হোমনায় গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের পর গর্ভপাত

হোমনা প্রতিনিধি:–

হোমনা উপজেলায় এক গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের পর গর্ভপাত ঘটনোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণকারী গৃহকর্তা মো. লতিফ মিয়া (৫০) এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় সমাজপতিদের নিকট বিচার না পেয়ে রবিবার রাতে হোমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার ওই গৃহপরিচারিকাকে ডাক্তারি পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবসী সূত্রে জানা যায়, ছয় মাস আগে হোমনা পৌরসভা সদরে গৃহকর্তা মো. লতিফ মিয়ার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ নেয় ওপারচর গ্রামের ওই মেয়েটি। একপর্যায়ে লতিফ মিয়ার স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে ওই গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণ করেন লতিফ। তাঁর স্ত্রী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে এলে ওই গৃহপরিচারিকা রাগ করে বাসা থেকে তাঁর বাড়িতে চলে যায়।

পরে হামিদা আক্তার মেয়েটিকে আবার কাজ করার জন্য বাসায় নিয়ে যান। এরপর লম্পট লতিফ মিয়া আবারও তাকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে গৃহকর্তার স্ত্রী হামিদা আক্তার তাঁকে এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় একটি হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত করিয়ে বাসায় নিয়ে যান। বাসায় নিয়ে আসার পর মেয়েটিকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন তিনি।

এ ব্যাপারে গৃহপরিচারিকার বাবা রবিবার রাতে হোমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

হোমনা থানার ওসি (তদন্ত) স্বপন কুমার মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আমাদের জানানোর সঙ্গে সঙ্গে রাতেই মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণকারী লতিফ মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের দায়ে ও তাঁর স্ত্রী হামিদা আক্তারের বিরুদ্ধে ওই গৃহপরিচারিকার গর্ভপাত ঘটানোর দায়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের পর বাসায় তালা ঝুলিয়ে তাঁরা পালিয়ে গেছেন। মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের ধরার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply