নবীনগর উপজেলার নুরজাহানপুর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসির হামলায় মাদক ব্যবসায়ী খুন, বাড়িঘরে আগুন : অপর দিকে ভোলাচং থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার

সাধন সাহা জয়: নবীনগর :–

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নুরজাহানপুর গ্রামে রবিবার ভোরে বিক্ষুব্দ গ্রামবাসি হামলা চালিয়ে এলাকার চিহ্নিত দুই মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় এক মাদক বিক্রেতা নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। অপরদিকে উপজেলার ভোলাচং গ্রামের দোলাবাড়ি থেকে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, নুরজাহানপুর গ্রামের চিহ্নিত দুই মাদক ব্যবসায়ী মন্নাফ মিয়া ও মানিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। তাদের দুইজনের জন্য গ্রামবাসির যুবসমাজ ধ্বংশের পথে তাই এ কারণে এলাকাবাসি ওই দুই মাদক বিক্রেতার উপর প্রচন্ডভাবে ক্ষুব্ধ ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে মন্নাফের ভাই ও স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মানিক মিয়া শনিবার রাতে নরসিংদী থেকে বাড়িতে এসে গ্রামবাসিকে নানাভাবে শ্বাসায় ও গালাগালি করে। এক পর্যায়ে মানিক নরসিংদীর বড় ‘মস্তান’ দাবি করে গ্রামবাসিকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে গ্রামে বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্রামে আতংক সৃষ্টি করে।

গ্রামবাসি প্রচন্ডভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে মন্নাফ মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে বড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় গ্রামবাসির হামলায় মানিক মিয়া (৪৫) টেটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৩০), ছেলে সুমন (১৪) ও শাকিল (১৭) মারাত্মকভাবে আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে কুিমল্লায় প্রেরণ করা হয়।

নবীনগর সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) শাহরিয়ার আল মামুন ও থানার ওসি রূপক কুমার সাহা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার রোববার সকালে পৌর ৮নং ওয়ার্ড এলাকার ভোলাচং গ্রামের ডোলাবাড়ির সন্নিকটে একটি যোগিব্রীজ নামক পাশ থেকে সোনিয়া আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোনিয়া ডোলাবাড়ি গ্রামের বাতেন মিয়ার মেয়ে। পাশবিক নির্যাতনের পর সোনিয়াকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে এলাকাবাসি ধারণা করছেন। তবে পুলিশ পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়েটি ‘প্রতিবন্ধী ’বলে দাবি করেছে।
এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) শাহরিয়ার আল মামুন বলেন, ‘দুটি লাশই উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহত মানিক এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা ছিলেন। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি মাদক বিক্রেতাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply