পাগল মেলায় আয়োজক দয়াল সুজনের আস্তানা ভক্তদের ভীড়ে মূখরিত

মো জাকির হোসেন :–

কুমিল্লার প্রত্যন্ত জনপদ বৈশেরকোট। জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নুরুল ইসলাম সুজন ওরফে দয়ালের। ছোটবেলা থেকেই সাধক চাচা নোয়াব আলীর সান্নিধ্যে এসে ধর্মের প্রতি অনুরাগ জন্মে। এরপর থেকে লেখাপড়া চালিয়ে গেলেও চাচার অনুসৃত পথ থেকে তিনি সরে যাননি। এক সময় দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রী সম্পন্ন করে ধর্মীয় অনুরাগীতে জড়িয়ে পড়েন। মানুষের সুখ-দুখের পাশাপাশি ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িয়ে এক সময় তিনি রাজধানী ঢাকার সুবিখ্যাত হাইকোর্টের মাজারে আবস্থান নেয়। সেখানে দীঘদিন অবস্থানের পর মাজারে আসা ভক্ত বৃন্দরা তার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে দয়াল খেতাব দেয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্নভাবে মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। নিজ গ্রাম বৈশেরকোটে আস্তানা গড়েছেন। আর দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ভক্তবৃন্দরা প্রতিদিন তার আস্তানায় আসছেন দয়ালের দোয়া নিতে। তিনি তাদের ধর্মীয় বিভিন্ন উপদেশ সহ নানা বৈষয়িক বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছেন। ভক্তরা তার দরবার মাতিয়ে রাখেন কখনো ধর্মীয় আলোচনা আবার কখনো মারফতি, শরীয়তি বা আধ্যাত্বিক গানে। আর এভাবে মূখরিত হচ্ছে বৈশেরকোট গ্রাম।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বৈশেরকোট গ্রাম। নুরুল ইসলাম সুজন ওরফে দয়ালের প্রেমে পাগল হয়ে প্রতিদিন সেখানে ছুটে আসছে অনেক ভক্ত, অনূরাগী। মূখরিত হয়ে উঠে প্রত্যন্ত এই জনপদ। দিনভর চলে আলোচনা, গান। সেখানে দেখা হয় কুষ্টিয়া থেকে আসা ভক্ত খায়রুল বাশারের সাথে। তিনি বলেন, দয়াল আধ্যাতিœক জগতের মানুষ। দুনিয়ার ভোগ বিলাসে তার কোন খেয়াল নেই। তার আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, দয়ালের গুনে/প্রেমে মুগ্ধ হয়ে তার সান্নিধ্য লাভের আশায় এখানে ছুটে আসি। বাউল প্রেমিক এই খায়রুল বাশার একজন লালনের অন্ধ ভক্ত। দয়ালের আস্তানায় তিনি লালন গীতি ছাড়াও বিভিন্ন আধ্যাতিœক গান গেয়ে ভক্ত/আশেকানদের মাতিয়ে রাখেন। আস্তানায় আরো দেখা হয় নরসিংদীর বেলাবোর ফয়েজ আহমেদ মেম্বার, নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের অমল, ময়মনসিংহের গফফরগাঁওয়ের সালাম, কুমিল্লার লালমাইয়ের সোহাগ প্রমূখের সাথে। ভক্তবৃন্দরা বিভিন্ন স্থান থেকে এসে যেন নিজেদের মাঝে একটা যোগসূত্র তৈরী করেছেন। তাইতো দয়ালের আস্তায় গিয়ে দেখা যায় দেশের একেক অঞ্চল থেকে আসা একেক জনের কেউ ঢোল, কেউ তবলা, কেউ দোতরা, বেহেলা কেউবা করতাল হাতে নিয়ে গানের আসর জুড়ে বসেছেন। আর এভাবেই প্রতিদিন মূখরিত থাকে প্রত্যন্ত জনপদের এই বৈশেরকোট গ্রামের দয়ালের আস্তানা। স্থানীয় দীঘিরপাড় মোহনপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন জানান, নুরুল ইসলাম সুজন এই এলাকায় যত না জনপ্রিয় তার চেয়ে বেশী জনপ্রিয় দেশের অন্যান্য স্থানে। আর সেটার প্রমান মেলে দয়ালের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতিবছর কার্তিকের শুরুতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ ও বরুড়ার সীমানা ঘেষে থাকা আদীনা মূড়া পাহাড়ের চূড়ায় বিশ্ব পাগল মেলায় আসা হাজার হাজার ভক্তের ৭ দিন ব্যাপী মেলায় সমবেত হওয়া। বিগত ৬ বছর ধরে নুরুল ইসলাম সুজন ওরফে দয়াল বিখ্যাত আদীনা মূড়ার চূড়ায় হযরত ওয়ারেস করণী (রঃ) ও হযরত শাহ কামাল ইয়ামেনি (রঃ) এর দরবার শরীফ প্রাঙ্গন সহ আশপাশের এলাকায় এই মেলা পরিচালনা করে আসছেন। আর এতে চিশতিয়া তরিকত পন্থী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত অনুরাগী সমবেত হয়। যা ইতিমধ্যে বিশ্ব পাগল মেলা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।দয়াল নুরুল ইসলাম সুজন জানান,“ প্রেম ছাড়া জ্ঞান হয়না” এই আধ্যাতিœক মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে আগামীতে যেন এই পাগল মেলা আরো জাকজমকপূর্ণ হয় সে লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাবেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply