ডির্ভোস দিতে রাজি না হওয়ায় মুরাদনগরে পাষন্ড স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি :–

ডিভোর্স পেপারে স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় পাষন্ড স্বামী কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সোলায়মান ওরফে সুমন কর্তৃক স্ত্রী চুমকি বেগমকে নির্যাতন করে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের পালাসুতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অবশ্য, পরে মিডিয়া কর্মীদের চাপের মূখে পুলিশ নির্যাতিত মেয়েটিকে উদ্ধার করে মা-বাবার হেফাজতে দিয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ মামলা হয়নি বলে জানা গেছে।
নির্যাতনের শিকার চুমকি বেগম জনান, তিন বছর আগে পালাসুতা গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে সোলায়মান ওরফে সুমন কিশোরগঞ্জ সেনানিবাসে সেনা সদস্যের চাকরি করাকালে তার সাথে পরিচয় হয়। চুমকি কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার বশাকপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। এ সুবাদে ওই সেনা সদস্য চুমকি বেগমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে শারীরিক ও দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর মধ্যেই চুমকি বেগম বার বার বিয়ের কথা বললে সে তার পদোন্নতির কথা বলে ঘুরাতে থাকে। অনেক চাপাচাপি করায় ২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারী স্থানীয় একটি কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। বিয়ের পর থেকেই ওই সেনা সদস্য স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছে। শনিবার বিকালে সেনা সদস্য সোলায়মান তার স্ত্রীকে পালাসুতা মাদরাসা সংলগ্ন বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। তখন তাকে ডিভোর্স পেপারে স্বাক্ষর করার জন্য বলা হলে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় স্ত্রীর ওপর নির্যাতন।
বিষয়টি জানতে পেরে রোববার রাতে দারোরা ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম চুমকি বেগমকে উদ্ধার করে থানায় নিলে ওই সেনা সদস্যের প্রভাবে ওসি (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র ভট্ট অভিযোগ গ্রহন না করে উল্টো নির্যাতিত চুমকি বেগমসহ উদ্ধারকারীদের শাসিয়ে অভিযুক্তদের কাছেই ফেরত পাঠায়। সরেজমিন পরিদর্শন কালে এলাকাবাসী জানায়, চুমকি বেগম শনিবার দুপুর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত পালাসুতা মাদ্রাসা সংলগ্ন বাড়িতে নির্যাতনের মুখে আটকাবস্থায় ছিল। পরে মিডিয়া কর্মীদের চাপের মুখে পুলিশ সোমবার বিকেলে নির্যাতিন চুমকি বেগমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ওসি (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র ভট্ট জানান, ‘স্বামী না চাইলে স্ত্রী কখনো ঘর সংসার করতে পারবে না’। মেয়ের অভিভাবক ও নেতা-কর্মীরা আপোস-মিমাংসার কথা বলে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছিল। পরে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রভাহিত হওয়ার খবর শুনে তাকে উদ্ধার করে রাতেই মা-বাবার হেফাজতে দেয়া হয়েছে। মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজিম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply