কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচন ও প্রবাসে গৃহাকুলতা

—দেলোয়ার জাহিদ

মা ও মাতৃভুমির জন্য প্রবাস থেকে কার না মন কাঁদে। দেশ থেকে কেউ কেউ বিদেশে আমাদের অভিজ্ঞতা ও অনুভুতির কথা জানতে চান. তারা হয়তো প্রবাসের জীবনকে অনেক সুখকর বলে মনে করেন। সৎভাবে এর জবাব দেয়া খুবই কঠিন, অন্ততঃ তাদের জন্যে, যাদের দেশে কিছু না কিছু জনসম্পৃত্ততা ছিলো বা এখনো আছে! স্মরণবেদনা তাদের কুড়ে কুড়ে খায়। মানসপটে অতীত-আর্তি ভেসে উঠে ক্ষণে ক্ষণে, হারানো দিনকে ফিরে পাবার আকাঙ্খা ও স্মৃতিবেদনায় ভরে উঠে মন।
মন ছুটে যায় কুমিল্লায়। ক’জন সাংবাদিক সুহৃদকে নিয়ে ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশন। কুমিল্লা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এড জহিরুল ইসলাম, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আলহাজ শাহ মোহাম্মেদ আলমগীর ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক বদরুল হুদা জেনুকে নিয়ে। কুমিল্লায় তাদের নতুন করে পরিচিত করে দেবার কোন প্রয়োজন নেই। সংশ্লিষ্ট সকলে সতর্ক অপেক্ষায় কুমিল্লা প্রেসক্লাবের অর্থবহ ভাল একটি নির্বাচনের।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে ঘিরে রংবেরং এর ফেইসবুক পোষ্টিং, প্রার্থীদের ভোটের জন্য আকুতি, আবেদন, নিবেদন,.. সব কিছুতেই যেন একটা পরিবর্তনের ছোয়া। সে পরিবর্তন কিছু আনন্দ বেদনার মাঝে আত্মগ্লানি ও এনে দেয় মনে, যে উচ্চতায় ছিলো কুমিল্লা প্রেসক্লাব তাকে আরো উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে পারিনি, স্বার্থহীন কোন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে পারিনি, আগামী প্রজন্মের জন্য সাংবাদিকতায় কোন আলোকবর্তিকা রেখে যেতে পারিনি। সীমাবদ্ধতার এ সীমাগুলো ডিঙ্গাতে ভরসার কোন ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারিনি, এমন সব ভাবনায় প্রবাসে যখন নিজের মন খুবই ভারাক্রান্ত, তখনই তথ্যপ্রযুক্তির সুবাদে এ প্রজন্মের ক’জন অনুজ বা সন্তানতুল্য সাংবাদিকের সাথে হয় সংযোগ, ওরা শুনালো কিছু আশার বাণী। আমাদের অসমাপ্ত কাজগুলোকে এগিয়ে নিতে চায় ওরা…জানতে চায় কোথা থেকে হয়েছিলো শুরু…যেতে হবে কোথায়…কতদূর!Comilla_Press_01 003
সময় কাটানোর বিবেচনায় কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে আমার সেকেন্ড হোম না বলে ফাষ্ট হোম বললেই হয়তো সুবিচার করা হতো। কুমিল্লা’র সাংবাদিকতা, সংগঠন ও খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে কেটেছে কত না সুখ-সময়। ১৯৮৫ সালের ১৬ই অক্টোবর ৩টি আগ্রহী সাংবাদিক সংগঠনের এক যৌথ সন্মেলনে কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, গণতন্ত্রায়ন ও পর্যায়ক্রমে সরকারী নিবন্ধন গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় । ১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব ক’টি নির্বাচনে আমি সভাপতি, অধ্যাপক আবদুস সামাদ কুমিল্লা প্রেসক্লাব এর সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে মনে পড়ে। কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে নিবিড়ভাবে গড়ে তুলতে আমার সাথে সক্রিয় ও অক্লান্তভাবে কাজ করেছিলেন গোলাম মাহফুজ, নজরুল ইসলাম বাবুল, আবদুল আজিজ মাসুদ, খায়রুল আহসান মানিক, সৈয়দ নূরুর রহমান, মরহুম বদিউল আমিন দুলাল, ফিরোজ মিয়া, আবুল কাশেম, আমিনুল হক, আলী আকবর মাসুম, শামীম আহসান, কুদরত-ই-খোদা, ওমর ফারুকী তাপস, রমিজ খান, শহীদউল্লাহ, জসিমউদ্দিন প্রমুখ। বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসে কুমিল্লার সাংবাদিকতাকে অর্থবহ ও সমৃদ্ধ করেছেন অনেকে. তাদের উৎসাহিত ও সংগঠিত করতে প্রতিটি উপজেলায় প্রেসক্লাব গঠন করা হয়েছিলো। প্রচেষ্টা ছিলো জেলা সদরের কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে একটি প্রতিনিধিত্বশীল প্রেসক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। প্রচেষ্টা ছিলো তরুন মেধাবী যুবকদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা। কুমিল্লা প্রেসক্লাব ছিলো একটি সমন্বিত পরিবার। সকলে সকলের সুখে দুঃখে জড়িয়ে ছিলো। পূণর্গঠনকালীন সময়ে ছিলো না উল্লেখযোগ্য তেমন কোন অর্থকরি, বা সম্পদ। সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিলো একতা, পারষ্পরিক বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধাবোধ এর শক্ত একটি ভিত্তির উপরই গড়ে উঠেছিলো কুমিল্লা প্রেসক্লাব।comilla_pressclub_02 004
কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে নৈপথ্যে পৃষ্টপোষকতা করেছিলেন দৈনিক রূপসী বাংলার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মরহুম অধ্যাপক আবদুল ওহাব এবং কোন এক পর্যায়ে এ প্রক্রিয়ায় শামিল হন মরহুম গোলাম মোস্তাফা চৌধুরী সহ অন্যান্যরা। কুমিল্লা’র সাংবাদিকতায় আরো যারা ছিলেন অগ্রজ ছিলেন তারা হলেন মরহুম ফজলে রাব্বী, মরহুম আফতাবুর রহমান ও কাজী মমতাজ উদ্দিন, আর তৎসময়ে তরুনদের মধ্যে অধ্যাপক আলী হোসেন, প্রদীপ সিংহ রায়, রেজাউল করিম শামীম, অশোক বড়ুয়া ও আবুল হাসানাত বাবুল সহ আরো ক’জন। cp08 001
কিভাবে যে সময় গড়িয়ে যায়, মনে হয় এ যেন সেদিনের কথা। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের পুনর্গঠন’র হয়ে গেছে ২৮ বছরের ও অধিক। স্মৃতিকাতর মন আজো প্রবাসে খুজে ফিরে কত না স্মৃতি। কুমিল্লা’র সাংবাদিকতা, সংগঠন ও এর ব্যাপ্তি এবং বিকাশের রয়েছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস। যা শুধু কুমিল্লা’র নয় দেশের সাংবাদিকতার ক্ষেত্র ও নেতৃত্বকে অনেকভাবেই সমৃদ্ধ, এবং বিকশিত করেছে। কাজ এর দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করে কাউকে বিব্রত করার কোন অভিপ্রায় নেই। তবে অন্ততঃ কটি সচিত্র নজির আগামী নেতৃত্ব বাছাইয়ে সুবিধার্থে তুলে ধরবো। যদি এর থেকে কোন অনুপ্রেরণা পাওয়ার থাকে তা হলে অবশ্যই এ লেখার স্বার্থকতা খুজে পাবো।

সাংবাদিকতা পেশা কোন ব্যবসা, চাটুকারিতা বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার নয়, এ পেশা আমাদের রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত হবার ও নয়, এ পেশার নিজস্ব কিছু ষ্পিরিট রয়েছে যারা একে ধারন করতে পারেন না তাদের জন্য এ পেশা নয়। কুমিল্লার অধিকাংশ সাংবাদিক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা, তাদের সবার জীবনেই কম-বেশী অভাব, অনটন, দুঃখ, বেদনা ও দারিদ্রের ছোয়া রয়েছে এবং তা থাকাটাই স্বাভাবিক। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠা সাংবাদিক পরিবারের অভিবাবক হিসেবে সৎ, সাহসী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রয়োজন এবং সে প্রয়োজনকে সামনে রেখেই কুমিল্লা প্রেসক্লাবের আসন্ন এ নির্বাচন। কাজেই এর গুরুত্ব সময়ের প্রেক্ষাপটে খুবই তাৎপর্য্যপূর্ণ।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে খুব শীঘ্র পরিবর্তন আসছে, আসছে আগামী দিনে… নবীন-প্রবীনের মিলন মেলা হবে এ প্রতিষ্ঠান। ঢাকা, চট্রগ্রামের পরই কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নাম উঠে আসতো আলোচনায়। কার্যক্রম ও পেশাদারীত্বের উল্লেখযোগ্য একটি কেন্দ্র ছিলো কুমিল্লা প্রেসক্লাব। তখন সোসাইটিস রেজিষ্ট্রশান এ্যাক্টের অধীনে নিবনন্ধন করে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের শুধু আইনী ভিত্তিই তৈরী করা হয়নি বরং সারাদেশের প্রেসক্লাবগুলোকে সংগঠিত হতে ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, নোয়াখালী, ময়মনসিং, জামালপুর, রাঙ্গামাটি, গাইবান্ধা জেলা সদর সহ অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও সাংবাদিকদের ডাকে ছুটে গিয়েছি। ঘরে অর্থাৎ কুমিল্লা প্রেসক্লাবের পূনর্গঠনের প্রচেষ্টাটি ছিলো নানা কারনে বেশ দূরহ । তবে তরুনদের সাথে নিয়ে সে দূর্গম পথ ও পাড়ি দিতে পেরেছি। অনেক বাধা ও প্রতিকুলতা অতিক্রম করে পূনর্গঠিত করেছি কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে। আজো কুমিল্লা প্রেসক্লাব সে ভিত্তির উপরই দাড়িয়ে। তাই সফলতার কৃতিত্বগুলো উৎসর্গ বা নিবেদন করবো সে তরুনদের যাদের নিয়ে কাজ করেছি। তাদের অবদানগুলো কোন বিলবোর্ডে নয় বরং প্রতিটি সাংবাদিকের হৃদয়ে যেন গেথে থাকে এটাই আগামী নেতৃত্বের কাছে প্রত্যাশা করবো। প্রত্যাশা করবো, যাদের সাহসী পদক্ষেপে কুমিল্লা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পেয়েছে তাদের নাম, পরিচতি রেজিষ্ট্রশান কর্তৃপক্ষ থেকে এনে তা ক্লাব সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। মরহুম অধ্যাপক আবদুল ওহাব, মরহুম গোলাম মোস্তাফা চৌধুরী, মরহুম ফজলে রাব্বী, মরহুম আফতাবুর রহমান, মরহুম মোহাম্মদ উল্লাহ কে প্রেসক্লাবের জীর্ণ ফটো ফ্রেমে বন্দী করার পরিহাস বন্ধ করে প্রতিবছরই তাদের জন্ম, মৃত্য বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হউক।
তাদের নামে স্মারক বক্তৃতামালার আয়োজন করা হোক। সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়নে ভিন্নমুখী প্রতিভাগুলো থেকে এ প্র্রজন্মের সাংবাদিকদের অনেক কিছুই শেখার আছে। আর স্নেহাস্পদ সাংবাদিক মরহুম বদিউল আমিন দুলাল ও মরহুম নওশাদ কবিরের স্মৃতিকে ও তুলে ধরা দরকার।
জীবনে বেশ কয়বারই মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে এসেছি…১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেনের একটি প্রাচীনসংবাদপত্র (ডেয়ারীও দে পন্তেভেদরা) তাদের ম্যাগাজিনে একটি সাক্ষাৎকার দেয়ার অনুরোধ জানালো। সে ২০০০ সালের কথা মাসাধিককাল হাসপাতালে থেকে সবে মুক্ত হয়েছি তারপর ও কথা বলতে রাজি হলাম। আমাকে নিয়ে প্রায় ৭০-৮০টি ছবি তোলার পর এক যায়গায় এসে ফটোগ্রাফার ধমকে দাড়ালো, বললো পেয়েছি…দেয়ালে লেখা লিভারেতাদ মানে লিবার্টি…সেখানের ছবিটিই তাদের প্রচ্ছদে স্থান পেলো। ওরা মানুষের জন্য কাজ করার ‘আমি আমার গর্বকে হারিয়ে ফেলেছি’ শিরনামে আমার সাক্ষাতকারটি ছাপালো । সেখানে ও প্রেসক্লাব প্রসঙ্গ এসেছে বেশ কয়বার [প্রচ্ছদ ও সাক্ষাতকারটি সংযুক্ত] ক্লাব, প্রচলিত ধারনায় একটি সাধারণ স্বার্থ বা উদ্দেশ্য দ্বারা গঠিত দুই বা অধিক মানুষের একটি সমিতি. একটি পরিসেবা ক্লাব, যেমনঃ স্বেচ্ছাসেবী বা দাতব্য কার্যকলাপের জন্য; শখ ও ক্রীড়া, সামাজিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম এবং বিনোদন ইত্যাদি. সে অর্থে কুমিল্লা প্রেসক্লাব হওয়ার কথা এর যেকোন একটি বা এর অধিক লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম। তৎসময়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের কার্য পরিধি নিয়েও মহল বিশেষ কিছু প্রশ্ন তুলে ছিলো। কারন অধিকাংশ সময়ই কুমিল্লা’র সংবাদ জাতীয় সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিতো। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের পুনর্গঠন পরবর্তী ক’টি কার্যক্রম ছবি সমেত উদারন হিসাবে এখানে তুলে ধরা হলো। যদি তা বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকদের কোনভাবে অনুপ্র্রেরণার খোড়াক যোগায়, তবেই উপস্থাপনে এর সার্থকতা।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের অতীত কার্যক্রমে জেলার প্রতিটি উপজেলায় এর শেকর গ্রথিত ছিলো, জেলার প্রতিটি পেশাজিবী ও শ্রমজীবি মানুষের মিলনষ্থল ছিলো কুমিল্লা প্রেসক্লাব। অব্যবস্থাপনা ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে, কুমিল্লার সাংবাদিকেরা ছিলো সদা সোচ্চার। মানবাধিকার লংঘনের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সেবাদানের এক অনন্য নজীর ও স্থাপন করেছিলো কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সংগঠিত তরুন সাংবাদিকেরা; এর কটি দৃষ্টান্ত হতে পারে ভবিষ্যতের জন্য অনুকরনীয় – যেমনঃ নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগন্জ উপজেলাধীন চরাঞ্চলগুলোতে জলোচ্ছাসের পর ত্রান বিতরন ও চরাঞ্চলের মানুষের হৃদয়স্পর্শী কতগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ, দাউদকান্দি’র চরাঞ্চলে লাঠিয়ালদের আক্রমনে মিশে যাওয়া এক বিরান জনপদের কথা, কুমিল্লা বিমানবন্দর এলাকার তৎকালে ১১ গ্রাম বাচাও আন্দোলন, হালিমা সুতাকলের শ্রমিকদের আন্দোলন, লাকসাম ও সদর দক্ষিন উপজেলার মাছের বাড়া অপসারন আন্দোলন নিস্পতিতে সক্রিয় ভুমিকা পালন, কৃষকদের আন্দোলনে সহায়তা -ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার কৃষিঋণ কারচুপির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, কুয়েত প্রত্যাগত শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে সহায়তা, মানবাধিকার বিষয়ক ষ্টোরী নিয়মিতভাবে প্রকাশ এবং কয়েকটি খুন ও বিচার ব্যবস্থায় চিহ্নিত দূর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষুরধার লিখনী, এমন অনেক কিছুই।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাথে কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে সেসময় সাংবাদিকদের সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব করতো পেশাগত যেকোন সমস্যায়। বাধা, বিপত্তি, নিপীড়ন, নিগ্রহ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে একসময় রুখে দাড়িয়েছে তারা। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব ঐক্যের বন্ধনে বেধে ছিলো সবাইকে। কুমিল্লায় এখন দেশের প্রায় সবগুলো গণমাধ্যমেরই ষ্টাফ রিপোর্টার বা জেলা প্রতিনিধি রয়েছে। কুমিল্লার সাংবাদিকতায় এসেছে নবীনের জোয়ার। একশ্রেনীর শিক্ষিত, মার্জিত ও মেধাবী তরুণের সন্মিলন ঘটেছে এ পেশায়। তাদের রয়েছে যে কোন দল ও রাজনৈতিক মতাদর্শের উদ্ধে উঠে কাজ করার প্রচেষ্টা। সাংবাদিকতার বিকাশে গঠনমূলক ভূমিকা রেখে আসছে নবীনেরা। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের মতো একটি প্রতিষ্ঠান এ প্রয়োজন মেটাতে পারে তাদের প্রশিক্ষিত করার মাধ্যমে। এতে গণতান্ত্রিক ও নির্লোভ নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে । মত ও পথের ভিন্নতা সত্বেও নীতি, নৈতিকতা, পেশাদারীত্বকে সন্মান প্রর্দশন করে বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সিটিজেন জার্নালিজমের পাদপীঠ কুমিল্লা প্রেসক্লাবে দলমতের উর্দ্ধে উঠে কাজ করতে হবে। গণতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব সৃষ্টটি করতে হবে এবং আগামী নির্বাচনে আবেগ তাড়িত না হয়ে সৎ ও গতিশীীল নেতৃত্বকে বেছে নিতে হবে। নবীন-প্রবীনের নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে আগামী দিনের কুমিল্লা প্রেসক্লাব।
মনে বলে ছুটে চলে যাই প্রেসক্লাবে…যার বেদনাবিধুর স্মৃতিগুলো আজো ঘুরে ফিরে মনে।
================================================
লেখকঃ দেলোয়ার জাহিদ, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা, কুমিল্লা প্রেসক্লাব ও কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি। ফোনঃ ১ (৭৮০) ২০০-৩৫৯২।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply