দেবিদ্বারে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের ডিজিটাল প্রতারণা : একই সাথে ৫ম এবং ৮ম শ্রেণীতে পরীক্ষার্থী!

মোঃ আক্তার হোসেন :—

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পদুয়া আলিম মাদ্রাসায় জেডিসি ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৪ এ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একই পরীক্ষার্থীকে ২০১৪ইং সনে একই সাথে জেডিসি ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে ধামতী কমিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা মাধ্যমি শিক্ষা অফিসার আবু তালেব বলে আমার জীবনে আমি কখনো শুনিনি যে এক জন পরীক্ষার্থী একই সাথে জেডিসি ও সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। বিষয়টি নিয়ে দেবিদ্বারসহ পুরো কুমিল্লা জোড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে একই উপজেলার পদুয়া আলিম মাদ্রাসার ১৫ জন পরীক্ষার্থী যুগ্মভাবে এই বছরের ৫ম এবং ৮ম শ্রেণীতে পরীক্ষা দিচ্ছে। ২০১৪ সালে ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার্থী ছাত্ররা হলো- মহিউদ্দিন, যার ৫ম শ্রেণীতে রোল ৮১৮ এবং ৮ম শ্রেণীতে রোল ৩৪৮৬৫২, ইব্রাহিম খলিল ৫ম এ ৮১৬, ৮ম এ ৩৪৮৬৫৫, সুলতান আহমদ যার ৫ম শ্রেণীতে রোল ৮১৩ এবং ৮ম শ্রেণীতে ৩৪৮৬৫৬, হাবিবুল্লাহ সরকার ৫ম এ ৮০৭, ৮ম এ ৩৪৮৬৮৭, নাইমুল হক যার ৫ম এ ৮১৫, ৮ম এ ৩৪৮৬৮৮, শহীদুল্লাহ ৫ম এ ৮২৫, ৮ম এ ৩৪৮৬৯৪। অপরদিকে ২০১৩ সালে ৫ম শ্রেণীর সমাপনীর উত্তীর্ণ ছাত্ররা হলো আব্দুর করিম ৫ম এ ৮৩৮- ৮ম এ ৩৪৮৬৪৮, মহিউদ্দিন ৫ম এ ৮৪৪, ৮ম এ ৩৪৮৬৫৩, এমরান হোসেন ৫ম এ ৮৪৫, ৮ম এ ৩৪৮৬৫৭। এরাও ২০১৩ সালে ৫ম শ্রেণীর সমাপনিতে পাস করে এক বছরের ব্যবধানে ২০১৪ সালে অষ্টম শ্রেণীতে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে। যা দেশের চলমান শিক্ষা ব্যবস্থার নীয়ম বহি:ভূত।
অপরদিকে ২০১২ সালে ৫ম শ্রেণীর সমাপনীর উত্তীর্ণ ছাত্ররা হলো ইউনুছ ৫ম এ ৯৪২, ৮ম এ ৩৪৮৬৬২, সাইফুল ইসলাম ৫ম এ ৯৫৯, ৮ম এ ৩৪৮৬৭০, রবিউল্লাহ ৫ম এ ৯৪৩, ৮ম এ ৩৪৮৬৮৫, অলিউল্লাহ ৫ম এ ৯৪৮, ৮ম এ ৩৪৮৬৯১, শরীফ ৫ম এ ৯৩৩, ৮ম এ ৩৪৮৫৩৯।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপরোক্ত তথ্যগুলি পাবার পর ঘটনা অনুসন্ধানে ধামতী কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দে গিয়ে ওই সমস্ত পরীক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের অভিবাবক ও পদুয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহমেদ রেজা’র জোগসাযোসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঘটনা হয়েছে বিধি বহিভূত এ কাজ। আর তাদের সহযোগীতা করছেন অপরাপর শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে ধামতী মাদ্রাসা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম মিয়াজী বলেন, ঘটনাটি আমি এইমাত্র জানলাম। এই সমস্ত পরীক্ষার্থীদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দেবিদ্বার থানার প্রাথমিক শিক্ষা ইন্সস্ট্রাক্টর গোলাম মাওলা মজুমদার বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। উক্ত মাদ্রাসার ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেবিদ্বার উপজেলার শিক্ষা অফিসার আবু তালেব জানান, বাংলাদেশে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে আমি জানি না এবং শুনিওনি। ৫ম শ্রেণীতে পাশ না করে ৮ম শ্রেণীর পরীক্ষা দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এর সুবিচার হওয়া উচিত। এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি জানানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ হোসাইন বলেন, এই ব্যাপারে ধামতী মাদ্রাসার কেন্দ্র সচিব আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। আমি তাকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মোহাম্মদ সানাউল হক বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পদুয়া ইসলামীয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহমেদ রেজাকে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন ফাজিল ক্লাসের ছাত্র একটি কলেজে অনার্সেও লেখাপড়া করছে। এতে দোষের কিছু নাই। উল্লেখিত ছাত্রদের রেজিষ্ট্রেশন ও পরীক্ষার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে ৫ম শ্রেণীর বিষয়টি জানেন না বলে এড়িয়ে যান এবং সম্পূর্ণ বিষয়টি ধামতী মাদ্রাসার, আমার বিষয় নয়।
এছাড়াও ৮ম শ্রেণীতে পরীক্ষা দিতে আসা মহিউদ্দিন, ইব্রাহিম খলিল, সুলতান আহম্মদ, হাবিবুল্লাহ সরকার, নাইমুল হক ও শহীদুল্লাহ জানান- আমরা ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার পরীক্ষার্থী ছিলাম। আমাদের অধ্যক্ষ মহোদয় ও অভিভাবকেরা পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বলাতেই পরীক্ষা দিতে আসছি। এই বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply