বুড়িচংয়ে সম্পত্তির দলিল না দেয়ায় বৃদ্ধা ‘মা’ কে পিটিয়ে আহত করেছে সন্তানরা

মো. জাকির হোসেন :–

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মিথলমা গ্রামে সম্পত্তির দলিল না দেয়ার জন্মদাত্রী বৃদ্ধা মা ও অপর এক ভাইকে পিটিয়ে আহত ও বাড়ী ঘর ভাংচুর করেছে অপর দুই ভাই এবং তাদের স্ত্রী সন্তানরা। এ ঘটনায় আহতের অপর ছেলে বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের মিথলমা গ্রামে আঃ গফুর ৪ ছেলে ও স্ত্রীকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। আবদুল গফুরের মৃত্যুরপর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ভাইদের মধ্যে ভাগ বন্টন হয় নাই। সম্প্রতি আবদুল গফুরের স্ত্রী করফুলের নেছা (৭০) বার্ধক্য জনিত কারনে শারীরিক ভাবে কিছুটা অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। করফুলের নেছা তার ছেলেদের ডেকে জানান কিছু দিনের মধ্যে তাদের পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি তাদের মধ্যে ভাগ বন্টন করে দেয়া হবে। এতে করফুলের নেছার ছেলে আঃ সামাদ (৫০), মোঃ কামাল হোসেন (৩৫), আঃ সামাদের ছেলে কামরুল ইসলাম (২৫), সামাদের স্ত্রী রাশেদা খাতুন (৪৫), কামাল হোসেনের স্ত্রী হনুফা বেগম(৩০), করফুলের নেছার প্রবাসী আরেক ছেলে মোস্তফার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম (৩৫) করফুলের নেছার কথা অমান্য করে রবিবার বিকালে বলে এই মূহুর্তে তাদের নামে জমির দলিল রেজিষ্ট্রী করে দিতে হবে। এতে করফুলের নেছা অপারগত প্রকাশ করলে উপরোক্তরা করফুলের নেছাকে এলোপাথারী কিল, ঘুষি, লাথি ও লাঠি-সোটা দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এসময় করফুলের নেছার চিৎকারে বাড়ী সংলগ্ন দোকান থেকে তার অপর ছেলে মোঃ সেলিম দৌড়ে এসে মাকে বাঁচানোর চেষ্ঠা চালালে তাকেও মারধর করে। এসময় বাড়ীর লোকজন এগিয়ে আসলে পড়ে দেখে নেবে বলে আঃ সামাদের লোকজন চলে যায়। স্থানীয়রা আহত করফুলের নেছাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে পাঠায়। করফুলের নেছার অপর ছেলে মোঃ সেলিম তাকে ভরন পোষন ও চিকিৎসা করার কারনে আঃ সামাদ গংরা তাকে হুমকী ধমকী দিয়ে পরে দেখে নেবে বলে চলে যায়। পরদিন রাত্র অনুমান ৮ টায় মোঃ সেলিম বাড়ী সংলগ্ন তার দোকানে ছোট মেয়ে তানজিনা আক্তার (১২) কে বসিয়ে স্থানীয় আবিদপুর বাজারে যায় দোকানের জন্য মালামাল আনতে। এসময় আঃ সামাদ গংরা বাড়ীতে পুরুষ শূন্যতার সুযোগ নিয়ে দা, ছেনী, লাঠি-ছোটা নিয়ে সেলিমের দোকানে হামলা চালিয়ে তার ছোট মেয়েকে মারধর করে দোকান থেকে বের করে দেয়। পরে দোকানের বিদ্যুতের লাইন কেটে দোকানের থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়। তানজিনা আক্তারের আত্মচিৎকারে তার মা অর্থাৎ সেলিমের স্ত্রী রোকসানা বেগম ঘর থেকে বাহিরে আসলে তার উপরও হামলা চালায়। সে প্রান ভয়ে ঘরের ভিতর আশ্রয় নিলে আঃ সামাদ ও তার সাথে থাকা লোকজন সেলিমের ঘরে প্রবেশ করে সুকেস, আলমিরা, খাট ও মুল্যবান মালামাল ভাংচুর করে। এসময় সুকেসের ড্রয়ারে থাকা নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তাদের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসতে থাকলে আঃ সামাদ তার দলবল নিয়ে চলে যায়। সেলিম খবর পেয়ে বাড়ীতে এসে তার স্ত্রী ও কন্যাকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়। পরে স্থানীয় সর্দার মাতাব্বরদের জানিয়ে আপোষ মিমাংসায় ব্যার্থ হয়ে উপরোক্তদের আসামী করে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করে, মামলা নং- ২৭, তারিখ- ০৯/১১/২০১৪ইং। মামলার প্রেক্ষতে গতকাল বুড়িচং থানাধীন দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ীর এস আই নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্ঠা চালায়। তবে সকল আসামীরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply