মতলব উত্তরে জেএসসি’র মডেল টেষ্ট পরীক্ষার নামে ১৮ লক্ষাধিক টাকা বানিজ্য ॥ মডেল টেষ্টের ২দিন পরেই জেএসসি’র মূল পরীক্ষা

শামসুজ্জামান ডলার :–

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৫১টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মডেল টেষ্টের নামে চলছে অর্থ ১৮ লক্ষাধিক টাকা বানিজ্য। উপজেলার ৩৯টি উচ্চ বিদ্যালয়ে ও ১২টি মাদ্রাসায় একযুগে চলছে এই পরীক্ষা। বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেএসসি ও সমমানের এজাতীয় কোন মডেল টেষ্ট পরীক্ষা নেয়ার বিধান না থাকলেও এখানে তাই চলছে। কিন্তু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসন সবজেনেও তাদের নিরবতার কারনে অভিভাবকদের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমনকি মডেল টেষ্ট পরীক্ষা শেষ হবার মাত্র ২দিন পরেই জেএসসি’র মূল পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে। কাজেই মূল্যায়ন করার সময় কোথায় ? সবার মাঝে এখন এই একই প্রশ্ন।

উপজেলার ৩৯টি স্কুলের ৫ হাজার ৬৮২জন এবং ১২টি মাদ্রাসার ৩৮৯ জন সর্বসাকুল্যে ৬ হাজার ৭১ জন পরীক্ষার্থী এবছরের জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার মডেল টেষ্টে অংশ নিয়েছে। যাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০০টাকা থেকে শুরুকরে ৩৫০টাকা পর্যন্ত ফি হিসাবে উত্তোলন করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। আর হিসাবমতে এই উপজেলায় ৩০০ টাকা হারে ফি উত্তোলন করলে জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের থেকে উত্তোলিত হবার কথা ১৮লক্ষ ২১হাজার ৩শত টাকা। এই মডেল টেষ্ট পরীক্ষা গত ১৪অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৯ অক্টোবরে শেষ হবে। অথচ, পরীক্ষা শেষ হবার ২ দিন পরেই মূল জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। তবে এর মধ্যে মডেল টেষ্ট পরীক্ষার খাতা মূল্যান করে ফলাফল প্রকাশ করার সময় কোথায় ? এর মধ্যে মডেল টেষ্টের খাতা মূল্যায়ন করে ফলাফল প্রকাশ, পরীক্ষার্থীরা কোন্ কোন্ বিষয়ে ফলাফল খারাপ করেছে তা চিহ্নিত করে সেসব বিষয়ে আরো ভালো প্রস্তুতি নেয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কোন সময়ই থাকছেনা। এমনকি গত পর পর দু’বছরেও মডেল টেষ্টের নামে এ রকম অর্থ বানিজ্য হয়েছে এবং তখন উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই মডেল টেষ্টের ফলাফল প্রকাশের পূর্বেই মূল জেএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছিল। একবছরেও সেই একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে উপজেলার ৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬হাজার ৭১জন শিক্ষার্থীর সাথে মডেল টেষ্ট নামের এই অর্থ বানিজ্য কেন এমনটাই জিজ্ঞাসা উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের সচেতন অভিভাবকদের। এব্যপারে কিছু অভিভাবক প্রতিবাদ করেও কোন সুফল পায়নি বলে অভিযোগ করেন।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলার ছেংগারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোল্লা মোঃ বোরহান উদ্দিন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্কুলে ৩১০জন জেএসসি’র মডেল টেষ্ট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। মডেল টেষ্টের জন্য উপজেলার কোন স্কুল কত টাকা হারে ফি নিচ্ছে তা আমি জানি না তবে আমরা ফি নিয়েছি জনপ্রতি মাত্র ৩০০টাকা হারে।
মতলব উত্তর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী ওয়াহিদ মোঃ সালেহ বলেন, জেএসসি’র মডেল টেষ্ট পরীক্ষা নেয়া না নেয়ার ব্যপারে বিধিতে সুনির্দিষ্ট কিছুই বলা নাই। তবে এব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যস্থা নেয়ার জন্যে আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি।
মুঠোফোনে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করলেও তাঁর সাথে কথাবলা সম্ভব হয়নি।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply