মতলব উত্তরে অসংক্রামক রোগ সংক্রান্ত গণসচেতনতার জন্য সেনসিটাইজেশন ও এ্যাডভোকেসী সভা

শামসুজ্জামান ডলার :–

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভা কক্ষে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রন সংক্রান্ত গণসচেতনতর জন্য সেনসিটাইজেশন ও এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে অবহিতকরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন- উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ শাহ আলম মোল্লা। মেডিকেল অফিসার ডা. আহমেদের সঞ্চালনায় অবহিতকরণ সভায় প্রোগ্রামের বিষয়ে আলোকপাত করেন- ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ডা. আহমেদুল আজিম। সভায় বক্তব্য বক্তব্য রাখেন- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ ইসমাইল হোসেন, এনডিসি প্রজেক্টের চট্রগ্রাস বিভাগীয় ফিল্ড কো- অর্ডিনেটর ডা. শাখাওয়াত হোসেন। সভায় উপজেলা বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী, সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় জানানো হয়, সারাদেশে অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রন প্রকল্পের মডেল হিসেবে মতলব উত্তর উপজেলা গড়ে তোলার প্রকল্প শুরু হয়। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির করে এনসিডি কনট্রোল প্রকল্প চালিত হবে। এর ফলে মতলব উত্তর অসংক্রামক রোগ উপজেলা প্রতিরোধ সম্ভব হবে। অসংক্রামক রোগ গুলোর মধ্যে আছে ক্যান্সার, তামাক ও ধুমপান গ্রহনজনিত রোগ সমূহ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হৃদরোগ প্রভৃতি। শুধুমাত্র খাদ্যাভাস পরিবর্তন, জীবনাচরন পরিবর্তনের মাধ্যমে এসকল রোগসমূহ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বাংলাদেশ অসংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকিতে রয়েছে। এ রোগ প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এবং এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না করলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। মানুষের মৃত্যু আশংকাজনক হারে বেড়ে যাবে এবং মরণব্যাধি ক্যান্সার ঘরে ঘরে দেখা দেবে। ডায়াবেটিস মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যাবে। এ হুঁশিয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক ব্যাধি (এনসিডি) নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রামের কর্মকর্তা বলেন, এ দেশে অসংক্রামক ব্যাধি বেড়েই চলছে। ডায়াবেটিস, হূদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার এবং ফুসফুস ক্যান্সার প্রতি বছর দ্বিগুণ হারে বাড়ছে বলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তথ্য আসছে। ডায়াবেটিস ব্যাপক হারে বাড়ছে। এর কারণ, ফাস্টফুড, হাঁটাহাঁটি কমিয়ে ফেলা, নগরায়নের নামে রাস্তাঘাট ও খোলা মাঠ দখল হয়ে যাওয়া ও ভেজাল খাদ্য সমাগ্রীর কারণে ডায়াবেটিস বেড়ে চলছে। আগামী ৩০ বছর এ অবস্থা চলতে থাকলে ডায়াবেটিস দ্বিগুণ হারে বাড়বে বলে সতর্ক করে দেন। বর্তমানে ঘরে ঘরে ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে খাদ্যাভাস পরিবর্তন ও ব্যায়ামসহ সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply