তিতাসে ৪টি কেন্দ্রে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬শ : প্রবেশপত্র বিতরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

নাজমুল করিম ফারুক,তিতাস প্রতিনিধি :–

কুমিল্লার তিতাসে ৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এবার জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৬শ ২১ জন। এসব পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র বিতরণকালে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার জেএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ৩টি কেন্দ্রের মধ্যে গাজীপুর খান বহুমুখী হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ১১৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। তার মধ্যে ৫৪৩ জন ছাত্র ও ৬০২ জন ছাত্রী। জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩১০ জনের মধ্যে ১১৯ জন ছাত্র ও ১৯১ জন ছাত্রী এবং বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলী আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬৬৯ জনের মধ্যে ২৯১ জন ছাত্র ও ৩৭৭ জন ছাত্রী রয়েছে। অপরদিকে জেডিসি পরীক্ষায় উপজেলার গাজীপুর আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৪৯৭ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৮০ জন ছাত্র ও ৩১৭ জন ছাত্রী রয়েছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে উপজেলার ৩টি বিদ্যালয়ের একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, প্রবেশপত্র সংগ্রহের সময় তাদের কাছ থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৩শ থেকে ৫শ টাকা আদায় করছে। তবে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অসুবিধার মধ্যে পড়ার আশংকায় কেউ এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করেনি। সরেজমিনের বুধবার উপজেলার ৩টি বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা গেছে, পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র সংগ্রহের জন্য গেলে তাদের কাছ থেকে ৩শ টাকা করে আদায় করছে। অপর একটি বিদ্যালয়ে আদায় করা হচ্ছে ৪শ টাকা এবং আরেকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রবেশপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত প্রবেশপত্রের টাকা অনেক আগেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করে নিয়েছে। হিসাব মতে, বোর্ডের নির্ধারিত ফি ১শ ৫০ টাকা হারে ১ হাজার ৬শ ২১ জন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১শ ৫০ টাকা আদায় করার বিধান থাকলেও গড়ে ৩শ টাকা হারে অর্থ্যাৎ অতিরিক্ত ২ লাখ ৪৩ হাজার ১শ ৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বোর্ডের নির্ধারিত ফি দিয়ে পরীক্ষার কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়; তাই বিভিন্ন খরচের জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মতামতের ভিত্তিতে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ারা চৌধুরীর নিকট মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি জানান, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই এবং বোর্ডের নির্ধারিত ফি সম্পর্কে আমি অবগত নই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিহা ফেরদৌসীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হচ্ছে বিষয়টি আমার জানা নেই তবে বিষয়টি আমি দেখবো।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply