নাঙ্গলকোটে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি সুবিধা নিচ্ছে শতাধিক অমুক্তিযোদ্ধা

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি :–

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে শতাধিক অমুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানী ভাতা উত্তোলণসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উপজেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করেছেন এমন ৯৪ জনের নাম বাতিলের দাবি জানিয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধমন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদনও করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলায় বর্তমানে সম্মানী ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩৯৮ জন। ওই তালিকার ৯৪ জনই অমুক্তিযোদ্ধা। আরও ৭ জন সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। সম্প্রতি ওই সন্দেহের তালিকার একজন চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাক্তন উপপরিচালক মোঃ ফয়েজ কবীরের সনদ বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশের অভিযোগ- কতিপয় কর্তাব্যক্তির যোগসাজসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরী করে শতাধিক অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকট প্রেরিত অভিযোগপত্র ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের করা তালিকা অনুযায়ী ভাতা উত্তোলণসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী অমুক্তিযোদ্ধারা হলেন- উপজেলার তালাচৌ গ্রামের মৃত আম্বর আলীর ছেলে জাকির হোসেন (গেজেট-৮৭৮), বেলঘর গ্রামের মৃত আঃ আজিজের ছেলে আঃ খালেক (২১২০), মদনপুর গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে মোশাররফ হোসেন (২০২৬), দঃ শাকতলী গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে মৃত জয়নাল আবেদীন (২১২৩), কাকৈরতলা গ্রামের মৃত রঙ্গু মিয়ার ছেলে আঃ বাশার (২০৫৫), ভোলাইন গ্রামের মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে তোফায়েল (২০১০/১৮৩৭), বাইয়ারা গ্রামের মৃত আসাদ আলীর ছেলে গোলাম হোসেন (১৮৮৫), পুজকরা গ্রামের মৃত আনা মিয়ার ছেলে আঃ ছাত্তার (১৯৬২), চাটিতলা গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে ছিদ্দিকুর রহমান (১৯৭০), কাদবা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে আঃ গফুর (১৮৬৬), ছোট তুগুরিয়া গ্রামের মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে আশেকে এলাহী (১৯৩১), দেওভান্ডার গ্রামের মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলাম (১৯৯৯), জিনিয়ারা গ্রামের মৃত টোকন আলীর ছেলে আঃ মতিন (২০০২), বাগড়া গ্রামের মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে আবুল কালাম (২১৮৬), বাঙ্গড্ডা গ্রামের মৃত ওসমান আলীর ছেলে আরিফুর রহমান (২০৪৪), একই গ্রামের মৃত রস্তুম আলীর ছেলে আলী আহম্মদ (২০৪১), পানকরা গ্রামের আতর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (১৮৮৩), চেহরিয়া গ্রামের মৃত হরিচন্দ্র দাসের ছেলে কমল রঞ্জন দাস (২০৫৭), খোসারপাড় গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে কুব্বাত হোসেন (২০৫৮), দৌলতপুর গ্রামের আলী আহম্মদের ছেলে আবুল হাসেম (২০৬০), রায়কোটের আলী আশরাফের ছেলে রুহুল আমিন (২৬৭), পূর্ব বামপাড়ার মৃত ননু মিয়ার ছেলে মৃত তনু মিয়া (২০৬৮), জোড্ডার মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে জয়নাল আবেদীন (২৭৪১ এম.বি), সাতবাড়িয়ার মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে মীর হোসেন (২২১০), চৌকুড়ির মৃত সামছুল হকের ছেলে মজিবুর হক (ভাতা বই-৩৩৫), ঝাটিয়াপাড়ার কালা মিয়ার ছেলে আঃ রশিদ (২০৭০), কাকৈরতলার মৃত আলী আশরাফের ছেলে আবুল কাশেম (২১০৮), দৌঁলখাড়’র আতর আলীর ছেলে মৃত মীর হোসেন, নুর পুরের আলী আজমের ছেলে ইব্রাহিম (২০৩৪), রায়কোটের আফছার উদ্দিন মোল্লার ছেলে রুহুল আমিন (২০৭৭), আইটপাড়ার জয়নাল আবেদীন (ভাতা-৩০৬), সাতবাড়িয়ার আবদুল লতিফের ছেলে মৃত ফয়েজ আহমেদ (২২১৩), নাইয়ারার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে সামছুল হক (ভাতা-৩১১), সাতবাড়িয়ার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মৃত আবদুল মালেক (ভাতা-৩১০), একই গ্রামের শেখ আহম্মদের ছেলে গোলাম মোস্তফা (২১৯৮), নাইয়ারার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে মৃত তালেব আলী (ভাতা-২৯৮), মোড়েশ্বরের আতু মিয়ার ছেলে আবদুল গফুর (ভাতা-২৯৯), তপবনের আবদুস ছোবহানের ছেলে নুরুল হক (ভাতা-৩০৩), বাঙ্গড্ডার আরব রহমানের ছেলে মৃত নুরুল হক (ভাতা-৩১০), করপাতির আলী আহম্মমের ছেলে মৃত মাহমুদুল হক (১৮৮৪), মদনপুরের মৃত ছেরাজুলের ছেলে রুহুল আমিন (২০২৮), নোয়াপাড়ার মজিবুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (ভাতা-৩৩৮), বাঙ্গড্ডার হোসেন আলীর ছেলে হায়তুন নবী (ভাতা- ৩৪৪), শরিফপুরের আবদুল গফুরের ছেলে আবদুল খালেক (ভাতা-৩৪৫), পূর্ব খাঁড়ঘরের মৃত আবিদ আলীর ছেলে আবদুল রহিম (২০৬৪), পানকরার ওয়ালী উল্লাহর ছেলে আবদুল মালেক (২০২৫), কাদবার আলী আজমের ছেলে মৃত হাছানুজ্জামান (২০৪৮), বাসুদাইয়ের মৃত মোফলেছুর রহমানের ছেলে মোঃ হোসেন চৌধুরী (ভাতা-৩৬৩), হেসাখালের মৃত আনা মিয়ার ছেলে কলিম উল্লাহ (১৯১৭), চন্দনার মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে আবদুল হাকিম (ভাতা-৩২৫), সাতবাড়িয়ার মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলৈ মীর হোসেন (২১০৫), দক্ষিণ মাহিনীর আবদুল গণির ছেলে মজিবুর রহমান (ভাতা-৩৬৪), ছুপুয়ার মৃত আনোয়ার উল্লাহর ছেলে হুমায়ন কবির (ভাতা-৩৭৪), অষ্টগ্রামের মৃত আবদুল আজিজের চেলে আবদুর রহমান (ভাতা- ৩৫৬), পুজকরার ওহেদ আলীর ছেলে সামছুল হক (ভাতা- ৩৬২), রূপাবেরী গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে অজিউল্লাহ (৪৮৪৩), বাঘমারার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে আবদুল জব্বার (২০৯১), বাসদাই গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে আবুল হোসেন (২১৬৬), গোমকোটের আহম্মদ আলীর ছেলে মৃত আবদুল হাকিম (বিমান-১৬৪), রাজাপাড়ার মৃত হাফিজ উল্লাহর ছেলে মমতাজ মিয়া (২১৫৩), আটিয়াবাড়ির আবদুল মজিদের ছেলে দ্বীন মোহাম্মদ (ভাতা-৩১৮), নাওগোদার বসু মিয়ার ছেলে আবদুল ওহাব (৮৮৫৪) ও নোয়াব আলী (ভাতা- ১৩৬), পুজকরার আনা মিয়ার ছেলে মোঃ জামান (২১০৫)। অমুক্তিযোদ্ধা হয়েও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এরা সবাই এবং তাদের পরিবার ভাতা উত্তোলণসহ সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। এসব অনিয়মের পেছনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসহাক মিয়াসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে। যারা টাকার বিনিময়ে এবং ক্ষমতার লোভে অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এসব অমু্িক্তযোদ্ধাদের সনদ বাতিলসহ এ দূর্নীতির সাথে জড়িত সকলের শাস্তি দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারিক সালমান বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। তাই এব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই। তবে নীতিমালা অনুযায়ী সম্মানী ভাতা পাওয়ার জন্য যে সকল যোগ্যতা এবং সনদ থাকা দরকার তা থাকলেই কেবল আমরা ভাতা দিচ্ছি। কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে অমুক্তিযোদ্ধা সেটা তদন্ত করবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসহাক মিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- নাঙ্গলকোটে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ৩৯৮জন ভাতা উত্তোলণ করেন। এখানে ভাতাপ্রাপ্ত সবাই কিন্তু একসাথে যুদ্ধ করেনি। তাই এখানে অমুক্তিযোদ্ধা থাকতেই পারে। তবে সেটা আমি সঠিকভাবে বলতে পারছিনা। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, এখানে নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল আছে। তাদের কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। এছাড়া লিখিত সু-নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও পাইনি। সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply