প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে দেবিদ্বারের সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল নিউইয়র্কে

মোঃ আক্তার হোসেন :–

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৬৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক গেছেন।
রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। পথিমধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি শেষে গভীর রাতে একই এয়ারলাইন্সের অপর একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে তিনি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোটর শোভাযাত্রা সহকারে নিউইয়র্কের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত এ যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান মন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্ক গেছেন দেবিদ্বারের সংসদ সদস্য এবং আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সীর ছেলে রাজী মোহাম্মদ ফখরুল মুন্সী। এছাড়াও প্রতিনিধি দলের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, ডা. দীপু মনি এমপি, মাহজাবিন খালেদ এমপি, নাজমুল হক প্রধান এমপি প্রমুখ। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও ভারতে সফর শেষ করে নিউইয়র্ক গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আব্দুস সোবহান শিকদার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদসহ সরকারের উচ্চ পদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তাও প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। এছাড়া ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন।
অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত জলবায়ু সম্মেলন ২০১৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের হলে আয়োজিত এ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখবেন। পরে শেখ হাসিনা জলবায়ু সম্মেলনের ‘জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনা ও অভিপ্রায় ঘোষণা’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সলবার্গ এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই দিন সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা প্রদত্ত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের দেয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি বেলারুশের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিয়াসনিকোভিচ এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। পরে শেখ হাসিনা জাতিসংঘের মহাসচিব প্রদত্ত মধ্যহ্নভোজে অংশ নিবেন। বিকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘শিক্ষা প্রথম, বৈশ্বিক উদ্যোগ’র উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং বক্তব্য রাখবেন। রাতে জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সম্মেলনে অংশ নেবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী ভয়েস অব আমেরিকা-কে সাক্ষাত্কার দেবেন। দুপুরে আমেরিকান চেম্বার ও আমেরিকান বিজনেস কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত মধ্যহ্নভোজে অংশগ্রহণ, নিউইয়র্কস্থ কাতারের স্থায়ী দূতাবাসে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি’র সাথে বৈঠক, জাতিসংঘের সদরদপ্তরে কমনওয়েলথ’র সভা ও কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের আলোচনা সভায় যোগদান, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈলারার সাথে বৈঠক এবং বাংলাদেশ হাউজে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন। ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেবেন। এই দিন বিকালে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য পদ লাভের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। বিকালে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশের স্থায়ী দূতাবাসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রতিবারের মত এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। দুপুরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় বৈশ্বিক নাগরিক উত্সব এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। ওই দিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। লন্ডনে একদিন যাত্রাবিরতি শেষে তিনি ১ অক্টোবর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। পরদিন সকালে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply