আদালত জামিন দিলেও সন্ত্রীরা জামিন দেয়নি দেবিদ্বারের ফয়েজকে

স্টাফ রিপোর্টারঃ—

মিথ্যা মামলার পর জেল খেঁটে জামিন পেয়েও স্বস্তি পায়নি কুমিল্লার দেবিদ্বারের প্রেমুর ফয়েজ। প্রতিপক্ষের হামলার শিকারে বাড়ি ঘর ভাংচুরসহ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ফয়েজ ও তার প্রতিবেশীরা। এই ঘটনায় ফয়েজের মা পেয়ারা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেও হুমকি ধমকি থেকে রেহাই পাচ্ছেনা তারা। হামলার শিকার প্রেমু গ্রামবাসী জানায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাকিয়ারচর ও দেবিদ্বারের আশরা গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয় গত ঈদ-উল-আযহার আগে। সেই সংঘর্ষের মামলায় ১৬ নং আসামী করা আশরা গ্রামের আবুল হোসেন ড্রাইভারের মেয়ের স্বামী একই উপজেলার প্রেমু গ্রামের ফয়েজ আহাম্মেদকে। ফয়েজ আহাম্মেদ এ ব্যাপারে কিছু না জানলেও গত ৭ নভেম্বর চান্দিনার গোবিন্দপুর এলকায় মারধর করে পুলিশে দেয় বিবাদীরা। ফয়েজ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও বিনা কারণে জেল খেটে জামিনে এসেছেন তিনি। এরপরেও প্রতিপক্ষ ছাড় দেয়নি তাকে। ফয়েজসহ তার প্রতিবেশীদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে দুবৃর্ত্তরা। হামলার সময় তারা হুমকি দিয়ে বলে, আইনী জামিন পেলেও ফয়েজ তাদের কাছ থেকে জামিন পায়নি ফয়েজ।
ব্যক্তিগত আক্রোশে গত ১০ নভেম্বর বুড়িচং এর বাবুল, হেলাল, মাহিন, তপন, কালা সুমন, তপন, হাসানসহ প্রায় ২৫ জনের একটি সন্ত্রাসীদল ফয়েজের বাড়িসহ আশেপাশে আরো ৬/৭টি বাড়িতে ভাংচুর-লুট করে। হামলায় আহত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মমতাজ উদ্দিন বলেন, সন্ত্রাসীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলার পর নগদ টাকাসহ স্বর্নালংকার নিয়ে যায় বলে জানায় প্রতিবেশীরা। এ ঘটনায় আরো আহত ফয়েজের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী মায়মুনা আক্তার। এছাড়া সন্ত্রাসীদের বাঁধা দিতে এলে ফয়েজের প্রতিবেশীদের ধাওয়া করে এবং বয়স্কদের মারধর করে তারা।
বরকামতা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ রেছমত আলী জানায়, ফয়েজের বাড়ি প্রেমু গ্রামটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম হওয়ায় দৃর্বৃত্তরা দেবিদ্বার উপজেলায় হামলা করে বুড়িচং উপজেলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। এছাড়া বুড়িচং হয়ে আসা প্রেমু গ্রামের রাস্তায় ওই গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করছে বলে অভিযোগ করে গ্রামবাসী। এছাড়া স্কুল কলেজে আসা-যাওয়ার সময় গ্রামের মেয়েদের উত্যক্ত করে বলেও অভিযোগ করে এলাকাবাসী।
১০ নভেম্বর ফয়েজ আহাম্মেদসহ তার প্রতিবেশীদের উপর হামলা ও লুটের ঘটনায় ফয়েজের মা পেয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১১ নভেম্বর ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫জনে বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। দেবিদ্বার থানায় মামলা নং-১০। মামলায় বলা হয়েছে, হেলাল, মাহিন, তপন, কালা সুমন সহ ২০/২৫ জনের একটি দল বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে দেড় লক্ষ টাকা, স্বর্নালংকার লুটে ২ লক্ষ টাকা এবং নগদ ১লক্ষ টাকা লুট করে। এছাড়া পানির পাম্প কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করে।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক সাইদুর রহমান জানান, তদন্ত করে আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। কয়েকজন সন্ত্রাসীর কাছে জিম্মি হয়ে আছে প্রেমু গ্রামবাসী। তবে এই সমস্যা থেকে দ্রুত উত্তরণ চান ওই গ্রামের সাধারণ মানুষ।
দেবিদ্বার থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে জানান, তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলেছেন। বুড়িচং থানা ও দেবিদ্বার থানা পুলিশ যৌথ অভিযানের মাধ্যমে আসামীদের গ্রেফতার করা হবে। প্রেমুবাসীর নিরাপত্তায় সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply