কুমিল্লা মহানগর আ’লীগের আহ্বায়ক পদের লড়াইয়ে ৩ নেতা

নজরুল ইসলাম দুলাল, কুমিল্লা :–

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার ৩ বছরেও গঠিত হয়নি মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীসহ অঙ্গসংগঠনের কোনো কমিটি। এ নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চলছে জোর লবিং। কবে কমিটি হবে তা কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না এলেও সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা বসে নেই। মহানগর আলীগের আহ্বায়ক পদের জন্য সদর আসনের এমপি আকম বাহাউদ্দিন বাহার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আফজল খান এবং কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কেন্দ্রে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দলের স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন খুব শিগগিরই ঘোষিত হবে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করার সম্ভাবনাই বেশি।
স্থানীয় সূত্র মতে, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হতে চেষ্টা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আফজল খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আকম বাহাউদ্দিন বাহার, জেলা পরিষদের প্রশাসক ওমর ফারুক। অপরদিকে সদস্য সচিব হতে চেষ্টা করছেন জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম শিকদার, তার ছোট ভাই জেলা (দক্ষিণ) ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কবিরুল ইসলাম শিকদার, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রুস্তম আলী, কুমিল্লা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা জানান, আশা করি আমাদের অতীতের কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে দলের নীতিনির্ধারকরা তরুণদের দায়িত্ব দেবেন। দলকে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আনতে তরুণদের বিকল্প নেই। বহু ভাগে বিভক্ত কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের জন্য যে মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন করা মোটেই সহজ হবে না তা বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করেই বোঝা যায়। সূত্র জানায়, আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলে বিবদমান গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ার আশংকা রয়েছে। সূত্র জানায়, সদরের সংসদ সদস্য হাজী বাহারের সঙ্গে দলের ৬ সংসদ সদস্যদের সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে। এছাড়া গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর আফজল খানের সঙ্গে স্থানীয় ওই সংসদ সদস্যদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আফজল খান-সমর্থিত নেতাকর্মীরা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আফজল খানের পরাজয়ের পেছনে সদর সংসদ সদস্যকে দায়ী করেন। তবে সদর সংসদ সদস্য হাজী বাহারও তাকে মেনে নিতে পারবেন না। ফলে ভেবে-চিন্তে কমিটি করা না গেলে সংঘাত-সংঘর্ষের সম্ভাবনার কথা জানান নেতাকর্মীরা। এছাড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ওমর ফারুক মহানগর আলীগের আহ্বায়ক হলে তাও মেনে নেবেন না দলের মূল স্রোতধারার নেতাসহ স্থানীয় এমপি ও তার অনুসারীরা। কুমিল্লা মহানগর যুবলীগ নেতা ও ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক জিএস আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদ বলেন, কুমিল্লা মহানগরের রাজনীতি পরিচালনা করার মতো সব যোগ্যতাই সদরের সংসদ সদস্য আকম বাহাউদ্দিনের রয়েছে। কুমিল্লার আলীগের রাজনীতির মঙ্গলের জন্যই হাজী বাহারকে প্রয়োজন। অন্যদিকে অধ্যক্ষ আফজল খানের বড় ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরান বলেন, অধ্যক্ষ আফজল খান কুমিল্লা আলীগের রাজনীতিতে একজন নিবেদিত প্রাণ। আমরা আশাবাদী দলের জন্য তার অতীত কর্মকাণ্ডের কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে মহানগর আলীগের দায়িত্ব দেবেন। তিনি মহানগরের দায়িত্ব পেলে কুমিল্লা আলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও মজবুত হবে। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, মহানগর কমিটি কবে হবে তা আমি জানি না। আর আমার নাম থাকবে কি থাকবে না এটা নিয়ে চিন্তা করি না। সব মিলিয়ে বলা যায়, কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক যেই হউক না কেন, কেউই একে অপরকে মেনে নেবে না। ফলে সংঘর্ষ অনিবার্য। তাই কেন্দ্রীয় নেতারা মহানগরের কমিটি দেয়া নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। তারাও কমিটি ঘোষণার পর সংঘর্ষের আশংকা করছেন। তাই মহানগরের কমিটি ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানায়, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply