তিতাসে ঋতু পরিবর্তনকালে চোখ ওঠা রোগ বাড়ছে

নাজমুল করিম ফারুক :–

কুমিল্লার তিতাসে ঋতু পরিবর্তনকালে চোখ ওঠা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে এ রোগে শিশু, যুবক, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গরমের শেষ ও শীতের শুরুতে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে চোখ ওঠা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইনফেকশন বা কোনো কারণে চোখের লাইনিং বা আবরণ যদি উত্তেজিত হয়, তখন যে অবস্থা হয়, তাকে চোখ ওঠা বলে। সাধারণভাবে চোখ লাল হওয়া, চোখ খচখচ করা, চোখ সামান্য ব্যাথা করা, চোখে পিচুটি জমা এবং রোদে বা আলোতে তাকাতে কষ্ট হওয়া ও পানি পড়াকে বোঝানো হয়। বিশেষ করে রাতে ঘুমের পর সকালে উঠলে চোখের কোণে পিচুটি বা ময়লা জমতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। এই রোগকে সাধারণভাবে চিকিৎসকরা কনজাংটি ভাইটিস বা কনজাংটিভার প্রদাহ বলে থাকেন। তবে আক্রান্ত হলে সব সময় চোখে কালো চশমা ব্যবহার করলে নিজের ও অন্যদের জন্য ভালো।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এই রোগটির নাম ভাইরাল কনজানটিভিটিস। সাধারণত ৪/৫ দিনের মধ্যে এ রোগটি ভালো হয়ে যায়। পরিস্কার তুলা পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে চোখ পরিস্কার করলে স্বস্তি পাওয়া যায়। এ রোগে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তবে যখন চোখ থেকে ঘন হলুদ কিংবা সবুজাভ হলুদ রঙের তরল পদার্থ বের হয়, চোখ ব্যথা করলে, প্রচণ্ড সূর্যালোকে চোখ ব্যথা করলে, যখন চোখে একেবারেই কিছু দেখতে পারে না অথবা পারলেও দেখতে সমস্যা হয়, যখন পরিবেশগত বিষয়ে কিংবা কোনো এলার্জিক বস্তুর জন্য চোখে অসুবিধা অনুভব হয়, এছাড়া কোনো শিশুর বয়স যদি ২ মাসের কম হয়, চোখের পাতা যদি ফুলে উঠে কিংবা লাল হয়ে যায়, অর্থ্যাৎ যদি এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। তা না হলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়াসহ কর্ণিয়া সংযোজনের মতো অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply