চৌদ্দগ্রামে বাল্য বিবাহে বাধ্য করা হলো ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি :–

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মোসাঃ পারুল আক্তার (১১) নামক এক নাবালিকা মেয়েকে পরিবারের লোকজন জোরপূর্বক বাল্য বিবাহ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার। মোসা পারুল আক্তার উপজেলার ১৩ নং জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের মোঃ জয়নাল আবেদীনের কন্যা এবং দক্ষিন বেতিয়ারা গ্রামের আমির হোসেন চৌধুরী আইডিয়াল হাই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। মাত্র ১৪ বছর বয়সী এবং স্থানীয় স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া ছাত্রীকে জোরপূর্বক ভাবে বাল্য বিবাহ দেয়ায় এলাকার সুশীল সমাজের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমির হোসেন চৌধুরী আইডিয়াল হাই- স্কুলের ৬ষ্ট শ্রেনীতে ভর্তি করা হয় মোসাঃ পারুল আক্তার কে। ঐ সময় স্কুলে জমা দেওয়া নিবন্ধনে উল্লেখ্য করা হয় গত ৮/১২/২০০৩ তারিখে তাহার জন্ম হয়েছে। কিন্তু গতকাল বিয়ের অনুষ্ঠানে একটি ভুয়া নিবন্ধন তৈরী করে তার পরিবারের সহযোগীতায় ১৭ বছর বয়স দেখিয়ে মেয়েটিকে বাল্য বিবাহে রাজী হওয়ার জন্য বাধ্য করা হয়। এ নিয়ে বিয়ের দিন বরযাত্রী অতিথিরা কন্যার বাড়িতে আসলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গ্রামের অনেকে বলেন মেয়েটির বিবাহের বিষয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাংবাদিকবৃন্ধ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, ইউনিয়ন মেম্বারের নিকট বিভিন্নভাবে জানিয়েছি। কিন্তু তাতেও বিয়ে বন্ধ করা যায়নি। এই বিষয়ে জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের ম্যারিজ রেজ্রিষ্টার ও কাজী সাংবাদিকদের জানান, মেয়েটির বিয়ে পড়ানোর জন্য একাদিক বার আমাকে ফোন করা হয়েছিল। বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারলাম মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এই কারনে মেয়েটির কাবিননামায় রেজ্রিষ্টার করানো হয়নি। এইদিকে বর যাত্রীর লোকজন আসার পর সারা দিনভর অনেক নাটকীয়তার পর রাতের আধারে একই ইউনিয়নে কোদালিয়া গ্রামের জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা বসির আহমেদকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মেয়েিিটর বিবাহের কাজ সম্পন্ন করেন। এই বিষয়ে নাবালিকা মোসাঃ পারুল আক্তারের ভাই সবুজ মিয়া সাংবাদিকদের জানান, আমার বোনের জন্ম নিবন্ধন ঠিক করে এনেছি। কিন্তু ঐ নিবন্ধনে বর্তমানে এক বছর কম রয়েছে। উক্ত বিয়ের ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভের সাথে বলেন, বর্তমানে বাল্য বিয়ে সহ সামাজিক বিভিন্ন অবক্ষয়ের প্রতি যেভাবে সরকার এবং মিডিয়া সোচ্ছার ঠিক এই সময়ে বিভিন্ন ভাবে প্রচার এবং জানাজানি হওয়ার পরও ঠেকানো গেল না এই অবুঝ মেয়েটির বিয়ে। কিভাবে সংসার করবে এই মেয়ে? সে কি আদৌ পারবে সন্তান বহনের ধারনক্ষমতা। নাকি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কোন দুর্ঘটনা অপেক্ষা করছে তার অথবা তার ভবিষ্যত প্রজন্মের। এলাকাবাসী সহ আজ সকল সচেতন জনতার এ প্রশ্ন প্রশাসনসহ সকলের।

Check Also

দাউদকান্দিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার :কুমিল্লার দাউদকান্দিতে শান্তা বেগম (২৪) নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ...

Leave a Reply