চাপিয়ে দেওয়া সম্প্রচার নীতিমালা কেউ মেনে নেবে না

ঢাকা:–

সরকারের পক্ষ থেকে যে সম্প্রচার নীতিমালা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা কেউ মেনে নেবে না। এধরনের নীতিমালার মাধ্যমে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতার ওপর আঘাত করা হয়েছে। কোন অবস্থায়ই এধরনের নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবেনা।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণমাধ্যমের সামনে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
দেশের সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেলসহ সকল গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারোয়ার।

আর এ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন, সম্পাদক পরিষদের সাধারন সম্পাদক ও ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এই নীতিমালা গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ করবে, গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্থ করবে। স্বাধীন গনমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে যেকোন দ্বন্ধে প্রাথমিকভাবে সরকার জিতলেও শেষ পর্যন্ত স্বাধীন গণমাধ্যমেরই জয় হয়। সরকারি প্রশাসনযন্ত্র, পুলিশ, গোয়েন্দা বাহিনীর ব্যবহার, অর্থের জোর ও পেশিশক্তির প্রয়োগ প্রভৃতির মাধ্যমে সরকার জয়ী হয়। কিন্তু জনগনের বাক স্বাধীনতা হরন করে কেউ বেশি সময় টিকতে পারেনা।

অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক শাইখ সিরাজ বলেন, এই সম্প্রচার নীতিমালার মাধ্যমে সরকার আমাদের হাত পা বেঁধে পানিতে ফেলে সাঁতার কাটতে বলেছে।
বিশিষ্ট আইনজীবি ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এ ধরনের একটি সম্প্রচার নীতিমালা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি দেশের সিনিয়র সাংবাদিকদেরকে আরেকটি নীতিমালা প্রস্তুত করার পরামর্শ প্রদান করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যে সম্প্রচার নীতিমালা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা কেউ মেনে নেবে না। আমরা আরো সমৃদ্ধ সম্প্রচার নীতিমালা চাই।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই সম্প্রচার নীতিমালা খুবই অপ্রত্যাশিত। এর মাধ্যমে কন্ঠরোধ করার চেষ্ঠা চলছে।
তিনি বলেন, এমনিতেই গণমাধ্যম নানা ধরনের নিয়ন্ত্রনের মধ্যে চলে। মালিকপক্ষের নিয়ন্ত্রন, বিজ্ঞাপনদাতাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রন ও সরকারের বিভিন্ন আইনকানুন দ্বারা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে চলে। এরমধ্যে আবার আমরা একটি নতুন নীতিমালার দ্বারা নিয়ন্ত্রনের চেষ্ঠা লক্ষ্য করছি। এটি মানুষের চিন্তার স্বাধীনতার ওপর আঘাত করছে। তাই এই নীতমালারে বিরুদ্ধে দেশের সকল সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নিউজ টুডের সম্পাদক মো: রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এ ধরনের নীতিমালা আগেও করার চেষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু সফল হয়নি। এবারও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রনের অপচেষ্ঠা সফল হবে না। আমরা এই নীতিমালকে প্রতিহত করবো।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সমকালের সম্পাদক গোলাম সরোয়ার বলেন, তথ্যমন্ত্রী বলেছেন এই্ নীতিমালা একটি গাইড লাইন মাত্র।

তিনি মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এতোসব না বলে সোজা বললেই পারেন যে, বিটিভি যেভাবে চলছে আপনারাও সেভাবেই চলুন। যোগ্যলোকদের দিয়ে নিজেদের মধ্যে একটি কমিশন গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, অপর অংশের সভাপতি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, বিশিষ্ট সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, জই মামুন, মুন্নী সাহাসহ দেশের সিনিয়র সাংবাদিকরা।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply