চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নানা দুর্নীতির অভিযোগ : কোনো দুর্নীতি হয়নি ——– সিভিল সার্জন

মিজানুর রহমান রানা :–

চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নানাপ্রকার দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সিভিল সার্জন কার্যালয় আহ্বানকৃত মনোহারী সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য সরবরাহের দরপত্র গ্রহণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে বদলী করা হয়েছে সিভিল সার্জন অফিসের স্টোর কিপার মোঃ রফিকুল ইসলামকে।
এ ব্যাপারে বদলিকৃত স্টোর কিপার জানান, আসলে আগের কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাকে বদলী করা হয়েছে। আগের বিষয়টি কী? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি নিরুত্তর থাকেন। পরে বলেন, ভাই আসলে চাকুরি করতে গেলে অনেক কিছুই হয়। এগুলো বলার বিষয় নয়। তবে তার কাছে মতলব উত্তর ও দক্ষিণের টেন্ডার ফাইল দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে রাজি হননি। ওই ফাইল কীভাবে পূরণ হয়েছে, আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা, সরকারি নিয়ম অনুসারে সব হয়েছে কিনা এসব বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, ভাই এই ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। হেড কার্ক আবুল হাশেম পাটওয়ারীর আছে এগুলো বিস্তারিত জানা যাবে, তার কাছে জিজ্ঞাসা করুন। তার স্বাক্ষর ছাড়া এ অফিসের কোনো কাজ হয় না।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন অফিসের হেডকার্ক আবুল হাশেম পাটওয়ারীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, এটা ঠিক, আমার স্বাক্ষরেই সব হয়। তবে আমরা এ সব ব্যাপারে স্বচ্ছতা বজায় রয়েছি। আপনি সিভিল সার্জন মহোদয়ের নিকট গেলে আমাদের কাজের বিষয়টি জানতে পারবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দরপত্রে অংশহগ্রহণকারী অনেক ঠিকাদারের দাখিলকৃত দরপত্রে কাটাছেঁড়া, ঘষা মাজা, ফুইড ব্যবহার, ভ্যাটের ঘর পূরণে অনিয়মের পরেও অর্থ ও প্রভাবের বিনিময়ে অসম্পূর্ণ অনেক দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে এই পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ বিভিন্ন ঠিকাদারের সাথে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মনোমালিণ্য চলছে। উৎকোচের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে খোদ ওই কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে অন্তঃকলহ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টোরকিপার মোঃ রফিকুল ইসলামকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ২০১৪-২০১৫ আর্থিক বছরের উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়, বব্যাধি কিনিক ও জেলার ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সমূহের জন্য পথ্য সামগ্রী, মনোহারী ও বিবিধ দ্রব্যাদি সরবরাহ এবং লিলেন ধোলাইয়ের নিমিত্তে প্রকৃত ঠিকাদার, সরবরাহকারী, খ্যাতনামা ব্যবসায়ীর নিকট হতে নির্ধারিত সিডিউলে সীলমোহরকৃত খামে দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেই মোতাবেক নির্ধারিত সময়ে শর্তাবলি পূরণপূর্বক ঠিকাদার ও সরবরাহকারীগণ গত ১৩ আগস্ট দরপত্র জমা দেন। এ েেত্র যে যে নিয়ম বা শর্তাবলি জুড়ে দেয়া হয়েছিল ওই সকল নিয়ম বা শর্তাবলি মোতাবেক ঠিকাদার বা সরবরাহকারীগণ তাদের সিডিউল জমা দিতে পারেনি। আর এই সকল ঠিকাদারের অনেকেই রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট ও প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের অসম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ সিডিউল বাতিল না করে এই সকল সিডিউল নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাটাছেঁড়া করে ঠিক করে তা বহাল রাখার বাণিজ্য করেন টেন্ডার প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি। এ কাজে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করলে চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টোরকিপারকে গত ৩১ আগস্ট শাহরাস্তিতে বদলি করা হয়।
দরপত্র জমার ক্ষেত্রে ঠিকাদারকে ২০১৩-২০১৪ আর্থিক সনের আয়কর সনদ, ২০১৪-২০১৫ আর্থিক সনের (হাল নাগাদ) ট্রেড লাইসেন্স, হালনাগাদ ব্যাংক সলভেন্সী, সনদের সত্যায়িত অনুলিপি (১ম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক নামের সীল ব্যবহৃত সত্যায়িত) এবং পথ্য ও মনোহারী দ্রব্যাদির মূল্য সংযোজন নিবন্ধীকরণ ভ্যাট (এগার সংখ্যা) সনদের সত্যায়িত কপি এবং স্বীকৃতি পত্র বা ফার্মের নিজস্ব প্যাডে স্বার সহ ঠিকাদারকে তার সীলমোহর প্রদান করে তা দরপত্রের সঙ্গে দাখিল করা, দাখিলকৃত দরপত্র পূরণে লেখায় কোনো প্রকার ঘষামাজা, কাটাছেঁড়া, লেখার উপরে লেখা, ফুইড ব্যবহার বা অসমাপ্ত দরপত্র দাখিল না করতে বলা হলেও অনেকেই মানেন না। অথচ অসম্পূর্ণ ঘষা মাজাকৃত দরপত্র দাখিলকারী ঠিকাদার বা সরবরাহকারীদের কাজ দেয়ার পাঁয়তারা হচ্ছে বলে আবেদনকারী ক’জন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন। তাদের কাছ থেকে আরো জানা যায়, টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে সিভিল সার্জনের সাথে টেন্ডার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত অনেকের মনোমালিন্য হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রুস্তম আলী বলেন, আসলেই দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ টেন্ডারের বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটিতে চাঁদপুরের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। এদেরকে ফাঁকি দিয়ে বা এড়িয়ে গিয়ে কিছু করার কোনো অবকাশ নেই। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনোপ্রকার অনিয়ম হয়নি। যা হয়েছে সকল নিয়ম-নীতিমালা মেনেই হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি এবং কোনো প্রকার ত্রুটিপূর্ণ কোনো টেন্ডারও গ্রহণ করা হয়নি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ে উল্লেখিত দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাথী ট্রেডার্স, মীম এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স মারিয়া ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ সুস্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন। তারা সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে দরপত্র গ্রহণ করে সঠিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে আহ্বান জানিয়েছেন।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply