মনোহরগঞ্জের মনিপুর স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: পাঠদান চলে মাঠে!

মোঃ আকবর হোসেন, মনোহরগঞ্জ :–

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি জরাজীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শ্রেণি পাঠদান চলে স্কুল মাঠে। বিদ্যালয়টি শ্রেণি কক্ষ ও বিভিন্ন সমস্যায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। জানাযায়, ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ বিদ্যালয়ের ফলাফল ভালো হয়ে আসছে। ২০১২ ও ২০১৩ সালের সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ ছাত্রছাত্রী পাশ করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২৫০ জন। ৬ জন শিক্ষকের বিপরীতে ৪ জন শিক্ষক তাদের পাঠদান চালিয়ে আসছেন। প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল রায় চৌধুরী জানায়, ২০১৩ সালের ৭ মে বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সে থেকেই শ্রেণি কক্ষের অভাবে বাধ্য হয়ে আমরা বিদ্যালয় মাঠে ক্লাস করে যাচ্ছি। বাড়তি ভবন না থাকায় বৃষ্টি এলে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসতে চায় না। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও ওই ভবনে দুটি শ্রেণির ক্লাস নেয়া হয়। শিক্ষকদের কোনো অফিস কক্ষ নেই। অনেক কষ্টে অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয়। অন্যান্য শ্রেণিসহ প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম আমরা মাঠে চালিয়ে আসছি। তাছাড়াও রোদ, বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যে তাদের পরীক্ষাগুলো নেয়া হচ্ছে। কারণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ছাড়া আর কোনো বাড়তি ভবন নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির প্রত্যেকটি কক্ষের মধ্যে বড় বড় ফাটল এবং জরাজীর্ণ। যে কোনো সময় ধ্বসে পড়তে পারে। প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, মাঠে ক্লাস ও পরীক্ষা নিলে ছাত্রছাত্রীদের মনোযোগ থাকে না। তারা এদিক সেদিক তাকিয়ে থাকে। বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন, বিদ্যুৎ সংযোগ, যাতায়াতের রাস্তা পাকাকরণ, আসবাবপত্র ও নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়টি এগিয়ে চলছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনির আহমদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ছাড়া অন্য কোনো বাড়তি ভবন না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ নিরুপায় হয়ে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর থেকেই শ্রেণি পাঠদান বাইরে চালিয়ে আসছে। এছাড়া পরীক্ষাগুলোও মাঠে নেয়া হচ্ছে।
ভবনের ব্যাপারে আমি গত চলতি বছরের ২৭ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করেছি। আমাদের লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলাম গত ৩০ মার্চ এই আবেদন পত্রে সুপারিশ করেন নতুন ভবন করে দেয়ার জন্য। এরপর গত ১ এপ্রিল ২০১৪ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এ বিদ্যালয়ের ভবনের ব্যাপারে আবেদন পত্রে সুপারিশ করে তা মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট প্রেরণ করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply