চিরকুমার খলিলুর রহমান ফরিদ কুমিল্লার বাম রাজনৈতিক গুরুর ১৪ অক্টোবর তৃতীয় মৃতুবার্ষিকী

— মমিনুর রহমান বুলবুল

বাংলাদেশের একমাএ রাজনীতি প্রশিক্ষন কেন্দ্র নারায়নগঞ্জ জেলায় মদনপুরে সামাজিক বিজ্ঞান পরিষদ কেন্দ্রই ২০১১ইং ১৪ই অক্টোবর রোজ শুক্রবার সকাল বেলায় শেষ নিঃশাষ ত্যাগ করেন ।
১৯৪৩ সালের ২৫শে জানুয়ারী বৃহত্তর কুমিল্লার বর্তমান বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া গ্রামের মৌলভী মাজাহারুল হকের ৬ষ্ঠ সন্তান খলিলুর রহমান ফরিদ , বাবা কুমিল্লায় আইনজীবি হিসাবে প্রচুর সুনাম ছিল , মা লতিফা বেগম গৃহিনী ছিলেন ,মাএ ১১বৎসর বয়ষে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় কুমিল্লার প্রতিটি মিছিলে বন্ধুদেরকে নিয়ে অংশগ্রহন করেছেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফন্ডে নির্বাচনে ঊল্লেখ যোগ্য ভুমিকা ছিল । ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনে রিপোট বিরোধী আন্দোলনে নেত্বস্থানীয় ভুমিকা পালন করেছেন ।১৯৬৩ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্ত্তি হয়ে বাংলাদেশ ছাএ ইউনিয়নে যোগদান করেন , ১৯৬৪ সালে কুমিল্লার তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেছিলেন, তখন প্রথমটি ঢাকায় , দ্বিতীয়টি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু বর্তমানে কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে তিনি শুনে বা দেখে গিয়েছিলেন ,
খলিলুর রহমান ফরিদ অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে তৎকালিন বাংলাদেশ ছাএ ইউনিয়নের কপ মনোনিত প্রার্থী নরুল ইসলাম খাঁনকে তৎকালিন শিক্ষামন্ত্রি মফিজ উদ্দিন পরাজিত করে নির্বাচিত করা তার ভুমিকা স্বরনীয় হয়ে থাকবে । ১৯৬৫ -৬৬ সালে বাংলাদেশ ছাএ ইউণিয়নের সাধারন সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন তিনি ১টি সরকারী চাকুরী যোগদান করেও রাজনৈতিক কারনে চাকুরী ছেড়ে পুনরায় কুমিল্লা জেলা ন্যাপের সাধারন সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হন । ১৯৬৯ সালে গনঅভ্রুখানের সময় কুমিল্লায় বিশাল ভুমিকা পালন করেন ্ ১৯৭১সালে ২৫শে র্মাচ সেই কালোরাএিতে পাক বাহিনী যখন ঝাপিয়ে পড়েছে এদেশের সাধারন মানুষের উপর তখন খলিলুর রহমান ফরিদ দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েন এবং ২৯শে মার্চ প্রথম আগরতলা গিয়ে এিপুরার সি,পি,আই নেতা সরোজ চন্দ্র অগোর বর্মন ও মানিক চৌধুরীর সজ্ঞে আলাপ আলোচনা করে সোনামুড়া তামসাবাড়ীতে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেন । সেখানে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ এর নির্দেশে তৎকালিন ন্যাপের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আলতাফ হোসেন, সিপিবির সাধারন সম্পাদক বিরেন দত্ত, খোকা রায়, অনীল মুখ্যার্জী নেত্ববৃন্দ সোনামুড়া গিয়ে ন্যাপ, ছাএ ইউনিয়ন ও কমিউনিষ্ট পাটি নিয়ে যৌথ গেরিলাবাহিনী গঠন করেন এবং একটি সমন্বয় গঠন করেন , ন্যাপের ফরিদ ও ফয়েজউল্লাহ কমিউনিষ্ট পাটি আবদূল হাফিজ ও ছাএ ইউনিয়নের মাসুদুর রহমান প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করেন সেখানে মুক্তিযোদ্বাদের রন কৌশল বা ট্রেনিং দেওয়ার পর গেরিলাবাহিনীদেরকে সুসজ্জিত করে পাঠিয়ে দেওয়া হত পাক বাহিনীদেরকে জব্দ করার জন্য খলিলুর রহমান ফরিদ নিজে স্বয়ং মুক্তিযুদ্বে কমান্ডিং দায়িত্ব পালন করেন , মুক্তিযুদ্বকালিন সময়ে তিনি কয়েকবার মৃতুর মুখামুখি হয়েছেন, যুদ্বকালিন সময়ে তিনি কসবা ,সালদা, বাঞ্ছারামপুর,নলআড়া (ফতেয়াবাদ) এলাহাবাদ ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ এর বাড়ীতে মুক্তিযুদ্বের ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করে পাক বাহিনীকে বিভিন্ন কৌশলে জব্দ করে । মুক্তিযোদ্বে তার অপরিসীম অবদান ভাস্কর হয়ে থাকবে।
স্বাধীনতা পর ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটি দায়িত্ব পান , ১৯৮৭ সালে সৈরাচার বিরুধি আন্দোলনে সময় খলিলুর রহমান ফরিদ ৬ (ছয) মাস কাড়াভোগ করেন। ১৯৮৮সালে সমাজতন্ত্রের উপর ঊচ্চতর প্রশিক্ষনের জন্য সোভিয়েত রাশিয়া গমন করেন । তিনি ন্যাপের রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসাবে ,ধানমন্ডি,ফকিরাপুল,সবোপরি মদনপুরে সামাজিক বিজ্ঞান পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন । তিনি আমার রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু ছিলেন । আমি তার সজ্ঞে কিছুদিন থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম যখন কুমিল্লা উঃ জেলা ন্যাপ ও দেবিদ্বার থানা ন্যাপ সুযোগ সুবিদার বিনিময়ে আখলাছুর রহমান কে দলীয় সমার্থন দিয়েছিলেন , তখন অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল আজিজ খাঁনকে জয়যুক্ত করার জন্য কেন্দ্র থেকে এই খলিলুর রহমান, গোলাম ফারুক ও আমি মিলে ১০/১২ দিন এলাকায় থেকে একসাথে কাজ করেছি । সেই সময় ২/৩জনে কমপক্ষে ৩০টি জনসভায় আবদূল আজিজ খাঁনকে বা হাঁস মার্কার সমার্থন জানিয়ে ভোট ভিক্ষা প্রার্থনা করেছিলাম । সেই সময়ে তাকে আমি অতি কাছে থেকে দেখেছি ,তিনি অসম্ভব ভাল মানুষ ছিলেন, আচার আচরনে,চলনে ভুলনে,অমায়িক লোক ছিলেন ,পকেটে টাকা নেই অথচঃ আপ্যায়নের কমতি নেই ,কোন চাহিদা নেই, এমন মানুষ আর জীবনে দেখি কি-না জানিনা, একথা সত্য যে,তার থেকে কিছু শিক্ষনীয় আছে
তার লেখা একটি আমাকে দিয়েছিলেন ”ব্র্যত্যজনের পঙক্তিমালা”জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় থেকে বিচ্যুত হয়নি, সমাজ থেকে শোষন চিরতরে অবসান করতে গিয়ে কারাবরন করেন, নিজে দন্ডিত হন, অবহেলিত হন তিনি বাংলাদেশের একমাএ রাজনীতি প্রশিক্ষন কেন্দ্র নারায়নগঞ্জ জেলায় মদনপুরে সামাজিক বিজ্ঞান পরিষদ কেন্দ্রই ২০১১ইং ১৪ই অক্টোবর রোজ শুক্রবার সকাল বেলায় শেষ নিঃশাষ ত্যাগ করেন । তিনি চলে গেলেন রেখে গেলেন কিছু স্বৃতি ,কিছু দর্শন যা আমাদের জীবনে পাথেয় হয়ে থাকবে ।
সর্বশেষ ১৯৮৬ উপজেলা নির্বাচনে, দেবীদ্বার উপজেলা ন্যাপ দলীয় নির্দেশ অমান্য কারনে ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ , খলিলুর রহমান ফরিদ ও গোলাম ফারুক,কে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়, এই দায়িত্ব পালনে বেশ কিছুদিন দেবীদ্বারে অবস্থান করেন , ন্যাপ দ্বি ভিবক্ত হয়ে আমরা কিছু অংশ ফরিদ ভাই,র সাথে ১৫ দলীয় প্রার্থী আবদুল আজিজ খানের হাস মার্কার নির্বাজনে প্রতিটি জনসভায় তার সংগে আমিও ছিলাম, নেতা হিসাবে তার নির্বাচনী ব্যয় অন্য সকলের চেয়ে কম, সর্বদা নিজেকে দলীয় ব্যস্ততায় রাখতেন ।
আমি জানি ওনার অগনিত শ্রেতা ভক্তবৃন্দ ও শোভাকাঙ্খী রেখে গেছেন, চিরকুমার থাকার কারনে নি:সন্তান হয়েও অগনিত সন্তান তৈরী করে রেখে গেছেন, তিনি একদিন বলেছিলেন- তোমরাই তো আমাদের কথা স্বরন করবে , যখন আমরা থাকবো না, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা তাকে স্বর্গবাসী করো, সে কারো ক্ষতি করেছে এমন কথা কোনদিন কারো কাছে শুনি নাই ।

===================================
মমিনুর রহমান বুলবুল/শিক্ষক ও রাজনৈতিক
দেবিদ্বার, কুমিল্লা।

Check Also

দেবিদ্বারে অগ্নিকান্ডে ১কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ১৫টি ...

Leave a Reply