খাদ্যে উদ্বৃত্ত কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা

আকবর হোসেন, মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:–

মনোহরগঞ্জ উপজেলা জলাঞ্চল নামে খ্যাত। এউপজেলা বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। গত বছর মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। এর মধ্যে ৭০ ভাগ ছিল হাইব্রিড ধান। এসব জমিতে ৪৮ হাজার ৩১ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হয়। বর্তমানে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বছরে খাদ্য চাহিদার পরিমাণ ৫১ হাজার ৫শ’ মেট্রিকটন। বোরো ধান এবং অন্যান্য ফসল মিলে মোট উৎপাদন হয়েছে ৫২ হাজার ৬৬৫ মেট্রিকটন। বর্তমানে মনোহরগঞ্জে ১ হাজার ১৬৫ মেট্রিকটন খাদ্য বেশি উৎপন্ন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাগণের মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক কর্মকাণ্ডের ফলে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এব্যাপারে কথা বলতে চাইলে মনোহরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার এস.এম গোলাম সারওয়ার জানান, গত মৌসুমে এই উপজেলায় বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ফলন হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমেও ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকদের আগ্রহ ও দীর্ঘ কষ্টের কারণে এরকম ভালো ফসল উৎপাদন হচ্ছে। তিনি বলেন, লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য আমরা কৃষকদের জমিতে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী স্থাপন করেছি। প্রদর্শনী কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার-বীজ ও কীটনাশক বিতরণ এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য এলসিসি, গুটি ইউরিয়া, এডব্লিউডি, সুষম সার, পার্চিংসহ বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তির উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া কৃষি বিভাগ ও বিএডিসি চাষীদের মধ্যে বিভিন্ন আধুনিক জাতের ধান বীজ সরবরাহ করেছে। সরকারিভাবে বিনামূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক বিতরণ ও মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণের তদারকি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও মনিটরিংয়ের কারণে গত বোরো মওসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানেও আমরা কৃষকদের জন্য এসকল সহযোগিতা করে আসছি। বোরো আবাদে এবারও মনোহরগঞ্জ উপজেলা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এতে উপজেলাটি আবারও খাদ্য উদ্বৃত্ত উপজেলা হিসেবে পরিগণিত হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply