মতলবের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প বাঁধের একাধিক জায়গায় ব্লক ধস : উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন

শামসুজ্জামান ডলার :–

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়ি বাঁধের মোহনপুর ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে ব্লক ধসে পড়েছে। এতে বাঁধ হুমকির মূখে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রচন্ড ঢেউয়ে বেড়ি বাঁধের মোহনপুর থেকে দশানী পর্যন্ত কয়েকটি জায়গায় ব্লক ধসে পড়েছে। আকংকিত হয়ে পড়েছে বেড়ি বাঁধ তীরবর্র্তী বাসিন্দারা। কোন কোন এলাকার অবস্থা এতই নাজুক যে, দ্রুত সংস্কার না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমের যে কোন সময় অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্র্ন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এ সময় হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল, মৎস্য খামার ভেসে যেতে পারে, হুমকির মুখে রয়েছে ঐসকল এলাকার অসংখ্য বসতবাড়িও। শুক্রবার ব্লক ধসের খবর পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ, পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী ইয়ার আলী, মতলব উত্তর উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক চৌধুরী বাবুল, উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প পানি ব্যবহারকারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার মোঃ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন।
মোহনপুর গ্রামের রফিক সরকার (৬০) জানান, কয়েকদিন ধরে মেঘনা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রচন্ড ঢেউয়ে বাঁধের কয়েকটি স্থানে ব্লক সরে গিয়ে বাঁদ ঝুঁকির মূখে পড়েছে। অচিরেই মেরামত না করলে বাঁধ ভেঙ্গে যেতে পারে।
রায়ফল বেপারী জানান, আমাদের এলাকার আতংকিত লোকজন রাতে নদী তীরবর্তী বাঁধ পাহারা দিচ্ছে। যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প পানি ব্যবহারকারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার মোঃ আলাউদ্দিন জানান, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ধসে পড়া এলাকা ঘুরে দেখেছি। জিও ব্যাগ দিয়ে বালি ফেলার জন্য বলা হয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ বলেন, প্রচন্ড ঢেউয়ে বেড়ি বাঁধের কয়েকটি স্থানে ধসেরস খবর পেয়ে সাথে সাথে পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। তিনি ধসে পড়া এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমকে বিষয়টি অবহিত করেছি। ব্লক ধসে পড়া রোধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, শুধু মোহনপুর এলাকা নয়, উপজেলা পুরো বেড়ি বাঁধ পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply