বুড়িচংয়ে প্রবাস ফেরত যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ

মো.জাকির হোসেন, বুড়িচং :–

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে পলাশ নামে প্রবাস ফেরত এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পূর্বে মেয়ের স্বজনরা প্রবাস ফেরৎ যুবকের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে তার ছোট ভাই ফয়সালকে মারধরসহ বাড়ী ঘরে লুটপাট চালায়।
স্থানীয় সূত্রে ও পলাশের মা মনোয়ারা বেগম জানায়, তার ছেলে মোঃ বাহার উদ্দিন পলাশ দেড় বছর পূর্বে মালদ্বীপে যায়। গত ৬ সেপ্টেম্বর ছুটি নিয়ে পলাশ দেশে আসে। দেশে আসার পর থেকে পার্শ্ববর্তী বাড়ীর ডাঃ ফরিদ উদ্দিনের নাতনী ও পীরযাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী আছমিন আক্তার অন্তু পলাশকে বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে ফোনে করে দেখা করার জন্য বলে। এতে পলাশ অনীহা প্রকাশ করলে আছমিন আক্তার অন্তু তার মোবাইল ফোনে ম্যাসেজসহ কাগজে লেখে একাধিক চিঠি পাঠায়। এক পর্যায়ে পলাশ আছমিন আক্তার অন্তুর সাথে দেখা করে। এসময় অন্তু জানায় পলাশকে ছাড়া সে বাঁচবে না। সে যদি তাকে বিয়ে না করে সে আত্মহত্যা করে তাঁকে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকী দেয়। পলাশ এ ঘটনাটি তার মাসহ এলাকার মাতাব্বর মোবারক হোসেন ড্রাইভারকে জানায়। এতে মোবারক হোসেন বিষয়টি সুরহা করে দেবে বলে পলাশের পরিবারকে আশ্বাস দেয়। গত শুক্রবার বিকেলে মোবারক হোসেন আছমিন আক্তার অন্তুর খালু মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি আছমিন আক্তার অন্তুর নানা ডাঃ ফরিদ উদ্দিনকে জানায় এবং ঘটনাটি দ্রুত সুরহা করার জন্য বলে। এতে ডাঃ ফরিদ উদ্দিন তার মেয়ে খোরশেদা বেগমসহ নাতনীকে জানায়। এদিকে ঘটনাটি এলাকায় লোক মূখে ছড়িয়ে পড়লে ডাঃ ফরিদ উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরদিন শনিবার রাতে ফরিদ উদ্দিন, তার ছেলে ছৈন উদ্দিন, জৈন উদ্দিনসহ ৫/৬ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে পলাশের বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা পলাশকে বাড়ীতে না পেয়ে তার ছোট ভাই ফয়সালকে কুপিয়ে ও তার মা মনোয়ারা বেগমকে পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত করে। এসময় সন্ত্রাসীরা ঘরে মধ্যে থাকা স্টীলের আলমারী, সু-কেচসহ বিভিন্ন মূল্যবান আসবাব পত্র ভাংচুর করে। এসময় তাদের আত্ম চিৎকারে স্থানীয় এলাকাবাসীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে। এদিকে হামলা ও লুটপাট চালিয়েও ক্ষান্ত হয়নি ডাঃ ফরিদ উদ্দিন ও তার লোকজন। পলাশের পরিবারের লোকজন তাদের চিকিৎসা ও গন্যমান্য ব্যাক্তিদের অবগত করার কাজে ব্যস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে ডাঃ ফরিদ উদ্দিনের মেয়ে খোরশেদা বেগম পরদিন পলাশকে আসামী করে বুড়িচং থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ পরদিন অর্থাৎ সোমবার সকালে পলাশকে বাড়ী থেকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। বাড়ী ঘরে হামলা চলিয়ে ও মারধর করে উল্টো মামলা দিয়ে গ্রেফতার করানোর ঘটনায় এলাকার মধ্যে চাঞ্চ্যলের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সর্দার মাতাব্বরদের দাবী ডাঃ ফরিদ উদ্দিন ও তাদের লোকজন এলাকার প্রভাবশালী বিধায় তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেহ দাঁড়াতে পারে না। বরং কেহ প্রতিবাদের করলে তাঁর এই পরিণতি হয়। এদিকে গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিনে পলাশের বাড়ীতে গেলে মাতাব্বর মোবারক হোসেন সহ এলাকার লোকজনের সম্মূখ্যে পলাশের মা আছমিন আক্তার অন্তুর দেয়া একাধিক চিঠি ও পালাশের ব্যবহৃত মোবাইলে অন্তুর দেয়া একাধিক ম্যাসেজ দেখায়। পলাশের মা অসুস্থ্য থাকায় সে বেশি কিছু বলতে পারছে না, শুধু একটি কথাই বলছেন অসহায়দের জন্য নাকি আল্লাহ আছেন, তাহলে আমার নিরপরাধ ছেলেকে কেন জেলে দেয়া হলো। সে তার নির্দোশ ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবী জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply