দাউদকান্দিতে ভাংগাচোরা ও ভস্মীভূত তোড়ণের স্থানে দাড়িয়ে খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনা জানালেন নেতাকর্মীরা

আলমগীর হোসেন,দাউদকান্দি :–

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত নির্মিত অর্ধশতাধিক তোড়ণ, শত শত ব্যানার, ফেস্টুন শুক্রবার রাতের আঁধারে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা ভাংচুর করে ও আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১২ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেল বহর দিয়ে একের পর এক তোড়ণগুলোতে নারকীয় তান্ডব চালায় বলে উপজেলা বিএনপির শীর্য নেতারা জানান। রাতে স্থানীয় বিএনপি ঘটনা সম্পর্কে কুমিল্লা জেলা ও দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসন এবং থানা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও কোন সাড়া পাননি। দাউদকান্দি বিএনপি’র সভাপতি একেএম শামসুল হক জানান, দাউদকান্দির ইউএনও এবং ওসিকে ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। সাধারণ জনগণ এ ঘটনা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছে। জনগণ এ বর্বোরচিত হামলার ঘটনায় ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। এদিকে আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কুমিল্ল¬ার গেটওয়ে দাউদকান্দি সেতু অতিক্রম করে। কুমিল্লা সীমানার প্রবেশ মুখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের Daudkandi Photo-(29-11-2014)F-2দাউদকান্দি সেতু টোলপ্লাজা থেকে শুরু করে বলদা খাল, দাউদকান্দি বিশ্বরোড, গাজীপুর, হাসানপুর, শহীদনগর, বারপাড়া, কানড়া, পেন্নাই, গৌরীপুর, আমিরাবাদ, জিংলাতলী রায়পুর, পুটিয়া, ইলিয়টগঞ্জসহ কমপক্ষে ৫০টি স্পটে বেগম খালেদা জিয়াকে ভাংগাচোরা ও আগুনে ভস্মীভূত তোড়ণের পাশে দাড়িয়ে সর্বস্তরের জনতাকে বিপুলভাবে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে দেখা যায়। ঢোলবাদ্য বাজিয়ে, নেচেগেয়ে এবং গগণবিধারী শ্লোগান দিয়ে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে তুলে। বিএনপি নেত্রী হাত নেড়ে জনতার অভিনন্দনের জবাব দেন। এ সময় নেতাকর্মীদের হাতে নানা শ্লোগানে ভরা শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, কারাবন্দী নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. মারুফের ছবি সংবলিত শত শত পে¬কার্ড শোভা পাচ্ছিল। বিশেষ করে কারাবন্দী নেতা ড. মোশাররফের মুক্তি চাই, মোশাররফ জেলে কেন? স্বৈরাচারী হাসিনা জবাব চাই, অবিলম্বে মোশাররফকে মুক্তি দিতে হবে প্রভৃতি শ্লোগান লেখা রং বেরংয়ের পে¬কার্ড হাতে দাড়িয়ে ছিল নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের হাজার হাজার জনগণ। কুমিল্লা উত্তর জেলার এসব স্পটে এ বিশাল আয়োজন বাস্তবায়নে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন, কারাবন্দী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে কুমিল্লা (উ.) জেলা বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। বেগম খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনা জানাতে গত এক মাস ধরে স্থানীয় বিএনপি ও অংগসংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় যৌথ কর্মীসভা, মতবিনিময় সভা করেছেন। ড. মারুফ এসকল কর্মসূচী বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে গভীর রাত পর্যন্ত উপস্থিত থেকে কর্মকান্ড তদারকি করেছেন। ড. মোশাররফের ছেলে জেলা বিএনপি নেতা ও প্রধান সমন্বয়ক ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের সম্মানে নির্মিত তোড়ণ, ব্যানার, ফেস্টুন পুড়িয়ে এবং ভাংচুরের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো এই সরকার গণতান্ত্রিক নয়। গণতন্ত্রের প্রতি তাদের সামান্যতম বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধ নেই। সরকার গণতন্ত্রের লেবাস পড়ে স্বৈরাচারী ও বাকশালী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। এ ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরো দানা বাধবে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ের আন্দোলন হবে আরো বেগবান ও গতিময়। আমি এ অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কুমিল্লা (উ.) জেলা বিএনপি’র সভাপতি খোরশেদ আলম তোড়ণ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটি দু:খজনক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এগুলো আ.লীগই ভাল পারে। এসব করে জনগণের আন্দোলন দমানো যাবে না। জনগণ আরো ফুঁসে ওঠবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply