কুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে খুন হয় গৃহশিক্ষক নজরুল

মো: কামাল উদ্দিন,কুমিল্লা :–

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরে খুন হয় গৃহশিক্ষক নজরুল ইসলাম। তাকে খুন করতে ইমরান নামের এক সহযোগিকে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া করে প্রবাসীর স্ত্রী। খুনের মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতারকৃত প্রবাসীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে এমনই চাঞ্চল্যকর জবানবন্ধী দিয়েছে। ঘটনার ৪দিন পর গত ৫ অক্টোবর জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আনন্দসার গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংক থেকে নজরুলের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরিয়ম বেগম কর্তৃক আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেনীর পশুরাম উপজেলার পূর্ব সাতকুটিয়া গ্রামের নবী উল্লাহর পুত্র নজরুল ইসলাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে লেখাপড়া করা অবস্থায় জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আনন্দসার গ্রামে মেস ভাড়া করে থাকতো এবং ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী জাকির হোসেনের মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে প্রাইভেট পড়াতো। এসময় প্রবাসীর স্ত্রী মরিয়ম বেগমের সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে তার দৃষ্টি পড়ে ছাত্রী সুমাইয়ার দিকে এবং সুমাইয়ার সঙ্গেও অনৈতিক কাজের চেষ্টা চালায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মরিয়ম পরকীয়া প্রেমিক নজরুলকে হত্যার জন্য চান্দিনার ইমরান নামের এক সহযোগিকে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া করে খুনের পরিকল্পনা করে। গত ১ অক্টোবর গভীর রাতে মরিয়ম মোবাইল ফোনে পরকিয়া প্রেমিক নজরুলকে কৌশলে বাড়ির পাশে ডেকে আনে। এসময় ভাড়াটিয়া খুনী ইমরান ও মরিয়ম তাকে ঝাপটে ধরে শ্বাসরোধ করে হাত-পা বেঁধে ও পেটে ছুরিকাঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর লাশ পার্শ্ববর্তী একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকে ফেলে দেয়। ৫ অক্টোবর পুলিশ নজরুলের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই স্বপন মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত খুনীদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম গতকাল শনিবার জানান, লাশ উদ্ধারের পর মোবাইল ট্রেকিং ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মরিয়ম, তার সদ্য দেশে ফেরা প্রবাসী স্বামী জাকির হোসেন ও তার মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মরিয়ম ইমরানের সহায়তায় নজরুলকে হত্যার কথা স্বীকার করে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাসরীন জাহানের আদালতে জবানবন্ধী প্রদান করে। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় প্রবাসী জাকির হোসেন ও তার মেয়ে সুমাইয়াকে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ইমরানকে আটক করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply