ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কি.মি.দীর্ঘ যানজট॥ যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ

আলমগীর হোসেন,দাউদকান্দি :–

দেশের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি ও চান্দিনা উপজেলায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কজুরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারনে আজ শুক্রবার দাউদকান্দি সেতু এলাকা থেকে চান্দিনা পর্যন্ত মহাসড়কে যানজট তীব্র আকার ধারন করে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম ও প্রধান সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগের এই সড়কটি একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে মহাসড়কটিকে ব্যস্ত করে তুলেছে। দেশের জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অন্যতম ব্যস্ত ব্যানিজ্যিক মহাসড়ক হওয়ায় পরিবহন সেক্টরে এর গুরুত্ব সর্বাধিক। অথচ এ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ে যাত্রীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ এর সাথে সাথে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। যানজটের কারনে মহাসড়কজুরে আটকা পড়া যানবাহনের যাত্রীদেরকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। ৩০ টাকার বাসভাড়া ৭০/৮০ টাকা, ১০ টাকার সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়া ৪০ টাকা, রিক্সা ভাড়াও দ্ধিগুন। বহু যাত্রী কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো রিক্সা করে, কখনোবা সিএনজি করে ৮/১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন বলে যাত্রীরা জানান। যাত্রীদের ১ ঘন্টার পথ যেতে সময় লেগেছে ৩/৪ ঘন্টা। বিশেষ করে যাত্রীরা ছোট শিশু, ভারী মালামাল, ব্যাগ ও এ্যাম্বুলেন্সে রোগীদেরকে নিয়ে পড়েন চরম বিপাকে। নাইট কোচের দূরগামী যানবাহনের যাত্রীদেরও পোহাতে হয়েছে চরম দুভোর্গ। যানজটে আটকা পড়ে যাত্রীরা সঠিক সময়ে পৌছতে পারেনি তাদের গন্তব্যস্থানে। বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ত এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি দ্রুত চার লেনে উন্নত করতে সরকারের সু-দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন। এতে মহাসড়কে ভোগান্তি ও দীর্ঘ যানজট অনেকটাই কমবে বলে যাত্রী ও চালকরা আশা প্রকাশ করেন। এদিকে যাত্রীদের পাশাপাশি ট্রাক বোঝাই কোরবানীর পশু নিয়ে যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তীর শিকার হয় ব্যবসায়ীরা। গরু ব্যবসায়ীরা জানান, সঠিক সময়ে গরু নিয়ে তাদের গন্তব্য স্থানে পৌছতে না পারলে গরুর বেশী খাবারের প্রয়োজন হয়। এছাড়াও একইস্থানে আটকা পড়ে থাকলে প্রচন্ড রোদ্রে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে চরম বিপাকে পড়তে হয় গরুর খাবার পানি নিয়ে। গরু ব্যবসায়ী ইদ্রিস মিয়া জানান, একটানা ৩ ঘন্টা গৌরীপুর যানজটে আটকা পড়ে আছি। অথচ এতক্ষনে আমার গরু নিয়ে নোয়াখালী পৌছার কথা ছিল। এভাবে যানজটে আটকা পড়ে থাকলে সঠিক সময়ে হাটে গরু বিক্রি না করতে পারলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের চাপও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে যানজট নিরশনে হাইওয়ে পুলিশকে আ-প্রাণ চেষ্ঠা চালাতে দেখা যায়। মহাসড়কের দাউদকান্দির গৌরীপুর পেন্নাই, আমিরাবাদ ও হরিপুর-জিংলাতলী এলাকায় যানজটের তীব্রতা বেশী দেখা যায়। ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, যানজট নিরশনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ অব্যহত রয়েছে। এদিকে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ নুর উল্লাহ পাঠোয়ারী জানান, আজ শুক্রবার সরকারী ছুটি থাকায় অন্যন্য দিনের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের চাপ রয়েছে। তবে সড়কজুরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যানজট নিরশনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে তীব্র যানজট অব্যবহত রয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply