কুমিল্লায় নৃশংসভাবে ছেলের হাতে পিতা খুন, খুনিকে ধরতে গিয়ে কলেজ ছাত্র গুলিবিদ্ধ

কুমিল্লা প্রতিনিধি-

কুমিল্লা পুলিশ লাইন মোড়ে রবিবার নৃশংসভাবে ছেলের হাতে খুন হলেন পিতা। খুনিকে ধরতে গিয়ে বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্ট্রিটিউটের ২য় বর্ষের ছাত্র আসাদ-উন-নুর নামে এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডটি টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার দুপুর ২টার সময় পুলিশ লাইনের মোড়ে এক আখ (কুইশর) ব্যবসায়ী ভ্যানে করে আখ বিক্রি করছিলেন। এমন সময় অজ্ঞাত এক লোক এসে আখ ব্যবসায়ীর হাত থেকে ধাড়ালো দা টি কেড়ে নিয়ে আখ ব্যবসায়ীকে এলোপাথাড়ী কোপাতে থাকে। তার মাথায়, শরীরে ও মুখমন্ডলে প্রায় ৮/১০ টি কোপ দেয় এবং শেষ পর্যায়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে উলঙ্গ হয়ে পাগল সেজে পালিয়ে যায়।
দিন দুপুরে হত্যাকান্ডটি ঘটলেও খুনীর হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় ও পাগল ভেবে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস করেনি এবং খুনী মুনির হত্যাকান্ডটি ঘটিয়ে নির্বিঘে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় এবং সাংবাদিকরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঐ খুনীর পিছু নিয়ে ধাওয়া করলে এক পর্যায়ে কুমিল্লা রামমালা সার্ভে ইনস্ট্রিটিউটের পুকুরের পানিতে নেমে যায় ঐ খুনী। এ সময় পুলিশ সার্ভে ইনস্ট্রিটিউটের ছাত্রদেরকে ঐ খুনীকে ধরে দিতে বলে। খুনীকে ধরতে ছাত্ররা পুকুরে ঝাপিয়ে পড়ে। ঠিক ঐ সময় পুলিশ খুনীকে লক্ষ্য করে শর্টগানের গুলি ছোড়ে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঐ ইনস্ট্রিটিউটের ২য় বর্ষের ছাত্র আসাদ-উন-নুর এর শরীরে বিদ্ধ হয়। প্রায় ২৫টি স্পিন্টার তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বিদ্ধ হয় এবং খুনী মুনির এর উপর মাত্র ১টি স্পিন্টার বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আসাদ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। আসাদকে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয় এবং সামান্য আহত অবস্থায় খুনী মুনিরকেও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে গিয়ে খুনিকে খুনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায় তার নাম মোঃ মুনির হোসেন। তার পিতার নাম ধন মিয়া। তাদের বাড়ী ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা থানার মেহার গ্রামে এবং তাকে এ প্রতিনিধি নৃশংসভাবে কোপানোর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে (খুনি মুনির) জানায় দীর্ঘ দিন ধরে আমার পিতা ধন মিয়ার সাথে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পিতাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়েছি এবং সে এ প্রতিনিধির কাছে জানতে চায় তার বাবা বেঁচে আছে কিনা।

এদিকে সার্ভে ইনষ্ট্রিটিউটের ছাত্ররা তাদের বন্ধু আসাদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা শুনে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ভিড় জমায়। এ সময় তারা অভিযোগ করে জানান, আসাদকে ২ ঘন্টা হলো মেডিকেল কলেজে আনা হয়েছে কিন্তু এখন সাড়ে চারটা পর্যন্ত চিকিৎসকরা কোন চিকিৎসা সেবা দেয়নি। একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগের সামনে ডাক্তারদের গাফিলতি ও অবহেলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। ডাক্তারদের গাফিলতির বিষয়ে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিনের সাথে কয়েকবার ফোনে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা কোতায়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম এর সাথে এ হত্যাকান্ডের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যে খুন করেছে তাকে আমি পাগল বলব না কারণ একজন পাগল এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে না। সুতরাং সে একজন ঠান্ডা মাথার খুনী। সাধারণ মানুষের হাত থেকে বাঁচার জন্য সে উলঙ্গ হয়ে পাগল সেজে পালানোর চেষ্টা করেছিল। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুন হওয়া ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। অপরদিকে খুনীকে ধরতে গিয়ে শর্টগানের গুলিতে আহত ছাত্র আসাদ-উন-নুর ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply