খাগড়াছড়িতে নিহত বিজিবি সদস্য আবুল কাশেমের গ্রামের বাড়ি চান্দিনায় শোকের মাতম

চান্দিনা প্রতিনিধি :–

খাগড়াছড়ি সেনানিবাস এলাকায় প্রশিক্ষণকালে গ্রেনেড বিষ্ফোরণে নিহত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর নায়েক সুবেদার আবুল কাশেম (৬৪) এর গ্রামে বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের চিলোড়া গ্রামে চলছে শোকের মাতম।
রবিবার দুপুরে রামগড় ১৬ বেটালিয়ান থেকে পরিবারকে এ তথ্য নিশ্চিত করলে স্ত্রী, সন্তান, পরিবারের সদস্য আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে আহাজারী শুরু হয়।
নিহত বিজিবি সদস্য আবুল কাশেম কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের চিলোড়া গ্রামের মরহুম বাদশা মিয়ার ছেলে।
১৯৬০ সালে কৃষক পরিবারে জন্ম তাঁর। ৩ ভাই ও ৫ বোনের মধ্যে আবুল কামেশ ছিলেন সকলের ছোট। পরিবারের আর্থিক অনটনে নবম শ্রেণীর পর লেখাপড়ায় এগুতে না পেরে ১৯৭৮ সালের তৎকালিন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।
সততা, নিষ্ঠার সাথে চাকুরী করায় ২০১২ সালে ডিপার্টমেন্ট তাকে নায়েক সুবেদার পদে পদোন্নতি দেন। গত কোরবানী ঈদের ১৫ দিন পূর্বে বাড়িতে আসলেও কর্মের প্রতি আনুগত্যের কারণে পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন না করেই কর্মস্থলে ফিরে যান।
বাৎসরিক গ্রেনেড ফায়ারিং অনুশীলন করতে রবিবার সকালে রামগড় ১৬ বেটালিয়ান থেকে বিজিবি সদস্যরা খাগড়াছড়ি সেনা নিবাস এলাকায় যান। দুপুরে ওই সেনা নিবাস এলাকায় প্রশিক্ষণ চলাকালিন সময়ে গ্রেনেড বিষ্ফোরণে দুই জন জোয়ান প্রাণ হারালে তাদের একজন আবুল কাশেম।
সরেজমিনে রবিবার বিকেলে নিহতের গ্রামের বাড়ি চিলোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে পৌঁছার পর দেখা যায়, গ্রামবাসী নিহতের মরদেহ সমাহিত করতে বাঁশা কাটা, চাটাই নির্মাণ ও কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করেছেন। শতশত গ্রামবাসী, আত্মীয়-স্বজনরা আসতে শুরু করেছে। ভিতর বাড়িতে প্রবেশ করে দেখা যায়, স্ত্রী মফিয়া বেগম, ছেলে ও মেয়েসহ স্বজরা চিৎকার করছেন। মেয়েরা বাবা-বাবা বলে চিৎকার করে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন। তাদের কান্নায় উপস্থিত কেউ তাদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। তাদের আত্ম চিৎকারে চারদিকের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
আবুল কাশেম মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। সকলের বড় ছেলে আতিকুর রহমান মাস্টার্স পাশ করে বেকার আছেন। বড় মেয়ে কামরুন্নাহার মুক্তা, দ্বিতীয় মেয়ে শারমিন আক্তার মিতু ও তৃতীয় মেয়ে শাহনেওয়াজ সেতুকে বিবাহ দিলেও চতুর্থ মেয়ে হালিমা আক্তার পূর্ব চিলোড়া-অম্বরপুর কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি রবিবার ভোর ৪টায় স্ত্রী মফিয়া বেগম এর ব্যবহৃত ফোনে কল করে সকলের খোঁজ খবর নেয় এবং ছোট মেয়ে হালিমা আক্তারকে ঘুম থেকে ডেকে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। সেই কথাই পরিবারে সদস্যদের সাথে শেষ কথা!
গ্রামের সমাজ সেবক সেলিম ভূইয়া জানান, আমরা টেলিভিশনে খবর শুনে আবুল কাশেম এর মৃত্যু খবর নিশ্চিত হই। তারপর থেকে গ্রামবাসী শোকাহত পরিবারকে সান্তনা দিতে বাড়িতে ছুটে আসে এবং নিহতের মরদেহ সমাহিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) নিহতের মরদেহ খাগড়াছড়ি থেকে সড়কপথে বাড়িতে আনা হচ্ছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। লাশের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও স্বজনরা।
এব্যাপার চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ জানান, বিজিবি সদস্য দেশের সীমান্ত রক্ষায় অকুতোভয় সৈনিক, যারা মৃত্যুকে হাঁসি মুখে বরণ করে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছলে আমরা সেখানে যাব। আমরা নিহতের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং শোক সন্তুপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমাবেদনা জানাই।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply