মনোহরগঞ্জে ৪১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

আকবর হোসেন, মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি :–

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৪১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ এখনও শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ দিন এই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের কারণে অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সবকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে নানা সংকট। ফলে ব্যাহত হচ্ছে হাজার হাজার কোমলমতি শিশুর শিক্ষার পরিবেশ। এতে অভিভাবকার ঝুঁকছেন কিন্ডারগার্টেনের দিকে। এছাড়াও ৭০টি সাহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘ দিন থেকে শূন্য রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪১টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নেই। তাছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৭০টি পদ শূন্য রয়েছে। মহোহরঞ্জে যে সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য সেগুলোহল, কাঁচি উত্তর, বাতাচৌ, নারারপাড়, বড় উত্তর হাওলা, দক্ষিন ফেনুয়া, উলুপাড়া, ঠেংগারবাম, হাতিয়ামুড়ি পশ্চিম, বানঘর, দক্ষিন নারায়নপুর, নরহরিপুর, মির্জাপুর, শ্রীপুর, ভাউপুর পূর্ব, শাহাপুর পশ্চিম, জনতা বাজার, নোয়াগাঁও, ডুমুরিয়া, পরানপুর, ফেনুয়া, ভরল্লা, তাহেরপুর, লক্ষনপুর, কান্দিরপাড়, খরখরিয়া, সমশেরপুর, হাজীপুরা, মৈশাতুয়া, পোমগাঁও, দৈয়ারা, বাদুয়াড়া, বুরপিষ্ট, হাওরা, উদাইশ, মান্দারগাঁও, বড় চাঁদপুর, সরষপুর, শাহাপুর, ভাউপুর, মনিপুর, নরপাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ৪১টি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য। এদিকে বর্তমান সরকার ১৫শ নতুন বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের কাঁশই, মৈশাতুয়া ইউনিয়নের ছিখুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। জানা গেছে শিক্ষদের বদলী, অবসর গ্রহন, মৃত্যুবরণ, চাকরি পরিত্যগ সহ বিভিন্ন কারনে প্রতি মাসেই শূন্য পদের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যান্য বিদ্যালয় থেকে ২/৩ জন করে ডেপুটেশনে নেয়া শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম। এতে করে শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম বিপর্যস্ত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে বিঘœ ঘটার পাশাপাশি কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনেও পিছিয়ে পড়ছে এই বিদ্যালয় গুলো। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ের শিক্ষার মান নাজুক হয়ে পড়ায় অভিভাকরা শিশুদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বেসরকারি নামি দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর চিন্তা করছেন। অনেক বিদ্যালয়ে মাত্র এক-দু’জন শিক্ষক-শিক্ষীকা রয়েছেন এতে দু’এক জন শিক্ষক-শিক্ষীকার পক্ষে সব শ্রেণি কক্ষে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। মনোহরগঞ্জের একাদিক অভিভাবক জানান, বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। মনোহরগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা অফিসার কাজী মফিজ উদ্দিন জানান, অবসর গ্রহনের কারণে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষদের পদ শূন্য হয়। প্রধান শিক্ষাক ও সহকারী শিক্ষকপদে শূন্য তালিকা শিক্ষামন্ত্রণালয় সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। প্রধান শূন্য বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য সকল কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সিনিয়র সহকারী শিক্ষদের পদোন্নতির কাগজ পত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply