কুমিল্লায় মেজর গণির মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

আজিম উল্যাহ হানিফ:–

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা, ভাষা আন্দোলনের অগ্র সৈনিক ও প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য, মেজর এম এ গণির ৫৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সেনাবাহিনী, মেজর গণি পরিষদ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার কুমিল্লা সেনানিবাসে তাঁর সমাধিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর মেজর গণি পরিষদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে গণি পরিষদ ও পরিবারের সদস্যরা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।। এ সময় সংগঠনের সদস্য সচিব শাহজাহান ভূইয়া,সদস্য সালাউদ্দিন,সফিউল আজম রিপন মৈশান,আনোয়ার হোসেন,শামছুল আলম,ইকবাল হোসেন খন্দকার,মহিউদ্দিন,জহিরুল ইসলাম,মিঠুন সর্দার,ছানাউল্লাহ বাদল,গাজী শাহআলম,আবুল কালাম,মিজানুর রহমান লিটন,আবু হানিফ,ফয়সাল আহমেদ,সোহেল শেখ,কাউসার চৌধুরী,সাইফুল ইসলাম,জাহিদ হাসান জনি ও জাবেদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মেজর গণির জন্মস্থান কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নাগাইসে বাদ আছর দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে একই দিনে বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনেও মেজর গণির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মেজর গণি পরিষদের সূত্র জানায়,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বাঙ্গালি সৈন্যদের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে মেজর গণি তৎকালীন ব্রিটিশ সেনা বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল স্যার মেসারভিকে এক আবেদন পত্রে বাঙ্গালী মুসলমানদের নিয়ে একটি আলাদা রেজিমেন্ট গঠনের দাবি উপস্থাপন করেন। তার এই যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে সে সময় স্যার মেসারভি মেজর গণির এ দাবি বাস্তবায়নে সহায়তা করেছিলেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাঁজা নাজিমউদ্দিনের কাছেও মেজর গণির বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। মেজর গণি ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অগ্রযাত্রা শুরু করেন। মেজর আব্দুর গনির জন্ম ১৯১৫ সালের ১লা ডিসেম্বর কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাগাইশ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। ১৯৪১ সালে মেজর গণি যোগ দেন ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাইনিয়র কোরে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে। ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠার দিন কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে এক চা চক্রে তদানীন্তন জিওসি ব্রিগিডিয়ার আইয়ুব খান ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যদের উর্দু ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দিলে মেজর গণি তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন, পাঞ্জাব রেজিমেন্টের সৈন্যরা পাঞ্জাবী ভাষায় কথা বলতে পারলে বাঙ্গালী সৈন্যরা বাংলা ভাষাতেই কথা বলবে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠার পর তিনি যে স্বস্তি পেয়েছিলেন তা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ পাকিস্তানী শাসকরা তাঁকে পদোন্নতি থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে বঞ্চিত করে রাখে। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ১৯৫৩ সালে সামরিক চাকরি থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর মেজর গণি যোগ দেন রাজনীতিতে। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক আইন সভার নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজ জেলা কুমিল্লার বুড়িচং নির্বাচনী এলাকা থেকে বিপুল ভোটে আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৫৭ সালে জার্মানী ফ্রাঙ্কফুট শহরে বিশ্বের সাবেক সেনাদের সম্মেলন অংশ গ্রহণকালে তিনি হৃদরোগে অক্রান্ত হন। মাত্র ৪২ বছর বয়সে ওই বছরের ১১নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply