বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে রবি

ঢাকা :–

মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ করেছে। একই সময়ে অপারেটরটির মোবাইল ও ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ৩০ জুন, ২০১৪ পর্যন্ত ২০১৪ সালের প্রথমার্ধের ও একই সাথে দ্বিতীয় প্রান্তিকের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে আজ ২৭ আগস্ট, ২০১৪ ইং বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বছরের প্রথমার্ধে রবি’তে ১৭ লাখ গ্রাহক যোগ হয়েছে। এতে করে এখন রবি’র গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ। এটি দেশের মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।
গত বছর একই প্রান্তিকের তুলনায় এবার রাজস্ব বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি এবং ইন্টারনেট থেকে রাজস্ব উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে- যা পরিসংখ্যানে ১১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ৩.৫ জি ও ২.৫ জি ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বৃদ্ধির জন্য রবি’র নেটওয়ার্কে যথার্থ বিনিয়োগের ফলেই এ অগ্রগতি হয়েছে। গত বছর একই সময়ের তুলনায় ইবিআইটিডিএ (EBITDA)বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। তরঙ্গের জন্য বাড়তি বরাদ্দ ও দেশজুড়ে ৩.৫জি সেবা প্রসারিত করতে মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কর পরিশোধের পর মুনাফা (পিএটি) ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রবি’র প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুপুন বীরাসিংহে, ব্যবসায়িক ফলাফল উপস্থাপন করেন সিওও মাহতাবউদ্দিন আহমদ।
২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিক ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনামূলক বিশ্লেষণ:

২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে রবি’র গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩৯ লাখ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ। প্রতিযোগিতামূলক বাজার ও কোম্পানির নীতি অনুসারে গ্রাহক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মানের দিকে নজর দেয়ায় প্রাথমিকভাবে এই প্রান্তিকে রবি’র গ্রাহক বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে।
গ্রাহক বৃদ্ধির হার কম হলেও ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকের রাজস্ব বৃদ্ধি ৫ শতাংশ বেশি হয়েছে- যা টাকার হিসাবে ১২ দশমিক ৩ বিলিয়ন। এ প্রান্তিকে ৩.৫জি সেবার ফলে ইন্টারনেট পরিসেবা থেকে ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব অর্জিত হয়েছে; যা আশাব্যাঞ্জক। এই প্রান্তিকে গ্রাহকদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে রবি ৩.৫জি ও ২.৫ জি’র জন্য একই দাম নির্ধারণ করেছিল।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইবিআইটিডিএ (EBITDA)৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। বাজারে ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধি ও ৩.৫জি সেবা প্রদান, বিশেষ করে নেটওয়ার্ক স্থাপনের ব্যয়ের কারণে ইবিআইটিডিএ (EBITDA)বৃদ্ধির হার চাপের মুখে ছিল। ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে পিএটি স্পষ্টতই বৃদ্ধি পেয়েছে- ৮ দশমিক ৯ শতাংশ যার পরিমাণ ১১০ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক প্রান্তিকগুলোতে বিনিয়েগের ফলে অবচয় ও পাওনা পরিশোধের উচ্চ ব্যয় সত্ত্বেও এই প্রান্তিকে ইবিআইটিডিএ (EBITDA)বৃদ্ধি ও সুদের ব্যয় কম হওয়ায় পিএটি বৃদ্ধি পেয়েছে।

মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামোয় বিনিয়োগ:

রবি ৩.৫জি নেটওয়ার্ক প্রসারিত করতে এবং ভয়েস ও ইন্টারনেট উভয় ক্ষেত্রে গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে ২.৫জি নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। ভয়েসের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আকর্ষণীয় সেবা নিশ্চিত করতে এইচডি ভয়েস সেবা দিচ্ছে রবি। ২০১৪ সালের প্রথমার্ধের মোট বিনিয়োগ ৯৯০ কোটির মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকেই মূলধনী ব্যয়ে বিনিয়োগ হয়েছে ৪৯০ কোটি টাকা। এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব শহরেই রবি’র ৩.৫জি নেটওয়ার্ক রয়েছে। ২০১৪ সালের মধ্যে কমপক্ষে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে ৩.৫জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে রবি’র।

২০১৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের সাথে ২০১৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনামূলক বিশ্লেষণ:

২০১৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবি’র গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪ লাখ। গত ১২ মাসে তা বেড়ে ২ কোটি ৪০ লাখে দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ গ্রাহক বৃদ্ধির হার রেকর্ড পরিমাণ- ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। গ্রাহক-বান্ধব পণ্য ও সেবা প্রদান এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করে এতটা গ্রাহক বৃদ্ধি করতে পেরেছে রবি।
২০১৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবি’র রাজস্ব ছিল ১ হাজার ১০৬ কোটি, অন্যদিকে ২০১৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের রাজস্বের পরিমাণ ১ হাজার ২৩০ কোটি; অর্থাৎ, ৫ দশমকি ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে মূল্য নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে ভয়েস সেবা থেকে কোম্পানির রাজস্ব কমেছে; যা মোট রাজস্বের ৭৫ শতাংশ। ইন্টারনেট থেকে গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে রাজস্ব আয় বেড়েছে-১২২ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ব্যাপারটি গ্রাহকের মোবাইল ফোন ব্যবহার প্রবণতায় বৈচিত্রময় পরিবর্তন ও রবি নেটওয়ার্কের চাহিদাকে নির্দেশ করে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে ইবিআইটিডিএ (EBITDA)ও যথেষ্ট বেড়েছে, যা ১৫ শতাংশ; ২০১৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইবিআইটিডিএ (ঊইওঞউঅ) ছিল ৪২০ কোটি এবং ২০১৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪৯০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। কোম্পানি ব্যায়ের ক্ষেত্রে সচেতনতা মেনে চলার চেষ্টা করলেও ৩.৫জি নেটওয়ার্ক স্থাপনে ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভাল অবস্থান নিশ্চিত করতে ইবিআইটিডিএ (EBITDA)বৃদ্ধির হার স্থিতাবস্থায় রয়েছে।
২০১৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবি’র পিএটি হয়েছে ১১০ কোটি, ২০১৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ৩.৫জি সেবা প্রসারের জন্য থ্রিজি লাইসেন্স বরাদ্দ ও দেশব্যাপী দ্রুত নেটওয়ার্ক বিস্তারে বিশাল অঙ্কের মূলধনী ব্যয়ে বিনিয়োগের কারণে ইবিআইটিডিএ (EBITDA) বৃদ্ধির তুলনায় পিএটি বৃদ্ধির হার লক্ষ্যণীয়ভাবে কম হয়েছে। গত ১২ মাসে কোম্পানি ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে যার মধ্যে থ্রিজি লাইসেন্স বরাদ্দ ফি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৮৭০ কোটি টাকা।

বক্তব্য :

রবি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সুপুন বীরাসিংহে বলেন, “বছরের শুরু থেকে সব দিকেই রবির স্থিতিশীল অগ্রগতি হচ্ছে। দেশজুড়ে ৩.৫জি নেটওয়ার্ক স্থাপনে আমরা উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছি এবং নেটওয়ার্ক বিস্তৃতির জন্য বিনিয়োগের সাথে ইন্টারনেটের ব্যবহার ও রাজস্ব বৃদ্ধির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভয়েস থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং সিম প্রতিস্থাপনে নতুন করে করারোপের ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পুরো শিল্পের অগ্রগতিই মারাত্মকভাবে ব্যবহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপ ধীর হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে এই খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ নষ্ট হবে।”
রবির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “রবি দেশজুড়ে ইন্টারনেটের একক দাম নির্ধারণ করেছে যা ইন্টানেট ব্যবহারকে সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলেছে। সুপার দামাল সামাল প্যাকেজে এক রেটে কথা বলার সুযোগ রয়েছে এবং রবি স্টোর লোকেটরের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা গ্রহণের বিষয়টি সহজ করে তুলছে।”
এইচডি ভয়েস সম্পর্কে বলতে গিয়ে সিওও বলেন, “বাংলাদেশে প্রথম অপারেটর এবং গ্রাহকদের জন্য এইচডি ভয়েস সেবা প্রদানকারী বিশ্বের মাত্র কয়েকটি অপারেটরের মধ্যে রবি একটি। এইচডি ভয়েস সেবা উপভোগের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহারোপযোগী হ্যান্ডসেটের প্রয়োজন হয়। এটি আকর্ষণীয় এক প্রযুক্তি এবং এজন্য গ্রাহকের কথা মাথায় রেখে রবি নেটওয়ার্কের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।”

সরকারী কোষাগারে অবদান:

২০১৪ সালের প্রথমার্ধে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১ হাজার ২১০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে রবি যা কোম্পানির মোট রাজস্বের ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে রবি এ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। অন্যদিকে ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে অংশীদারদের দিয়েছে মাত্র ১৪০ কোটি। ২০০৬ সালের পর থেকে আর কোন ডিভিডেন্ট দেয়া হয়নি।
রবি সম্পর্কে:
রবি আজিয়াটা লিমিটেড আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ, মালয়েশিয়া ও জাপানের এনটিটি ডকোমো ইনকর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত। ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত, রবি রাজস্ব আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর। এর গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি। সারা দেশে ৯ হাজার ৪৫০টি টুজি নেটওয়ার্ক সাইট ও ১ হাজার ৪৩০টি থ্রিজি নেটওয়ার্ক সাইটের মাধ্যমে প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ রবি নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে। রবি ২০৭টি দেশে ৫০০ অপারেটরের সাথে চুক্তির মাধ্যমে ব্যাপক ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক রোমিং সেবা প্রদান করছে। দেশের প্রথম অপারেটর হিসেবে রবি জিপিআরএস ও ৩.৫জি সেবা চালু করেছে। রবি ডিজিটাল সেবা চালু করার দিক থেকে অনেক ক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা পালন এবং গ্রামীণ ও উপশহর অঞ্চলগুলোর সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য মোবাইল আর্থিক সেবা চালু করতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।

এক নজরে: বছরের প্রথম ভাগ

# বছরের প্রথমার্ধে ১৭ লাখ নতুন গ্রাহক
# রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ
# বছরের প্রথমার্ধে ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ মার্জিনসহ ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ ইবিআইটিডিএ বৃদ্ধি
# উচ্চ বিনিয়োগের কারণে পিএটি ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে
# রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা ১ হাজার ২১০ কোটি

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply