মাদকাসক্ত ভাসুরের ঘুসিতে ৬টি দাঁত হারালো দেবিদ্বারে এক গৃহবধূ

মোঃ আক্তার হোসেন :–

কুমিল্লার দেবিদ্বারে হাছনা বেগম(২৪) নামে এক গৃহবধূ শ্বশুর বাড়ির নির্যাতনে ৬টি দাঁত হারিয়ে এখন দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সয্যাসায়ী। ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেল ৪টায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের নিজাম বাড়িতে। পারিবারিক নিছক ঘটনায় হাছনার মাদকাসক্ত ভাসুর রমিজ উদ্দিন(৩৮), মোস্তফা(৩৫), শ্বাশুরী আছিয়া খাতুন(৫৫), চাচাতো ভাসুর রবিউল্লাহ(৪৫), সফিউল্লাহ(৩৮) তাকে বেধরক পিটিয়ে এবং চুলের মুঠি ধরে মারধর করে, এক পর্যায়ে কিল ঘুষি মারার সময় ভাসুর রমিজ উদ্দিন স্বজোরে হাছনার মুখে ঘুসি মারলে মুখের সামনের উপরের মারির ৬টি দাঁত ভেঙ্গে যায়। দুটি দাঁত তৎক্ষনাত পড়ে গেলেও বাকী ৪টি দাত নড়বড়ে হয়ে যায়। এসময় হাছনার শ্বাশুরী ও তার জা’সহ বাড়ির লোকজন তাকে রক্ষা না করে উল্টো তাকে মার ধরে সহযোগীতা করে এবং হামলাকারীরা তার কানের দুল ও নাকফুলটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
রক্তাক্ত ও মারাত্মক আহত অচেতন হাছনাকে স্থানীয়দের সহায়তায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনতে চাইলেও শ্বশুর বাড়ির লোকেরা আনতে দেয়নি। সংবাদ পেয়ে তার পিতার বাড়ির লোকজন আনতে গেলে তাদেরকেও আটকে রাখে। পরদিন হাছনার শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তী করা হয়। ওই ঘটনায় আহত গৃহবধূর ভাই কবির হোসেন(৩০) বাদী হয়ে মাদকাসক্ত ভাসুর রমিজ উদ্দিন(৩৮), মোস্তফা(৩৫), শ্বাশুরী আফিয়া বেগম(৫৫), চাচাতো ভাসুর রবিউল্লাহ(৪৫), সফিউল্লাহ(৩৮)সহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে দেবিদ্বার থানায় অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। ঘটনার দিন তার স্বামী আবুল বাশার ঢাকায় ছিল।
আহত হাছনা জানায়, তার শ্বশুর বাড়ির সবাই চোর এবং মাদকসেবী। দু’টি সন্তানের মায়ায় শত নির্যাতনের মধ্যেও সংসার করে যাচ্ছি। ঘটনার দিন ঘরের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করার সময়

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৮বছর পূর্বে দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মৃতঃ আব্দুল বারেক’র ছেলে আবুল বাশার’র সাথে পাশ্ববর্তী পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের উজ্জল মিয়ার কণ্যা হাছনা বেগম’র বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুকের টাকার দাবীসহ নানা কারনে শ্বশুর বাড়ির লোকদের নির্যাতন হাছনার নিত্য সঙ্গী হিসেবে বাসা বাঁধে। বেকার স্বামী আবুল বাশারও মাদকাসক্ত ছিল এবং বিদেশ যাওয়ার জন্য যৌতুক হিসেবে টাকার জন্য প্রতিনিয়ত তাকে মার ধর করতো। দরিদ্র পিতার পক্ষে বিদেশ পাঠানো অসম্ভব হওয়ায় মাঝে মাঝে ব্যবসা ও পকেট খরচের জন্য কিছু টাকা দিলেও সে অর্থ মাদক সেবনে ব্যয় করতো। শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসেও শ্বশুর বাড়ি এবং আত্মীয়-স্বজনের সোনা গহনা টাকা পয়সা চুরি করার কারনে তাকে ঢাকা একটি এম্ব্রটারী কারখানায় কাজ দেয়। ইতি মধ্যে তারা দু’সন্তানের জনক- জননী বনে গেছে।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, হাছনার উপর তার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা যৌতুকসহ নানা কারনে লোমহর্ষক নির্যাতন চালিয়ে আসার সংবাদ পেয়েছি। দু’সন্তানের মায়ায় স্বামীর ভিটি আকড়ে থাকতে শেষ পর্যন্ত তাকে দুটো দাঁত হারাতে হয়েছে। শ্বশুর বাড়ির লোকজন অসামাজিক এবং মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে। অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

দাউদকান্দিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার :কুমিল্লার দাউদকান্দিতে শান্তা বেগম (২৪) নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ...

Leave a Reply