কুমিল্লার তোতা মিয়া হত্যাকান্ড : আদালতে ৩ ঘাতকের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি: ‘লাশ গুম করতে পেট কেটে ইট ডুকানো হয়’

কুমিল্লা প্রতিনিধি :–

কুমিল্লা মহানগরীর ঢুলিপাড়া এলাকায় একটি কসাই পরিবার ও তাদের সহযোগীরা তোতা মিয়াকে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর লাশের পেট কেটে ভেতরে ইট ডুকানো ছাড়াও ইটের টুকরো ভর্তি বস্তা লাশের সাথে বেধে পানিতে ফেলে লাশ গুম করা হয়েছিল।
রোববার দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক চাঞ্চল্যকর এসব জবানবন্দী প্রদান করে গ্রেফতারকৃত আসামী কসাই জুম্মন, আজাদ ও ফুল মিয়া। ৩ জনই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অপর আসামীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে বলে ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরে ওই ৩ জনসহ গ্রেফতার হওয়া অপর আসামী রিপন,শওকত, অপু, ইমরানকে আদালতে সোপর্দ করার পর আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
জানা যায়, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে তোতা মিয়ার হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত ৭ জনকে গ্রেফতার করে। গত শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের উপস্থিতিতে নগরীর ডুলি পাড়ার একটি ডোবা থেকে নিহতের গলিত লাশ, মাথার খুলি ও হাঁড় উদ্ধার করা হয়। রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে কসাই জুম্মন, আজাদ ও ফুল মিয়া জানায়, একটি গরুর টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তোতাকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার পেট কেটে ভেতরে ইট প্রবেশ করানো হয়। এছাড়াও লাশ ভেসে উঠার আশংকায় বস্তায় ইটের টুকরো ভর্তি করে লাশের সাথে ওই বস্তা বেঁধে পানিতে লাশ ডুবিয়ে দেয়া হয়। লাশের দু:গন্ধ থেকে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হতে পারে সেই আশংকায় ঘটনার পর থেকে মাঝে- মধ্যে লাশ গুম করার স্থানে জবাইকৃত গরুর নাড়ি-ভুড়ি ফেলতো কসাই আজাদ ও তার ছেলেরা। উল্লেখ্য গত ৩ অক্টোবর দুপুরে আদর্শ সদর উপজেলার শরীফপুর দক্ষিণপাড়া (শিবের বাজার) গ্রামের মনা মিয়ার পুত্র গরু ব্যবসায়ী তোতা মিয়াকে (১৮) নগরীর ঢুলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা কসাই আজাদ বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে তার ছেলে ও সহযোগীদের নিয়ে হত্যা করে লাশ পাশের ডোবায় গুম করা হয়। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ এ ঘটনার অনুসন্ধানে মাঠে নামে। ডিবি’র ওসি মনিরুল ইসলাম পিপিএম এর তত্বাবধানে ডিবির এস.আই শাহ কামাল আকন্দ ও এসআই শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় টিম নিয়ে ঘটনার অনুসন্ধান চালিয়ে এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করে। গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামীসহ হত্যাকান্ডে জড়িত ৭ জনকে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই শহিদুল ইসলাম জানান, আদালতে ৩ ঘাতকের জবানবন্দীতে হত্যাকান্ডে জড়িত আরো যাদের নাম এসেছে তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে, শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply