীজগুলো ধসে পড়লে একদিকে জনসাধারণের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। অন্যদিকে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় যানচলাচলেও পোহাতে হবে চরম ভোগান্তি। তারপরও বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনসহ জনসাধারণকে এসব ব্রীজের উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
উপজেলার মক্রবপুর গ্রামের ফয়েজ উল্লাহ জানান, নাঙ্গলকোট-লাকসাম সড়কের ষ্টীল ব্রীজটি দীর্ঘদিন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। যেকোনো সময় ব্রীজটি ধসে পড়তে পারে। এর পূর্বে বেশ কয়েকবার দূর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।
তপোবন গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ আরবের রহমান জানান, সাতবাড়িয়া থেকে তপোবন চলাচলের একটি মাত্র রাস্তা। ওই রাস্তার উপর নির্মিত ব্রীজটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই।
ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ ও কালভার্টগুলোর মধ্যে সাতবাড়িয়া ডাকাতিয়া নদীর উপর নির্মিত ব্রীজ, সাতবাড়িয়া-তপোবন সড়কের সাতবাড়িয়া ইউপি কার্যালয় সংলগ্ন কালভার্ট, দৌলখাঁড়-বক্সগঞ্জ সড়কের জয়াগ সংলগ্ন কালভার্ট, দৌলখাঁড় লক্ষীপুর খালের উপর উপর ব্রীজ, নাঙ্গলকোট মাহিনী সড়কের জোড়পুকুরিয়া ব্রীজ, বক্সগঞ্জ-হাসানপুর সড়কের মলংচর কালভার্ট, শাকতলী-চড়িয়া সড়কের কালভার্ট, ভোলাইন বাজার-ঘোড়াময়দান সড়কের চাটিতলা কালভার্ট, শাকতলী-রাজাপাড়া সড়কের কালভার্ট এবং নাঙ্গলকোট-লাকসাম সড়কের ষ্টিলব্রীজ উল্লেখযোগ্য সহ প্রায় শতাধিক ব্রীজ-কালভার্ট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী সালমান রহমান রাসেল জানান, নাঙ্গলকোটের কয়েকটি ব্রীজ-কালভার্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতœন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। শীগ্রই কালভার্টগুলোর কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলা বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। ব্যয়বহুল এবং জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বড় ব্রীজ ও কালভার্টগুলো এলজিইডির উদ্যোগে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চলছে। আর ছোট কালভার্টগুলোর নির্মাণ কাজ আমরা দ্রুত সম্পন্ন করব।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply